
পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ২ নম্বর মোড়াকড়ি ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা মো. রুবেল মিয়ার বিরুদ্ধে জন্ম নিবন্ধন সেবা দিতে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার পরও সময়মতো সেবা না পাওয়ায় তাদের আর্থিক ও মানসিক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
মোড়াকড়ি ইউনিয়নের ভুক্তভোগী যুবক মো. মাসুক মিয়া অভিযোগ করে বলেন, দুটি জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য তিনি ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা রুবেল মিয়ার কাছে গেলে তার কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। তবে এক থেকে দুই মাস ঘোরাঘুরির পর তিনি মাত্র একটি জন্ম নিবন্ধন সনদ পেয়েছেন। অপরটির আবেদন ভুল হয়েছে বলে উপজেলা থেকে জানানো হয়।
মাসুক মিয়ার ভাষ্য, তিনি পেশায় দিনমজুর। জন্ম নিবন্ধনের বিষয়টি নিয়ে কয়েক দিন উপজেলা পরিষদ চত্বরে ঘোরাঘুরি করতে গিয়ে তাকে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক ভোগান্তিও পোহাতে হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার এক চাচির কাছ থেকেও দুই থেকে তিনটি জন্ম নিবন্ধনের জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের পলি নামের এক কর্মী ফটোকপির কথা বলে তার কাছ থেকে আরও ৩০০ টাকা নিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, জন্ম নিবন্ধন সেবা নিতে গিয়ে উদ্যোক্তা রুবেল মিয়ার আচরণে তারা অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তাদের দাবি, নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার বিষয়ে স্থানীয়ভাবে আরও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা মো. রুবেল মিয়া। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো অনিয়ম করেননি বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে ২ নম্বর মোড়াকড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়সাল মোল্লা বলেন, অভিযোগকারী মাসুক মিয়া ও উদ্যোক্তা রুবেল মিয়ার মধ্যকার ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তে উদ্যোক্তা রুবেল মিয়া দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্টদের দায় নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলার খবর ডেস্ক : 




















