ঢাকা ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সিলেটের তাজরিয়ানের লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার ফুল-ফ্রি স্কলারশিপ Logo লাখাইয়ের বুল্লা বাজারে গভীর রাতে ওসির পরিদর্শন, জোরদার হচ্ছে নিরাপত্তা Logo বাবরের উদ্যোগে ওমরাহ পালনে সৌদি যাচ্ছেন বিএনপির ৪৭ নেতাকর্মী Logo তারেক রহমানের সঙ্গে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার বৈঠক Logo ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক Logo বামৈ ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মহিলা মেম্বার পদে প্রার্থী মানছুরা আক্তার লিপি Logo জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo লাখাইয়ের বুল্লা বাজারে বাঁশের তৈরি পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন শামছু মিয়া Logo যোগে পুলিশের ৩১ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন Logo জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর এবার বাসের ভাড়াও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মাধবপুরে নকল নবীস অসীমের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা স্বাক্ষর জালের অভিযোগও তদন্তাধীন

মাধবপুর প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর সাব-রেজিস্টার অফিসের নকল নবীস অসীম কুমার নাগের বিরুদ্ধে সহকর্মী নারী কর্মচারীকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী সহকর্মী গত বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে মাধবপুর থানাকে এফআইআর হিসেবে মামলা রুজুর নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়, অসীম কুমার নাগ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাব-রেজিস্টার অফিসে খণ্ডকালীন চাকরি নেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন। ভুক্তভোগী নারীর দাবি, গত এক বছর ধরে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন অসীম। একাধিকবার তার বোরকা ছিঁড়ে ফেলা, জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ এবং পরবর্তীতে ভিডিও কলের মাধ্যমে নগ্ন ছবি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে। এ অবস্থায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

শুধু হয়রানি নয়, অসীম কুমার নাগের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। জানা যায়, তিনি সাব-রেজিস্টার জীতেন্দ্র লাল দাসের স্বাক্ষর জাল করে ২০২২ সালের একাধিক দলিল সরবরাহ করেছেন। একইভাবে সাব-রেজিস্টার জাকির হোসেনের স্বাক্ষর জাল করে অন্তত ১০টি দলিল সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে তিনি আর্থিক সুবিধাও নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযুক্ত অসীম কুমার নাগ অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিকভাবে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।”

সাবেক সাব-রেজিস্টার জাকির হোসেন বলেন,
“যদি কোনো নকল নবীস স্বাক্ষর জাল করে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

বর্তমান সাব-রেজিস্টার মাসুদ রানা জানান,
“অসীম কুমার নাগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। তার অপকর্ম প্রমাণিত হলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে তিনি অফিসে আসছেন না। আইন এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেটের তাজরিয়ানের লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার ফুল-ফ্রি স্কলারশিপ

error:

মাধবপুরে নকল নবীস অসীমের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা স্বাক্ষর জালের অভিযোগও তদন্তাধীন

আপডেট সময় ০৭:৩৫:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

মাধবপুর প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর সাব-রেজিস্টার অফিসের নকল নবীস অসীম কুমার নাগের বিরুদ্ধে সহকর্মী নারী কর্মচারীকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী সহকর্মী গত বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে মাধবপুর থানাকে এফআইআর হিসেবে মামলা রুজুর নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়, অসীম কুমার নাগ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাব-রেজিস্টার অফিসে খণ্ডকালীন চাকরি নেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন। ভুক্তভোগী নারীর দাবি, গত এক বছর ধরে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন অসীম। একাধিকবার তার বোরকা ছিঁড়ে ফেলা, জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ এবং পরবর্তীতে ভিডিও কলের মাধ্যমে নগ্ন ছবি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে। এ অবস্থায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

শুধু হয়রানি নয়, অসীম কুমার নাগের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। জানা যায়, তিনি সাব-রেজিস্টার জীতেন্দ্র লাল দাসের স্বাক্ষর জাল করে ২০২২ সালের একাধিক দলিল সরবরাহ করেছেন। একইভাবে সাব-রেজিস্টার জাকির হোসেনের স্বাক্ষর জাল করে অন্তত ১০টি দলিল সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে তিনি আর্থিক সুবিধাও নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযুক্ত অসীম কুমার নাগ অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিকভাবে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।”

সাবেক সাব-রেজিস্টার জাকির হোসেন বলেন,
“যদি কোনো নকল নবীস স্বাক্ষর জাল করে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

বর্তমান সাব-রেজিস্টার মাসুদ রানা জানান,
“অসীম কুমার নাগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। তার অপকর্ম প্রমাণিত হলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে তিনি অফিসে আসছেন না। আইন এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”