ঢাকা ০১:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo প্রেমিকের সহায়তায় শাশুড়িকে হত্যা, আদালতে দায় স্বীকার গৃহবধূর Logo মাধবপুরে নেশাগ্রস্ত ছেলের অত্যাচারে পিতা বাড়িছাড়া, ইউএনওর কাছে অভিযোগ Logo বামৈ গ্রামে সীমানা বিরোধের জেরে বৃদ্ধার মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া Logo ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মাধবপুরে বাসের ধাক্কায় পথচারী নারী নিহত Logo চেয়ারম্যানের এক মুখে দুই বক্তব্য—কোনটি সঠিক? Logo পূর্ব ইটাখোলায় ক্বারিয়ানা সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত Logo প্রধানমন্ত্রীর ২৮ দিনের ২৮ পদক্ষেপ, অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ: মাহদী আমিন Logo ঈদের আগে উপজেলা, পরে পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ Logo মানবতার সেবায় ‘সিলেট কমিউনিটি ইন সাউথ কোরিয়া’: মৌলভীবাজারে ঈদ সামগ্রী বিতরণ Logo মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন মোঃ সোহেল রানা

প্রজ্ঞাপন জারি, নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না যারা

বাংলার খবর ডেস্ক :

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) করা মামলায় যাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, তারা আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। পাশাপাশি সরকারি কোনো পদেও দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না—আইন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা নতুন প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত সোমবার (৬ অক্টোবর) জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর সংশোধনের মাধ্যমে এই বিধান কার্যকর হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অধ্যাদেশ জারি করে আইনে নতুন ২০(গ) ধারা সংযোজন করেছেন, যা সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়েছে।

নতুন ধারা অনুযায়ী, আইনের ৯(১) ধারার অধীনে আইসিটিতে যাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয়েছে, তারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়া বা সরকারি দায়িত্ব পালনে অযোগ্য বলে গণ্য হবেন। একইভাবে স্থানীয় সরকার সংস্থার সদস্য, চেয়ারম্যান, মেয়র বা প্রশাসক হিসেবেও তারা নির্বাচনে অংশ নিতে বা নিয়োগ পেতে পারবেন না।

তবে কেউ যদি পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনাল থেকে অব্যাহতি পান বা খালাসপ্রাপ্ত হন, তাহলে তার ওপর থেকে অযোগ্যতা তুলে নেওয়া হবে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল, হাসানুল হক ইনু, মাহবুব উল আলম হানিফ, সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সাবেক কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাদরুদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী ও কুষ্টিয়া সিটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।

এ ছাড়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক রংপুর মেট্রোপলিটন কমিশনার মো. মুনিরুজ্জামান এবং সাবেক ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ আরও অনেকে অভিযুক্ত হয়েছেন।

আইসিটির প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেছেন, “বর্তমান সময়ের প্রয়োজনেই এই সংশোধন আনা হয়েছে। দেশ এখন বিপ্লবোত্তর পরিস্থিতিতে পুনর্গঠনের পথে।”

তবে এই সংশোধনের সমালোচনা করে বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, “এটি ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিকে লঙ্ঘন করে। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত একজন ব্যক্তি নির্দোষ—এ নীতি এখানে উপেক্ষিত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “যদি অভিযুক্ত হওয়ামাত্রই কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, তাহলে এটি বিচার ছাড়াই শাস্তি দেওয়ার শামিল।”

প্রসঙ্গত, এখন পর্যন্ত জুলাই বিদ্রোহ-পরবর্তী মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি মামলায় মোট ৬৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমিকের সহায়তায় শাশুড়িকে হত্যা, আদালতে দায় স্বীকার গৃহবধূর

error:

প্রজ্ঞাপন জারি, নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না যারা

আপডেট সময় ০৫:২৬:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

বাংলার খবর ডেস্ক :

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) করা মামলায় যাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, তারা আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। পাশাপাশি সরকারি কোনো পদেও দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না—আইন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা নতুন প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত সোমবার (৬ অক্টোবর) জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর সংশোধনের মাধ্যমে এই বিধান কার্যকর হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অধ্যাদেশ জারি করে আইনে নতুন ২০(গ) ধারা সংযোজন করেছেন, যা সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়েছে।

নতুন ধারা অনুযায়ী, আইনের ৯(১) ধারার অধীনে আইসিটিতে যাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয়েছে, তারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়া বা সরকারি দায়িত্ব পালনে অযোগ্য বলে গণ্য হবেন। একইভাবে স্থানীয় সরকার সংস্থার সদস্য, চেয়ারম্যান, মেয়র বা প্রশাসক হিসেবেও তারা নির্বাচনে অংশ নিতে বা নিয়োগ পেতে পারবেন না।

তবে কেউ যদি পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনাল থেকে অব্যাহতি পান বা খালাসপ্রাপ্ত হন, তাহলে তার ওপর থেকে অযোগ্যতা তুলে নেওয়া হবে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল, হাসানুল হক ইনু, মাহবুব উল আলম হানিফ, সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সাবেক কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাদরুদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী ও কুষ্টিয়া সিটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।

এ ছাড়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক রংপুর মেট্রোপলিটন কমিশনার মো. মুনিরুজ্জামান এবং সাবেক ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ আরও অনেকে অভিযুক্ত হয়েছেন।

আইসিটির প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেছেন, “বর্তমান সময়ের প্রয়োজনেই এই সংশোধন আনা হয়েছে। দেশ এখন বিপ্লবোত্তর পরিস্থিতিতে পুনর্গঠনের পথে।”

তবে এই সংশোধনের সমালোচনা করে বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, “এটি ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিকে লঙ্ঘন করে। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত একজন ব্যক্তি নির্দোষ—এ নীতি এখানে উপেক্ষিত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “যদি অভিযুক্ত হওয়ামাত্রই কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, তাহলে এটি বিচার ছাড়াই শাস্তি দেওয়ার শামিল।”

প্রসঙ্গত, এখন পর্যন্ত জুলাই বিদ্রোহ-পরবর্তী মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি মামলায় মোট ৬৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয়েছে।