ঢাকা ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুর পৌরসভাকে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন করতে চান মেয়র পদপ্রার্থী হাজী সোলেমান Logo কবর থেকে সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ আদালতের Logo পুলিশ হত্যা করেছি বলে আলোচিত মাহাদী হাসান এবার আশ্রয় নিলেন থানায় Logo মাধবপুরে ড্রাম ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২ Logo লাখাইয়ে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে যুবককে গণধোলাই, পুলিশে সোপর্দ Logo লাখাইয়ে পাওনা টাকা চাওয়ায় গৃহবধূর ওপর হামলা ও লাখ টাকা লুটের অভিযোগ Logo ধর্মঘর ইউনিয়নে গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে র‌্যালি ও বার্ষিক ক্যাম্পেইন Logo মাধবপুরে প্রাইম ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং ধর্মঘর বাজার আউটলেট উদ্বোধন Logo সিলেট-৫ ও ঢাকা-১১ আসনের দায়িত্বে শাম্মী আক্তার Logo এমপির নির্দেশে সচল হচ্ছে জগদীশপুর-ছাতিয়াইন সড়ক

দেশনেত্রী গণতন্ত্রের জন্য আপোষহীন সংগ্রাম করেছেন: হবিগঞ্জে বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ মোঃ ফয়সল

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জ–৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জননেতা সৈয়দ মোঃ ফয়সল বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই দেশের গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্য আপোষহীন সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি শুধু বিএনপির নয়—বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের আশা–আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।

রোববার বিকেলে মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্য দিতে দাঁড়িয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, “স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দৃঢ় হাতে বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। অসীম ধৈর্য, সাহস ও প্রজ্ঞা দিয়ে তিনি বিএনপিকে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেছেন।”

ফয়সল আরও বলেন, “এরশাদবিরোধী গণআন্দোলনে দেশনেত্রী নির্ভীক নেতৃত্ব দিয়েছেন। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তিনি রাজপথে থেকেছেন, জেল–জুলুম–নির্যাতন সয়ে নিয়েছেন। ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় গিয়ে মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যার সুফল আজও লাখো পরিবার ভোগ করছে।”

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশনেত্রীর ওপর হওয়া নির্যাতন স্মরণ করে তিনি বলেন, “তার বাড়ি দখল করা হয়েছে, মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং দীর্ঘদিন অন্যায়ভাবে কারাবন্দী রাখা হয়েছে। কিন্তু কখনও তিনি জনগণের সঙ্গে বেঈমানি করেননি, কারও সঙ্গে আপোষ করেননি। তিনি ছিলেন—আর আছেন—গণতন্ত্রের সবচেয়ে দৃঢ় প্রতীক।”

ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ম্যাডাম আমাকে অনেক বিশ্বাস করতেন, স্নেহ করতেন। ১৯৯১ সালে তিনি আমাকে মায়া করে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। সিলেট যাওয়ার পথে অন্তত চারবার আমাদের বাড়িতে এসেছেন। আজ সে স্মৃতিগুলো মনে পড়ে আরও ব্যথিত হই। ম্যাডাম আজ হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায়। আমরা সবাই তাঁর রোগমুক্তির জন্য দোয়া করছি।”

তিনি আরও বলেন, “দেশনেত্রীর অনুমতিতেই আমরা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রথমবার ধর্মঘর ও মাধবপুরে এনে বড় সভা করেছিলাম। আজও ম্যাডাম ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমাকে বিশ্বাস করে মনোনয়ন দিয়েছেন। তাই আপনাদের কাছে ধানের শীষে ভোট চাই—দলের মর্যাদা রক্ষার জন্য, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য।”

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন শিল্পপতি ও শিক্ষানুরাগী প্রকৌশলী সৈয়দ ঈশতিয়াক আহমেদ। তিনি বলেন, “দেশনেত্রীর নেতৃত্ব বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে অনন্য। তাঁর অসুস্থতা আজ শুধু দলের নয়—পুরো দেশের মানুষের হৃদয়কে ব্যথিত করেছে।”

জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি সৈয়দ মোঃ শাহজাহান বলেন, “গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হলে বিএনপির বিজয় প্রয়োজন। ফয়সল সাহেব মানবিক, পরিচ্ছন্ন ও ত্যাগী রাজনীতিবিদ—তাঁর বিজয় মানে মানুষের বিজয়।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মঘর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি বজলুর রহমান ভূইয়া, এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবিদুর রহমান মাস্টার। বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি শামসুল ইসলাম কামাল, সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান হামদু, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান সোহাগ, পৌর বিএনপি সভাপতি গোলাপ খান, সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আল রনি, যুবদল সভাপতি এনায়েতউল্লাহ, বিএনপি নেতা সাদেক মিয়া, যুবদল নেতা জমশেদ মিয়াসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

সভা শেষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুর পৌরসভাকে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন করতে চান মেয়র পদপ্রার্থী হাজী সোলেমান

দেশনেত্রী গণতন্ত্রের জন্য আপোষহীন সংগ্রাম করেছেন: হবিগঞ্জে বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ মোঃ ফয়সল

আপডেট সময় ০৭:৪৩:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জ–৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জননেতা সৈয়দ মোঃ ফয়সল বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই দেশের গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্য আপোষহীন সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি শুধু বিএনপির নয়—বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের আশা–আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।

রোববার বিকেলে মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্য দিতে দাঁড়িয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, “স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দৃঢ় হাতে বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। অসীম ধৈর্য, সাহস ও প্রজ্ঞা দিয়ে তিনি বিএনপিকে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেছেন।”

ফয়সল আরও বলেন, “এরশাদবিরোধী গণআন্দোলনে দেশনেত্রী নির্ভীক নেতৃত্ব দিয়েছেন। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তিনি রাজপথে থেকেছেন, জেল–জুলুম–নির্যাতন সয়ে নিয়েছেন। ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় গিয়ে মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যার সুফল আজও লাখো পরিবার ভোগ করছে।”

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশনেত্রীর ওপর হওয়া নির্যাতন স্মরণ করে তিনি বলেন, “তার বাড়ি দখল করা হয়েছে, মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং দীর্ঘদিন অন্যায়ভাবে কারাবন্দী রাখা হয়েছে। কিন্তু কখনও তিনি জনগণের সঙ্গে বেঈমানি করেননি, কারও সঙ্গে আপোষ করেননি। তিনি ছিলেন—আর আছেন—গণতন্ত্রের সবচেয়ে দৃঢ় প্রতীক।”

ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ম্যাডাম আমাকে অনেক বিশ্বাস করতেন, স্নেহ করতেন। ১৯৯১ সালে তিনি আমাকে মায়া করে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। সিলেট যাওয়ার পথে অন্তত চারবার আমাদের বাড়িতে এসেছেন। আজ সে স্মৃতিগুলো মনে পড়ে আরও ব্যথিত হই। ম্যাডাম আজ হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায়। আমরা সবাই তাঁর রোগমুক্তির জন্য দোয়া করছি।”

তিনি আরও বলেন, “দেশনেত্রীর অনুমতিতেই আমরা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রথমবার ধর্মঘর ও মাধবপুরে এনে বড় সভা করেছিলাম। আজও ম্যাডাম ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমাকে বিশ্বাস করে মনোনয়ন দিয়েছেন। তাই আপনাদের কাছে ধানের শীষে ভোট চাই—দলের মর্যাদা রক্ষার জন্য, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য।”

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন শিল্পপতি ও শিক্ষানুরাগী প্রকৌশলী সৈয়দ ঈশতিয়াক আহমেদ। তিনি বলেন, “দেশনেত্রীর নেতৃত্ব বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে অনন্য। তাঁর অসুস্থতা আজ শুধু দলের নয়—পুরো দেশের মানুষের হৃদয়কে ব্যথিত করেছে।”

জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি সৈয়দ মোঃ শাহজাহান বলেন, “গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হলে বিএনপির বিজয় প্রয়োজন। ফয়সল সাহেব মানবিক, পরিচ্ছন্ন ও ত্যাগী রাজনীতিবিদ—তাঁর বিজয় মানে মানুষের বিজয়।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মঘর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি বজলুর রহমান ভূইয়া, এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবিদুর রহমান মাস্টার। বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি শামসুল ইসলাম কামাল, সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান হামদু, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান সোহাগ, পৌর বিএনপি সভাপতি গোলাপ খান, সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আল রনি, যুবদল সভাপতি এনায়েতউল্লাহ, বিএনপি নেতা সাদেক মিয়া, যুবদল নেতা জমশেদ মিয়াসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

সভা শেষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।