
বাংলার খবর ডেস্ক হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনে জোটগত সিদ্ধান্তের কারণে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতা-কর্মী ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি ও তৃণমূলের প্রত্যাশা উপেক্ষা করে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থী পরিবর্তন হওয়ায় দলটির ভেতরে স্পষ্ট হতাশা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই আসনে জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় নেতৃত্বের অধীনে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। বিশেষ করে অলিউল্লাহ নোমানকে কেন্দ্র করে কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে একটি স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ ও আশাবাদ তৈরি হয়েছিল। তাকে একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষ, শিক্ষিত ও আধুনিক চিন্তাধারার প্রতিনিধি হিসেবে দেখা হচ্ছিল। ফলে তার মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে নির্বাচনী লড়াইয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি হবে বলে বিশ্বাস করছিলেন অনেকে।
তবে জোটের সিদ্ধান্তে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল কাদির বাচ্চুকে প্রার্থী করায় সেই প্রত্যাশায় ভাটা পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে পরিচিত হলেও মাধবপুর ও চুনারুঘাট এলাকার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা, সামাজিক সংকট কিংবা স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে তেমন সক্রিয় নন। এতে কর্মীদের মাঠে নামার আগ্রহ কমে গেছে এবং ভোটারদের মধ্যেও অনীহা তৈরি হয়েছে।
ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, যে প্রার্থী এলাকাবাসীর পরিচিত নন এবং নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন না, তাকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। এর ফলে অনেক ভোটার হয়তো ভোটকেন্দ্রে যাবেন না, অথবা বিকল্প প্রার্থী কিংবা অন্য রাজনৈতিক শক্তির দিকে ঝুঁকতে পারেন। অতীতের নির্বাচনে এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতি জনসমর্থনের উদাহরণও আলোচনায় আসছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের একটি স্থায়ী ভোটব্যাংক থাকলেও প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা কম হলে সেই ভোট ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। জোটের ঐক্য রক্ষার জন্য ‘উইনেবল’ প্রার্থী বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদে জোটকে এক রাখলেও দীর্ঘমেয়াদে দলের সাংগঠনিক শক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অনেক কর্মীর মতে, অলিউল্লাহ নোমান ছিলেন এই আসনের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, সাংবাদিকতা পেশার অভিজ্ঞতা, আধুনিক যোগাযোগ দক্ষতা এবং নতুনত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিতি তরুণ ও সচেতন ভোটারদের আকৃষ্ট করেছিল। তার নাম ঘোষণার পর মাঠপর্যায়ে যে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান প্রার্থীর ক্ষেত্রে তা দেখা যাচ্ছে না।
সার্বিকভাবে স্থানীয় রাজনীতিতে যে বার্তাটি স্পষ্ট হয়ে উঠছে তা হলো— তৃণমূলের সেন্টিমেন্ট ও বাস্তবতা উপেক্ষা করে শুধু জোটের সমীকরণে প্রার্থী নির্ধারণ করলে তার প্রভাব সরাসরি নির্বাচনী ফলে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে হবিগঞ্জ-৪ আসনটি জামায়াত জোটের হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলার খবর ডেস্ক : 




















