
পবিত্র কোরআনের সুরা অবমাননার মামলার পর এবার হত্যা মামলার আসামি হয়েছেন আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর দম্পতি ইব্রাহিম মিয়া ও তার স্ত্রী মোছা. মুক্তা আক্তার। তারা দুজনই টিকটক কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে এলাকায় পরিচিত। সর্বশেষ গৃহবধূ ফাহিমা আক্তার হত্যা মামলায় তাদের নাম এজাহারভুক্ত হওয়ায় জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে টিকটক ভিডিও তৈরির সময় পবিত্র কোরআনের সুরা ফাতেহা অবমাননার অভিযোগ ওঠে ইব্রাহিম ও মুক্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সেলিম আহমেদ একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে তারা হাইকোর্টে জামিন আবেদন করলে তা প্রত্যাখ্যাত হয়।
অভিযোগ রয়েছে, গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও তারা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন এবং নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকটক কনটেন্ট প্রকাশ করছেন। তবে রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এরই মধ্যে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। চুনারুঘাট উপজেলার ইকরতলী গ্রামের গৃহবধূ ফাহিমা আক্তার হত্যা মামলায় তাদের আসামি করা হয়েছে। হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি–২ আদালতে দায়ের করা মামলায় নিহতের পিতা মো. নুরুল হক অভিযোগ করেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৫ জানুয়ারি বিকেলে চুনারুঘাট উপজেলার ইকরতলী গ্রামে মো. পণ্ডিত মিয়ার বসতঘরে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। নিহত ফাহিমা আক্তার ছিলেন মো. সুজন মিয়ার স্ত্রী। অভিযোগে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের সময় একাধিক আসামি ফাহিমাকে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর উদ্দেশ্যে তার লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, টিকটক কনটেন্ট তৈরিতে বাধ্য করা এবং দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ফাহিমা আক্তারের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছিল। ঘটনার সময় নিহতের সাত বছর বয়সী ছেলে জিহাদ মিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এবং পুরো ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এই ঘটনায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৪৩, ৩২৩, ৩০২, ২০১, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
একদিকে কোরআন অবমাননার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা, অন্যদিকে হত্যা মামলার মতো গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে চলাফেরা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
বাংলার খবর ডেস্ক : 


























