ঢাকা ০২:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুরে ১০৪ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার, পলাতক ৩ Logo সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক বন্ধ এনআইডি সার্ভার Logo লাখাইয়ে তারেক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সায়েল মিয়া গ্রেপ্তার Logo নাসিরনগরের ফান্দাউকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মালেক শাহকে ঘিরে আলোচনা Logo হাইমচরে পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল Logo হাইমচরে মেম্বার প্রার্থী আবদুর রহমান পাটওয়ারীর উঠান বৈঠক Logo মনতলা কলেজে মাহবুব স্যারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল Logo এলপি গ্যাসের দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর দাবি, বৃহস্পতিবার বিইআরসির গণশুনানি Logo লাখাইয়ে কীটনাশক দিয়ে সাড়ে ৪ কানি টমেটো ক্ষেত নষ্টের অভিযোগ, ক্ষতির মুখে কৃষক-শ্রমিক Logo পুষ্পমাল্য, সম্মাননা ও উপহারে সজ্জিত গাড়িতে বাড়ি ফিরলেন শিক্ষক তহুরা বেগম

প্রজ্ঞাপন জারি, নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না যারা

বাংলার খবর ডেস্ক :

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) করা মামলায় যাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, তারা আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। পাশাপাশি সরকারি কোনো পদেও দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না—আইন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা নতুন প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত সোমবার (৬ অক্টোবর) জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর সংশোধনের মাধ্যমে এই বিধান কার্যকর হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অধ্যাদেশ জারি করে আইনে নতুন ২০(গ) ধারা সংযোজন করেছেন, যা সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়েছে।

নতুন ধারা অনুযায়ী, আইনের ৯(১) ধারার অধীনে আইসিটিতে যাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয়েছে, তারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়া বা সরকারি দায়িত্ব পালনে অযোগ্য বলে গণ্য হবেন। একইভাবে স্থানীয় সরকার সংস্থার সদস্য, চেয়ারম্যান, মেয়র বা প্রশাসক হিসেবেও তারা নির্বাচনে অংশ নিতে বা নিয়োগ পেতে পারবেন না।

তবে কেউ যদি পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনাল থেকে অব্যাহতি পান বা খালাসপ্রাপ্ত হন, তাহলে তার ওপর থেকে অযোগ্যতা তুলে নেওয়া হবে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল, হাসানুল হক ইনু, মাহবুব উল আলম হানিফ, সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সাবেক কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাদরুদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী ও কুষ্টিয়া সিটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।

এ ছাড়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক রংপুর মেট্রোপলিটন কমিশনার মো. মুনিরুজ্জামান এবং সাবেক ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ আরও অনেকে অভিযুক্ত হয়েছেন।

আইসিটির প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেছেন, “বর্তমান সময়ের প্রয়োজনেই এই সংশোধন আনা হয়েছে। দেশ এখন বিপ্লবোত্তর পরিস্থিতিতে পুনর্গঠনের পথে।”

তবে এই সংশোধনের সমালোচনা করে বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, “এটি ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিকে লঙ্ঘন করে। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত একজন ব্যক্তি নির্দোষ—এ নীতি এখানে উপেক্ষিত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “যদি অভিযুক্ত হওয়ামাত্রই কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, তাহলে এটি বিচার ছাড়াই শাস্তি দেওয়ার শামিল।”

প্রসঙ্গত, এখন পর্যন্ত জুলাই বিদ্রোহ-পরবর্তী মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি মামলায় মোট ৬৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুরে ১০৪ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার, পলাতক ৩

error:

প্রজ্ঞাপন জারি, নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না যারা

আপডেট সময় ০৫:২৬:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

বাংলার খবর ডেস্ক :

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) করা মামলায় যাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, তারা আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। পাশাপাশি সরকারি কোনো পদেও দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না—আইন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা নতুন প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত সোমবার (৬ অক্টোবর) জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর সংশোধনের মাধ্যমে এই বিধান কার্যকর হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অধ্যাদেশ জারি করে আইনে নতুন ২০(গ) ধারা সংযোজন করেছেন, যা সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়েছে।

নতুন ধারা অনুযায়ী, আইনের ৯(১) ধারার অধীনে আইসিটিতে যাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয়েছে, তারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়া বা সরকারি দায়িত্ব পালনে অযোগ্য বলে গণ্য হবেন। একইভাবে স্থানীয় সরকার সংস্থার সদস্য, চেয়ারম্যান, মেয়র বা প্রশাসক হিসেবেও তারা নির্বাচনে অংশ নিতে বা নিয়োগ পেতে পারবেন না।

তবে কেউ যদি পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনাল থেকে অব্যাহতি পান বা খালাসপ্রাপ্ত হন, তাহলে তার ওপর থেকে অযোগ্যতা তুলে নেওয়া হবে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল, হাসানুল হক ইনু, মাহবুব উল আলম হানিফ, সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সাবেক কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাদরুদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী ও কুষ্টিয়া সিটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।

এ ছাড়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক রংপুর মেট্রোপলিটন কমিশনার মো. মুনিরুজ্জামান এবং সাবেক ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ আরও অনেকে অভিযুক্ত হয়েছেন।

আইসিটির প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেছেন, “বর্তমান সময়ের প্রয়োজনেই এই সংশোধন আনা হয়েছে। দেশ এখন বিপ্লবোত্তর পরিস্থিতিতে পুনর্গঠনের পথে।”

তবে এই সংশোধনের সমালোচনা করে বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, “এটি ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিকে লঙ্ঘন করে। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত একজন ব্যক্তি নির্দোষ—এ নীতি এখানে উপেক্ষিত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “যদি অভিযুক্ত হওয়ামাত্রই কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, তাহলে এটি বিচার ছাড়াই শাস্তি দেওয়ার শামিল।”

প্রসঙ্গত, এখন পর্যন্ত জুলাই বিদ্রোহ-পরবর্তী মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি মামলায় মোট ৬৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয়েছে।