ঢাকা ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লাখাইয়ে ১ম শ্রেণির ৬ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, গণধোলাইয়ের পর বখাটে পুলিশে সোপর্দ Logo লাখাইয়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবককে ঢিল ছোড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, পিতা-পুত্রসহ আহত একাধিক Logo লাখাইয়ে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা সুচিত্রা রানী দাশের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি Logo ৭২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, মাধবপুরে পুলিশের অভিযান Logo গায়ক আসিফ আকবর গ্রেফতার Logo স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে এমপি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সলের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo সীমান্তে অব্যাহত বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, কঠোর অবস্থানে বিজিবি Logo মাধবপুরে সুরমা চা বাগান থেকে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার Logo মাধবপুরে চুরির অভিযোগে যুবকের মাথা ন্যাড়া, আঁকা হলো আর্জেন্টিনার পতাকা Logo চুনারুঘাটে বসতঘর থেকে প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ

দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট

দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি প্রয়োজন নেই—এমন গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। মুসলিম পারিবারিক আইন সংশ্লিষ্ট একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন।

রায়ে আদালত বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির বিষয়টি স্ত্রী নয়, বরং সংশ্লিষ্ট আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল। মুসলিম পারিবারিক আইনে সরাসরি কোথাও স্ত্রীর অনুমতিকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন আদালত।

আদালতের দেওয়া ২৪ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী আরবিট্রেশন কাউন্সিলই সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ। ফলে স্ত্রী অনুমতি বাধ্যতামূলক করার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।

এর আগে প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা আইনত দণ্ডনীয় বলে বিবেচিত হতো। তবে আদালতের মতে, এই ব্যাখ্যা মুসলিম পারিবারিক আইনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

উল্লেখ্য, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ের জন্য সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। পরে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন চালুর মাধ্যমে পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান শিথিল করে বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির আওতায় আনা হয়। অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে এক বছর কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

এদিকে এই রায়ের বিরুদ্ধে রিটকারীরা আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু বিবাহের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে এবং নারীদের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, আর্থিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে একাধিক বিয়ের সুযোগ অপব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে। এতে পারিবারিক অস্থিরতা ও সামাজিক বৈষম্য বাড়তে পারে। তাই বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপিল বিভাগে এই মামলা গেলে তা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করবে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাইয়ে ১ম শ্রেণির ৬ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, গণধোলাইয়ের পর বখাটে পুলিশে সোপর্দ

দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট

আপডেট সময় ০৫:৪৯:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি প্রয়োজন নেই—এমন গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। মুসলিম পারিবারিক আইন সংশ্লিষ্ট একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন।

রায়ে আদালত বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির বিষয়টি স্ত্রী নয়, বরং সংশ্লিষ্ট আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল। মুসলিম পারিবারিক আইনে সরাসরি কোথাও স্ত্রীর অনুমতিকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন আদালত।

আদালতের দেওয়া ২৪ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী আরবিট্রেশন কাউন্সিলই সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ। ফলে স্ত্রী অনুমতি বাধ্যতামূলক করার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।

এর আগে প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা আইনত দণ্ডনীয় বলে বিবেচিত হতো। তবে আদালতের মতে, এই ব্যাখ্যা মুসলিম পারিবারিক আইনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

উল্লেখ্য, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ের জন্য সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। পরে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন চালুর মাধ্যমে পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান শিথিল করে বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির আওতায় আনা হয়। অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে এক বছর কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

এদিকে এই রায়ের বিরুদ্ধে রিটকারীরা আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু বিবাহের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে এবং নারীদের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, আর্থিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে একাধিক বিয়ের সুযোগ অপব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে। এতে পারিবারিক অস্থিরতা ও সামাজিক বৈষম্য বাড়তে পারে। তাই বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপিল বিভাগে এই মামলা গেলে তা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করবে।