
হামিদুর রহমান, মাধবপুর (হবিগঞ্জ):
গত তিন দিনের টানা বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় কৃষিজমি, মাছের খামার, সড়ক ও বসতঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে খাল উপচে বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ করায় সবজি ও আউশ ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। অনেক মাছের পুকুর ভেসে গেছে এবং একাধিক বসতঘর নদী ও খালের ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চুনারুঘাট–রামগঙ্গা সড়ক এবং ঢাকা–সিলেট পুরাতন মহাসড়কের সাতছড়ি ও সুরমা চা বাগান এলাকায় সড়কের পাশে একাধিক স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর আগে টানা দুই দফা ভারী বর্ষণে রামগঙ্গা ও চণ্ডিছড়া মাজার এলাকায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সলের নির্দেশনায় হবিগঞ্জ সড়ক বিভাগ জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরু করে। তবে নতুন করে ভারী বৃষ্টিতে ওই এলাকাগুলো আবারও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বুধবার উপজেলা প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।
চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ জানান, ভবানীপুর এলাকায় নতুন খাল খননের পর পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে কয়েকটি বসতঘর ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে খালটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, আন্দিউড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে একাধিক মাছের খামার তলিয়ে গেছে। আন্দিউড়া গ্রামের মাছচাষি মুর্শেদ মিয়া জানান, হঠাৎ নেমে আসা ঢলে তাঁর চারটি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। একইভাবে আরও ১০ থেকে ১২ জন মাছচাষী বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
শাহজাহানপুর ইউনিয়নের কৃষক আলী হোসেন জানান, সীমনা ছড়া, হলহলিয়া ছড়া ও তেলিয়াপাড়া ছড়া দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি পানিতে কৃষিজমিতে পলি জমে বরবটি, শসা, লাউ, চালকুমড়া, চিচিঙ্গা, টমেটোসহ বিভিন্ন সবজি এবং আউশ ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকার বলেন, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সবজি ও আউশ ধানের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে।
হবিগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড় ও চা বাগান এলাকায় ভূমিধসের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঢাকা–সিলেট পুরাতন মহাসড়কের অন্তত ১০টি স্থানে ছোট-বড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। চণ্ডিছড়া, রামগঙ্গা, সাতছড়ি ও ২০ নম্বর এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে সড়ক রক্ষার কাজ চলছে। তবে অব্যাহত বৃষ্টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিজনিত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 






















