ঢাকা ০৯:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কৃষি কর্মকর্তার পরিদর্শনে প্রশংসিত লাখাইয়ের কৃষকদের কচুরিপানা অপসারণ যন্ত্র Logo হাইমচরে ইয়াবাসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার Logo লাখাইয়ে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সাড়ে ১৮ লাখ টাকা পাচ্ছেন সিংহগ্রামের ৭৩৩ প্রান্তিক কৃষক Logo লাখাইয়ে পোনা নিধন বন্ধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জেলা প্রশাসকের Logo নাসিরনগরে এক মাসে ১০ প্রাণহানি, উদ্বেগ-আতঙ্কে এলাকাবাসী Logo মাধবপুরে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের অভিযোগে সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা Logo মাধবপুরে পুকুরে গোসলে নেমে মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু Logo মাধবপুরে ৫ কোটি ২৬ লাখ টাকার আইসিটি কেন্দ্র, ৮ বছরেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ Logo বুল্লা বাজারে যানজট ও চুরি রোধে মাঠে ইউএনও Logo মাধবপুরে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

কৃষি কর্মকর্তার পরিদর্শনে প্রশংসিত লাখাইয়ের কৃষকদের কচুরিপানা অপসারণ যন্ত্র

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:
বর্ষার বানের পানিতে ভেসে আসা কচুরিপানার ভোগান্তি থেকে হাওরাঞ্চলকে মুক্ত করতে দেশীয় প্রযুক্তিতে কচুরিপানা অপসারণের আধা-স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র তৈরি করেছেন লাখাইয়ের তিন কৃষক। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা ছাড়াই নিজেদের মেধা, শ্রম ও স্থানীয় প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে তৈরি এ যন্ত্রটি জলাশয় ও ফসলি জমি থেকে দ্রুত কচুরিপানা অপসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

প্রতিবছর বর্ষায় বানের পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কচুরিপানা ভেসে এসে লাখাইয়ের বিভিন্ন জলাশয় ও খালে জমে নৌচলাচল ব্যাহত করে। পাশাপাশি মৎস্যচাষ ও কৃষিকাজেও সৃষ্টি হয় নানা প্রতিবন্ধকতা। শ্রমিক সংকট ও অতিরিক্ত খরচের কারণে কচুরিপানা অপসারণে হিমশিম খেতে হয় কৃষকদের।

এ পরিস্থিতিতে সাধারণ নৌকায় ডিজেলচালিত ইঞ্জিন ও স্থানীয়ভাবে তৈরি বিভিন্ন কলকব্জা সংযোজন করে কচুরিপানা অপসারণের এ যন্ত্র তৈরি করেছেন কৃষক জামাল মিয়া, বেলন মিয়া ও মো. শামীম মিয়া। উদ্ভাবকদের দাবি, যন্ত্রটি অল্প সময়ে এবং তুলনামূলক কম খরচে বড় এলাকার ঘন কচুরিপানা অপসারণ করতে সক্ষম। এতে কৃষকের সময়, শ্রম ও অর্থ সাশ্রয় হবে।

উদ্ভাবক কৃষকরা জানান, স্থানীয় কৃষকদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের তাগিদ থেকেই তারা নিজেদের উদ্যোগে যন্ত্রটি তৈরির কাজ শুরু করেন। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই স্থানীয় অভিজ্ঞতা ও দেশীয় জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তারা এটি তৈরি করেছেন।

২৯ সেপ্টেম্বর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহেদুল ইসলাম সরেজমিনে গিয়ে যন্ত্রটির কার্যকারিতা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি উদ্ভাবনটির প্রশংসা করে বলেন, এটি হাওরের কৃষকদের কষ্ট লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে কচুরিপানায় অবরুদ্ধ ও পতিত জমি সহজে চাষাবাদের আওতায় আনতেও যন্ত্রটি সহায়ক হবে।

কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রতি বিঘা বা খানি জমি থেকে কচুরিপানা অপসারণে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা খরচ নির্ধারণ করা হলে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এ উদ্ভাবনের বিষয়টি অন্যান্য কৃষকের কাছেও তুলে ধরা হবে বলে তিনি জানান।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃষি কর্মকর্তার পরিদর্শনে প্রশংসিত লাখাইয়ের কৃষকদের কচুরিপানা অপসারণ যন্ত্র

error:

কৃষি কর্মকর্তার পরিদর্শনে প্রশংসিত লাখাইয়ের কৃষকদের কচুরিপানা অপসারণ যন্ত্র

আপডেট সময় ০৯:২৫:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:
বর্ষার বানের পানিতে ভেসে আসা কচুরিপানার ভোগান্তি থেকে হাওরাঞ্চলকে মুক্ত করতে দেশীয় প্রযুক্তিতে কচুরিপানা অপসারণের আধা-স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র তৈরি করেছেন লাখাইয়ের তিন কৃষক। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা ছাড়াই নিজেদের মেধা, শ্রম ও স্থানীয় প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে তৈরি এ যন্ত্রটি জলাশয় ও ফসলি জমি থেকে দ্রুত কচুরিপানা অপসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

প্রতিবছর বর্ষায় বানের পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কচুরিপানা ভেসে এসে লাখাইয়ের বিভিন্ন জলাশয় ও খালে জমে নৌচলাচল ব্যাহত করে। পাশাপাশি মৎস্যচাষ ও কৃষিকাজেও সৃষ্টি হয় নানা প্রতিবন্ধকতা। শ্রমিক সংকট ও অতিরিক্ত খরচের কারণে কচুরিপানা অপসারণে হিমশিম খেতে হয় কৃষকদের।

এ পরিস্থিতিতে সাধারণ নৌকায় ডিজেলচালিত ইঞ্জিন ও স্থানীয়ভাবে তৈরি বিভিন্ন কলকব্জা সংযোজন করে কচুরিপানা অপসারণের এ যন্ত্র তৈরি করেছেন কৃষক জামাল মিয়া, বেলন মিয়া ও মো. শামীম মিয়া। উদ্ভাবকদের দাবি, যন্ত্রটি অল্প সময়ে এবং তুলনামূলক কম খরচে বড় এলাকার ঘন কচুরিপানা অপসারণ করতে সক্ষম। এতে কৃষকের সময়, শ্রম ও অর্থ সাশ্রয় হবে।

উদ্ভাবক কৃষকরা জানান, স্থানীয় কৃষকদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের তাগিদ থেকেই তারা নিজেদের উদ্যোগে যন্ত্রটি তৈরির কাজ শুরু করেন। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই স্থানীয় অভিজ্ঞতা ও দেশীয় জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তারা এটি তৈরি করেছেন।

২৯ সেপ্টেম্বর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহেদুল ইসলাম সরেজমিনে গিয়ে যন্ত্রটির কার্যকারিতা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি উদ্ভাবনটির প্রশংসা করে বলেন, এটি হাওরের কৃষকদের কষ্ট লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে কচুরিপানায় অবরুদ্ধ ও পতিত জমি সহজে চাষাবাদের আওতায় আনতেও যন্ত্রটি সহায়ক হবে।

কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রতি বিঘা বা খানি জমি থেকে কচুরিপানা অপসারণে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা খরচ নির্ধারণ করা হলে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এ উদ্ভাবনের বিষয়টি অন্যান্য কৃষকের কাছেও তুলে ধরা হবে বলে তিনি জানান।