
পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:
বর্ষার বানের পানিতে ভেসে আসা কচুরিপানার ভোগান্তি থেকে হাওরাঞ্চলকে মুক্ত করতে দেশীয় প্রযুক্তিতে কচুরিপানা অপসারণের আধা-স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র তৈরি করেছেন লাখাইয়ের তিন কৃষক। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা ছাড়াই নিজেদের মেধা, শ্রম ও স্থানীয় প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে তৈরি এ যন্ত্রটি জলাশয় ও ফসলি জমি থেকে দ্রুত কচুরিপানা অপসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
প্রতিবছর বর্ষায় বানের পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কচুরিপানা ভেসে এসে লাখাইয়ের বিভিন্ন জলাশয় ও খালে জমে নৌচলাচল ব্যাহত করে। পাশাপাশি মৎস্যচাষ ও কৃষিকাজেও সৃষ্টি হয় নানা প্রতিবন্ধকতা। শ্রমিক সংকট ও অতিরিক্ত খরচের কারণে কচুরিপানা অপসারণে হিমশিম খেতে হয় কৃষকদের।
এ পরিস্থিতিতে সাধারণ নৌকায় ডিজেলচালিত ইঞ্জিন ও স্থানীয়ভাবে তৈরি বিভিন্ন কলকব্জা সংযোজন করে কচুরিপানা অপসারণের এ যন্ত্র তৈরি করেছেন কৃষক জামাল মিয়া, বেলন মিয়া ও মো. শামীম মিয়া। উদ্ভাবকদের দাবি, যন্ত্রটি অল্প সময়ে এবং তুলনামূলক কম খরচে বড় এলাকার ঘন কচুরিপানা অপসারণ করতে সক্ষম। এতে কৃষকের সময়, শ্রম ও অর্থ সাশ্রয় হবে।
উদ্ভাবক কৃষকরা জানান, স্থানীয় কৃষকদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের তাগিদ থেকেই তারা নিজেদের উদ্যোগে যন্ত্রটি তৈরির কাজ শুরু করেন। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই স্থানীয় অভিজ্ঞতা ও দেশীয় জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তারা এটি তৈরি করেছেন।
২৯ সেপ্টেম্বর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহেদুল ইসলাম সরেজমিনে গিয়ে যন্ত্রটির কার্যকারিতা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি উদ্ভাবনটির প্রশংসা করে বলেন, এটি হাওরের কৃষকদের কষ্ট লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে কচুরিপানায় অবরুদ্ধ ও পতিত জমি সহজে চাষাবাদের আওতায় আনতেও যন্ত্রটি সহায়ক হবে।
কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রতি বিঘা বা খানি জমি থেকে কচুরিপানা অপসারণে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা খরচ নির্ধারণ করা হলে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এ উদ্ভাবনের বিষয়টি অন্যান্য কৃষকের কাছেও তুলে ধরা হবে বলে তিনি জানান।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















