
মাধবপুর প্রতিনিধি হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভায় একটি সড়কের পাশে ১ হাজার ৭০০টি গাছ লাগানোর জন্য ১৭ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হলেও বর্তমানে ওই সড়কে অধিকাংশ গাছের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একই প্রকল্পের পরিবেশগত বিভিন্ন কার্যক্রমসহ মোট ২০ লাখ ৩২ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয়ের হিসাব পাওয়া গেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালে মাধবপুর পৌরসভার গুদামপাড়া মসজিদ থেকে বোয়ালিয়া ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের পরিবেশগত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১ হাজার ৭০০টি গাছ লাগানো হয়। তবে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে ওই সড়কে গিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির আনুমানিক দেড় শতাধিক গাছ দেখা গেছে।
সড়কের পাশে থাকা গাছগুলোর মধ্যে আম, জাম, কাঁঠাল, মেহগনি, অর্জুন, আকাশমণি ও কৃষ্ণচূড়া রয়েছে। তবে এসব গাছের কতটি ওই প্রকল্পের আওতায় লাগানো হয়েছিল, তা সরেজমিনে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
প্রকল্পের নথিতে দেখা যায়, ১ হাজার ৭০০টি গাছ লাগানোর জন্য ১৭ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া ডাস্ট সাপ্লাই, এয়ার কোয়ালিটি মেজারমেন্ট, নয়েজ লেভেল মেজারমেন্ট, ওয়াটার কোয়ালিটি মেজারমেন্ট, ক্যাম্পসাইট ওয়েস্ট ডিসপোজাল, ওয়াটার সাপ্লাই, স্টেশন ফ্যাসিলিটি ও সেফটি মেটেরিয়ালসহ বিভিন্ন পরিবেশগত কার্যক্রমে আরও ৩ লাখ ৩২ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয়ের হিসাব রয়েছে। সব মিলিয়ে পরিবেশগত অংশে মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে ২০ লাখ ৩২ হাজার ৮০০ টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংক, প্রকল্প পরিচালক, এমডিএসপি দপ্তর ও মাধবপুর পৌরসভার সমন্বয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিলু এন্টারপ্রাইজ। পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ ও বিশ্বব্যাংকের কনসালট্যান্ট টিমের প্রকৌশলীরা প্রকল্পের কাজ মনিটরিং করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
প্রকল্পের অর্থায়নসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংকের ৯০ শতাংশ অর্থ প্রকল্প পরিচালক দপ্তর থেকে সরাসরি ঠিকাদারের অনুকূলে ছাড় করা হয়। সরকারের (জিওবি) ১০ শতাংশ অর্থ ভ্যাট কর্তনের জন্য মাধবপুর পৌরসভার অনুকূলে দেওয়া হয়।
তবে ১ হাজার ৭০০টি গাছ লাগানোর তথ্যের বিপরীতে বর্তমানে সড়কের পাশে তুলনামূলক কমসংখ্যক গাছ দেখা যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পের আওতায় লাগানো গাছের কতটি বর্তমানে জীবিত রয়েছে, কতটি নষ্ট হয়েছে এবং কতটি অন্য কারণে অনুপস্থিত—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয় ও বাস্তবায়ন সরেজমিনে যাচাইয়ের দাবিও উঠেছে।
মাধবপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমি তেমন ভালো করে জানি না। উপসহকারী প্রকৌশলী আলী আকবরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিস্তারিত বলতে পারবেন।”
পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলী আকবর বলেন, “নিলু এন্টারপ্রাইজ গাছ লাগানোসহ পুরো প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করেছে। আমরা শুধু মনিটরিং করেছি। আকাশমণিসহ বিভিন্ন জাতের কাঠের গাছ লাগানো হয়েছিল, কোনো ফলের গাছ লাগানো হয়নি। তবে বর্তমানে অল্প কিছু গাছ আছে। গাছের দাম বিশ্বব্যাংকের লোকজন নির্ধারণ করেছে। এখানে আমাদের কোনো হাত নেই।”
মাধবপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, “গাছ লাগানোর বিষয়টি অনেক আগের। আমি বিষয়টি জানতাম না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের নথিতে ১ হাজার ৭০০টি গাছ লাগানোর তথ্য এবং বর্তমানে সড়কে দৃশ্যমান গাছের সংখ্যার মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যয়, গাছের ক্রয়মূল্য, রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণের তথ্যও যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















