ঢাকা ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ Logo হৃদরোগ নাকি বিষাক্ত মদ? লাখাইয়ে ৬ জনের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য Logo হবিগঞ্জে ৫৫ বিজিবির পৃথক অভিযানে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ Logo বাহুবলে ইউএনও উজ্জ্বল রায়ের মোবাইল কোর্ট: মাদকবিরোধী অভিযানে দুইজনের কারাদণ্ড Logo বাহুবলে পূর্ব জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তদন্তে গড়িমসি, প্রশ্নের মুখে শিক্ষা বিভাগ Logo নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন থেকে ছিনতাইকৃত ২ মোবাইল উদ্ধার, আটক ২ Logo মাধবপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফল ৬ আগস্ট Logo হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি Logo হবিগঞ্জ ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে এনসিপির মামলা Logo লাখাইয়ে সরকারি বই পাচার মামলার সুরাহা কবে? দুদকের ধীরগতিতে জনমনে চরম ক্ষোভ

ভোগান্তির আরেক নাম জন্ম নিবন্ধন, টাকা দিলেই ম্যানেজ

জন্ম নিবন্ধন একটি মৌলিক নাগরিক অধিকার হলেও বাস্তবে এই সেবা পেতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ডিজিটাল পদ্ধতি চালু থাকলেও মাঠপর্যায়ে জন্ম নিবন্ধন এখনো হয়রানি, দালাল ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কখনো প্রয়োজনীয় আবার কখনো ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে জন্ম নিবন্ধন করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালদের যোগসাজশে উভয় ক্ষেত্রেই গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। এতে একদিকে নাগরিক ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৩-এ জন্ম নিবন্ধন সেবার তথ্য জানতে গেলে অফিস সহকারী জামাল আবেদনকারীদের নাস্তার কক্ষে নিয়ে যান। তিন দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি মুঠোফোনে পরিচয় করিয়ে দেন মিথুন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। সরাসরি কথা হলে মিথুন জানান, জন্মস্থান ও স্থায়ী ঠিকানা ছাড়াই ঢাকা থেকে জন্ম নিবন্ধন করা সম্ভব, বিনিময়ে দিতে হবে আড়াই হাজার টাকা। অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি সিটি করপোরেশনের কেউ নন, বরং একজন দালাল।

এমন চিত্র শুধু একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়। রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ সারাদেশে একই অবস্থা বিরাজ করছে। সেবাপ্রত্যাশীরা অভিযোগ করেছেন, কখনো সার্ভার সমস্যার অজুহাত, কখনো অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে দিনের পর দিন ঘোরানো হয়। তবে টাকা দিলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়।

মুন্সিগঞ্জ, গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষেত্রে অফিসের ভুল সংশোধন করতে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হয়ে অভিভাবকত্ব প্রমাণ করতে হয়।

সরকার হয়রানি কমাতে জন্ম নিবন্ধন সেবা ডিজিটাল করলেও বাস্তবে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া জটিল এবং অফিসে গেলে নতুন বিড়ম্বনার শুরু হয়। নিয়মবহির্ভূত কাগজপত্র দিতে না পারলে মাসের পর মাস ফাইল আটকে রাখা হয়। বাধ্য হয়ে অনেকেই দালালের শরণাপন্ন হন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, অনিয়মের অভিযোগে কয়েকজনকে শোকজ করা হয়েছে এবং হিউম্যান ইন্টার‍্যাকশন কমানো গেলে ভোগান্তিও কমবে।

জন্ম নিবন্ধন ছাড়া শিক্ষা, চিকিৎসা, পাসপোর্টসহ প্রায় সব নাগরিক সেবা বাধাগ্রস্ত হয়। তাই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকর মনিটরিং নিশ্চিত না হলে জন্ম নিবন্ধন ঘিরে অনিয়ম আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ

error:

ভোগান্তির আরেক নাম জন্ম নিবন্ধন, টাকা দিলেই ম্যানেজ

আপডেট সময় ০৩:২১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

জন্ম নিবন্ধন একটি মৌলিক নাগরিক অধিকার হলেও বাস্তবে এই সেবা পেতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ডিজিটাল পদ্ধতি চালু থাকলেও মাঠপর্যায়ে জন্ম নিবন্ধন এখনো হয়রানি, দালাল ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কখনো প্রয়োজনীয় আবার কখনো ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে জন্ম নিবন্ধন করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালদের যোগসাজশে উভয় ক্ষেত্রেই গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। এতে একদিকে নাগরিক ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৩-এ জন্ম নিবন্ধন সেবার তথ্য জানতে গেলে অফিস সহকারী জামাল আবেদনকারীদের নাস্তার কক্ষে নিয়ে যান। তিন দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি মুঠোফোনে পরিচয় করিয়ে দেন মিথুন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। সরাসরি কথা হলে মিথুন জানান, জন্মস্থান ও স্থায়ী ঠিকানা ছাড়াই ঢাকা থেকে জন্ম নিবন্ধন করা সম্ভব, বিনিময়ে দিতে হবে আড়াই হাজার টাকা। অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি সিটি করপোরেশনের কেউ নন, বরং একজন দালাল।

এমন চিত্র শুধু একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়। রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ সারাদেশে একই অবস্থা বিরাজ করছে। সেবাপ্রত্যাশীরা অভিযোগ করেছেন, কখনো সার্ভার সমস্যার অজুহাত, কখনো অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে দিনের পর দিন ঘোরানো হয়। তবে টাকা দিলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়।

মুন্সিগঞ্জ, গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষেত্রে অফিসের ভুল সংশোধন করতে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হয়ে অভিভাবকত্ব প্রমাণ করতে হয়।

সরকার হয়রানি কমাতে জন্ম নিবন্ধন সেবা ডিজিটাল করলেও বাস্তবে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া জটিল এবং অফিসে গেলে নতুন বিড়ম্বনার শুরু হয়। নিয়মবহির্ভূত কাগজপত্র দিতে না পারলে মাসের পর মাস ফাইল আটকে রাখা হয়। বাধ্য হয়ে অনেকেই দালালের শরণাপন্ন হন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, অনিয়মের অভিযোগে কয়েকজনকে শোকজ করা হয়েছে এবং হিউম্যান ইন্টার‍্যাকশন কমানো গেলে ভোগান্তিও কমবে।

জন্ম নিবন্ধন ছাড়া শিক্ষা, চিকিৎসা, পাসপোর্টসহ প্রায় সব নাগরিক সেবা বাধাগ্রস্ত হয়। তাই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকর মনিটরিং নিশ্চিত না হলে জন্ম নিবন্ধন ঘিরে অনিয়ম আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।