
পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বিভিন্ন হাওরাঞ্চলে অতিথি ও দেশীয় বক পাখি নির্বিচারে শিকারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ফাঁদ, জাল ও বিষটোপ ব্যবহার করে পাখি শিকার করা হচ্ছে। পরে এসব পাখি বুল্লা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানীয় হাটবাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কালিয়াধারা ব্রিজসংলগ্ন হাওরের ভেতরের অংশ, করাবের হাওর, বুল্লার হাওর, বামৈ হাওর, লাখাইয়ের মূল হাওর এবং ভাটি অঞ্চলের বিভিন্ন জলাশয়ে বর্তমানে অতিথি পাখি ও বিভিন্ন প্রজাতির বকের আনাগোনা বেড়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একশ্রেণির অসাধু শিকারি প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পাখি শিকার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিকার করা পাখিগুলো পরবর্তী সময়ে বুল্লা বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন হাটবাজারে চড়া দামে বিক্রি করা হয়। একশ্রেণির ক্রেতা পাখির মাংসের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে এসব পাখি কিনছেন। নির্বিচারে পাখি শিকার ও বিক্রির এ প্রবণতা হাওরের জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন পরিবেশসচেতন ব্যক্তিরা।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, হাওরের পরিবেশ রক্ষায় তাঁরা বিভিন্ন সময় পাখি শিকারিদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, শিকারিরা তাঁদের বাধা উপেক্ষা করার পাশাপাশি প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, নিয়মিত পাখি শিকার ও বাজারে বিক্রির ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর অভিযান চোখে পড়ছে না। ফলে শিকারিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন বলে তাঁদের দাবি।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় পরিবেশপ্রেমী ও সচেতন নাগরিকেরা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং স্থানীয় হাটবাজারগুলোতে নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন।
তাঁদের মতে, অতিথি পাখি ও দেশীয় পাখি শিকার বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে লাখাইয়ের হাওরাঞ্চলে পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















