
জালাল উদ্দিন লস্কর, স্টাফ রিপোর্টার:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কমিউনিটি আই কর্নারে চোখের সমস্যা নিয়ে আসা রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অধিকাংশ রোগীকেই উচ্চতর চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে রেফার করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চোখের ড্রপ ও চশমা সরবরাহ বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা।
২০২৩ সালের শেষ দিকে কমিউনিটি আই কর্নারটি চালু হওয়ার পর কিছুদিন সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তী সময়ে সেখানে ধীরে ধীরে স্থবিরতা দেখা দেয়। বর্তমানে দূরদূরান্ত থেকে চোখের সমস্যা নিয়ে রোগীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ না পেয়ে অনেককেই ফিরে যেতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, কমিউনিটি আই কর্নারে বর্তমানে চোখের রোগীদের প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষা করা হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহের সুযোগ সীমিত। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে চোখের ড্রপ ও চশমা না থাকায় রোগীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
কমিউনিটি আই কর্নারে অপথালমিস্ট নার্স হিসেবে কর্মরত সিনিয়র স্টাফ নার্স (এসএসএন) রুহিলা খাতুন জানান, চোখের ড্রপ ও চশমা সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে ঠিক কবে থেকে এসব সরবরাহ বন্ধ, তা তিনি সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে পারেননি।
তিনি বলেন, বর্তমানে রোগীদের পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কোনো রোগীর জটিলতা থাকলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে পাঠানো হচ্ছে।
জানা গেছে, মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন অপথালমিস্ট কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন হাফিজা খাতুন বর্তমানে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় রুহিলা খাতুনকে একাই আই কর্নারের কার্যক্রম সামলাতে হচ্ছে।
এ কারণে প্রতিদিন চোখের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসা রোগীদের একটি বড় অংশ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ না পেয়েই ফিরে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা পর্যায়ে প্রাথমিক চক্ষু চিকিৎসার সুবিধা পাওয়ার আশায় দূরদূরান্ত থেকে হাসপাতালে এলেও কার্যকর সেবা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁদের সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে যেতে হচ্ছে। এতে রোগীদের সময় ও অর্থ—দুই-ই বেশি ব্যয় হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. জাহাঙ্গীর আলম কমিউনিটি আই কর্নারের বর্তমান সমস্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুত সেবার মানোন্নয়ন করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু রোগী পরীক্ষা করে উচ্চতর হাসপাতালে রেফার করার মধ্যে কমিউনিটি আই কর্নারের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত চক্ষু চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ছুটিতে থাকা জনবলের বিকল্প ব্যবস্থা করে আই কর্নারে পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















