
লিটন বিন ইসলাম, বাংলার খবর নিউজ ডেস্কঃ
“মৃত্যু” বড়ই নিঃশব্দ, বড়ই নির্মম। কখন যে জীবনের সব আলো নিভিয়ে মানুষকে না ফেরার দেশে নিয়ে যায়, তা কেউ বুঝে উঠতে পারে না। পৃথিবীর সব সম্পর্ক, সব স্বপ্ন আর সব ব্যস্ততার শেষ ঠিকানাও একদিন মৃত্যু। এই চিরন্তন সত্য মেনে নিয়েই মানুষকে বিদায় জানাতে হয় অশ্রুসিক্ত হৃদয়ে।
হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের নারাইনপুর গ্রামের কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক শেখ মুজাহিদ বিন ইসলামের শেষ বিদায়ও সম্পন্ন হয়েছে হাজারো মানুষের কান্না আর দোয়ার মধ্য দিয়ে।
দীর্ঘদিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই শেষে তিনি নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই পুরো এলাকায় নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, সাবেক ছাত্র, শুভাকাঙ্ক্ষী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখতে ভিড় জমান তাঁর বাড়িতে।
জানাজার নামাজে অংশ নেন হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। কান্নাভেজা চোখে সবাই প্রার্থনা করেন, আল্লাহ যেন এই মানুষটিকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
রাজনৈতিক জীবনে শেখ মুজাহিদ বিন ইসলাম ছিলেন আওয়ামী লীগের এক নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক। তিনি মাধবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বিআরডিবির পাঁচবারের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এলাকার উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয়। নোয়াপাড়া ইউনিয়নের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের স্বপ্ন নিয়ে একাধিকবার চেয়ারম্যান পদেও নির্বাচন করেছিলেন তিনি।
শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনেই নয়, শিক্ষাক্ষেত্রেও রেখে গেছেন অনন্য অবদান। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে নোয়াপাড়া ইউনিয়নের রতনপুরে প্রতিষ্ঠা করেন “আলহাজ্ব শওকত আলী একাডেমী”। পরবর্তীতে নিজ গ্রাম নারাইনপুরেও একই নামে আরও একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল, গ্রামের সন্তানরা যেন আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ পায়।
তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে অপূরণীয় শূন্যতা। স্থানীয়রা বলছেন, শেখ মুজাহিদ বিন ইসলাম ছিলেন একজন সৎ, মানবিক, শিক্ষাপ্রেমী ও উন্নয়নমুখী মানুষ। মানুষের সুখে-দুঃখে যিনি সবসময় পাশে দাঁড়াতেন।
আজ তিনি নেই, কিন্তু তাঁর কর্ম, অবদান আর মানুষের প্রতি ভালোবাসা বেঁচে থাকবে হাজারো মানুষের হৃদয়ে। তাঁর চলে যাওয়া যেন একটি নক্ষত্রপতন, যার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
বাংলার খবর ডেস্ক : 























