
আ: বাছিত খান,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের শস্য ভান্ডারখ্যাত হাওর কাউয়াদীঘি অধ্যুষিত রাজনগরে আমন ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে ফুটেছে আনন্দের হাসি। বিগত ২০২২ ও ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাজনগরের কৃষকরা এবার নতুন আশায় মাঠে নেমেছেন।
রাজনগর কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ১১ হাজার ৬শ ৫৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫৮৮ হেক্টর বেশি। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৯৮২ মেট্রিক টন চাল, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৩৯ কোটি ৯২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
কৃষি বিভাগ জানায়, বিগত দুই বছরের বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভারত থেকে নেমে আসা পানির কারণে রাজনগরের উজান ও হাওরের ফসল নষ্ট হয়েছিল। তবে এবার অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো সরকারি উদ্যোগের ফলে আমন আবাদ সফল হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৩ সালে জেলার বৃহত্তম কাউয়াদীঘি হাওরে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য ১২শ কিউসেক ক্ষমতা সম্পন্ন ৮টি পাম্প বিশিষ্ট কাশিমপুর পাম্প হাউস নির্মাণ করা হয়। এবার সময়মতো পাম্প পরিচালনা ও পানি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ায় ফসল পানিতে তলিয়ে যায়নি।
স্থানীয় কৃষক লনি মিয়া বলেন, “প্রতি বছর বন্যার ভয়ে চিন্তায় থাকি। কিন্তু এবার সরকারের সময়মতো উদ্যোগের কারণে ভালো ফসল পেয়েছি। মুখে হাসি ফুটেছে।”
একইভাবে কাশিমপুর গ্রামের মোশাহিদ মিয়া, আব্দুল্লাহপুর গ্রামের গনি মিয়া ও ভানুর মহলের সুজন মিয়াও জানান, এমন ফলন তাঁরা অনেক বছর দেখেননি।
রাজনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল আমীন বলেন, “অনুকূল আবহাওয়া ও সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপে এবার আমন ফসল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি হয়েছে। কৃষকদের চোখেমুখে আনন্দের ছায়া।”
বাংলার খবর ডেস্ক : 


























