
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মোঃ ফয়সল বলেছেন, একটি জাতিকে বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে জ্ঞান-বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। একটি দেশের উন্নয়ন নির্ভর করে সেই দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর ওপর। তাই নতুন প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষায় গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে হবিগঞ্জের মাধবপুরে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন আয়োজিত বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এমপি সৈয়দ মোঃ ফয়সল বলেন, বর্তমান বিশ্ব প্রতিযোগিতার যুগ। এখানে টিকে থাকতে হলে শুধু সাধারণ শিক্ষা নয়, প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ, দক্ষ মানবসম্পদ ছাড়া কোনো জাতি উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে না। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে দেশের বিপুল জনসংখ্যা। এই জনসংখ্যাকে সঠিকভাবে শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে পারলে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, নারী শিক্ষার প্রসারে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বর্তমানে নারীরা শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসন ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছেন। নারী শিক্ষার প্রসারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর নারী শিক্ষাকে সার্বজনীন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার উন্নয়নে শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করলে হবে না। বেসরকারি উদ্যোক্তা, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং শিক্ষানুরাগীদেরও এগিয়ে আসতে হবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে কাঙ্ক্ষিত মানে উন্নীত করা সম্ভব হয়নি। শিক্ষার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণেরও আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ মোঃ শাহজাহান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাহিদ বিন কাশেম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাইফুল হক মির্জা এবং সঞ্চালনা করেন মোঃ জাকারিয়া।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি, সনদপত্র ও সম্মাননা স্মারক বিতরণ করা হয়।
বাংলার খবর ডেস্ক : 






















