ঢাকা ১১:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo খাদ্যশস্যের মজুত বেড়ে ২৩ লাখ ৫৯ হাজার টন, নিরাপদ সীমা ১৬ লাখ Logo আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে বুল্লা বাজারে কবির খাঁন চৌধুরীর গণসংযোগ Logo নির্বাচনকে ঘিরে আন্দিউড়ায় গণসংযোগে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোত্তাকিম চৌধুরী Logo ধর্মঘর কাঁচা সবজি বাজারে কাদা-পানিতে চরম দুর্ভোগ Logo মাধবপুরে বাস-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ Logo প্রজন্মের প্রতিধ্বনি লাখাইয়ের ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন Logo ২৯ বছরেও নিজস্ব ভবন নেই মাধবপুর পৌরসভার Logo বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশুর ভিটেমাটি দখলের অভিযোগ, নিরাপত্তা-সহায়তা চান মা-মেয়ে Logo গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ; আটক ২ Logo মোদির সঙ্গে আজ বৈঠকে পুতিন, গুরুত্ব পাবে প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সহযোগিতা

ভারতে পালানোর সময় আখাউড়ায় জুলাই হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

মো:সাইফুল ইসলাম আখাউড়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় আশুলিয়া থানার দুই হত্যা মামলার আসামি মো. ইদ্রিস আলীকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার ইদ্রিস আলী ঢাকার আশুলিয়া থানার জামগড়া এলাকার মোহাম্মদ আলী আহমেদের ছেলে। পরে তাকে আখাউড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আখাউড়া ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইদ্রিস আলী তার ছোট বোন ও ভাগিনাকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে আসেন। এ সময় তার কাগজপত্র ও ডাটাবেজ যাচাই-বাছাই করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। যাচাইয়ে তার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় দুটি হত্যা মামলা থাকার তথ্য পাওয়া যায়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে আটক করা হয়।

ইমিগ্রেশন পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ইদ্রিস আলী ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সকালে ইমিগ্রেশনে আসেন। ডাটাবেজ যাচাই করে তার নামে দুইটি হত্যা মামলা থাকার তথ্য পাওয়া যায়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে আটক করে আখাউড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট দায়ের করা মামলা নম্বর-১১ এবং ২০ আগস্ট দায়ের করা মামলা নম্বর-১৬ রয়েছে। উভয় মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৭/১৪৮/১৪৯/৩০২/৩৪/১১৪ ধারা এবং একটি মামলায় ২০১ ধারাও রয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলাগুলোতে হত্যা, হামলা ও সংঘবদ্ধভাবে অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরের বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও মামলার নথিতে রয়েছে।

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ জানান, গ্রেপ্তারের পর ইদ্রিস আলী বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন। তাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য আশুলিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে, ইদ্রিস আলীর সঙ্গে থাকা তার ছোট বোন ও ভাগিনার বিরুদ্ধে কোনো মামলা না থাকায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় দুটি হত্যা মামলা রয়েছে। মামলাগুলোতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা/আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে। আখাউড়া ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন,
ইদ্রিস আলী দুটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে ভারতে যাওয়ার সময় আখাউড়া ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। ডাটাবেজ যাচাই করে তার বিরুদ্ধে মামলা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে আখাউড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

বাংলার খবর
জনপ্রিয় সংবাদ

খাদ্যশস্যের মজুত বেড়ে ২৩ লাখ ৫৯ হাজার টন, নিরাপদ সীমা ১৬ লাখ

error:

ভারতে পালানোর সময় আখাউড়ায় জুলাই হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০৫:৫২:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মো:সাইফুল ইসলাম আখাউড়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় আশুলিয়া থানার দুই হত্যা মামলার আসামি মো. ইদ্রিস আলীকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার ইদ্রিস আলী ঢাকার আশুলিয়া থানার জামগড়া এলাকার মোহাম্মদ আলী আহমেদের ছেলে। পরে তাকে আখাউড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আখাউড়া ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইদ্রিস আলী তার ছোট বোন ও ভাগিনাকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে আসেন। এ সময় তার কাগজপত্র ও ডাটাবেজ যাচাই-বাছাই করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। যাচাইয়ে তার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় দুটি হত্যা মামলা থাকার তথ্য পাওয়া যায়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে আটক করা হয়।

ইমিগ্রেশন পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ইদ্রিস আলী ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সকালে ইমিগ্রেশনে আসেন। ডাটাবেজ যাচাই করে তার নামে দুইটি হত্যা মামলা থাকার তথ্য পাওয়া যায়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে আটক করে আখাউড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট দায়ের করা মামলা নম্বর-১১ এবং ২০ আগস্ট দায়ের করা মামলা নম্বর-১৬ রয়েছে। উভয় মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৭/১৪৮/১৪৯/৩০২/৩৪/১১৪ ধারা এবং একটি মামলায় ২০১ ধারাও রয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলাগুলোতে হত্যা, হামলা ও সংঘবদ্ধভাবে অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরের বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও মামলার নথিতে রয়েছে।

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ জানান, গ্রেপ্তারের পর ইদ্রিস আলী বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন। তাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য আশুলিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে, ইদ্রিস আলীর সঙ্গে থাকা তার ছোট বোন ও ভাগিনার বিরুদ্ধে কোনো মামলা না থাকায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় দুটি হত্যা মামলা রয়েছে। মামলাগুলোতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা/আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে। আখাউড়া ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন,
ইদ্রিস আলী দুটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে ভারতে যাওয়ার সময় আখাউড়া ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। ডাটাবেজ যাচাই করে তার বিরুদ্ধে মামলা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে আখাউড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।