ঢাকা ১০:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লাখাইয়ে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ Logo দুপুরে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন Logo বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসার সব ক্যাটাগরি চালু, প্রধান সমস্যা স্লট বুকিং Logo লন্ডনে থাকায় এবার পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যেতে পারছেন না সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান Logo অস্ত্রকাণ্ডে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর, দাবি সূত্রের Logo লাখাইয়ে সরকারি কর্মচারীর মৃত্যু, সৎকার নিয়ে দুই স্ত্রীর বিরোধের অবসান Logo শায়েস্তাগঞ্জে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনে আগুন, দেড় ঘণ্টার বেশি ট্রেন চলাচল বন্ধ Logo আন্দিউড়া ইউনিয়নে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক অনুদান দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মোত্তাকিম চৌধুরী Logo হবিগঞ্জে ৫৫ বিজিবির পৃথক তিন অভিযানে ভারতীয় মদ জব্দ Logo ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী বিএনপি: এমপি ফয়সল

লাখাইয়ে সরকারি কর্মচারীর মৃত্যু, সৎকার নিয়ে দুই স্ত্রীর বিরোধের অবসান

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা পরিষদের জারিকারক রাশেন্দ্র চন্দ্র দেবের (৪০) মৃত্যুর পর তাঁর ধর্ম পরিবর্তন, দুই স্ত্রীর দাবি এবং শেষকৃত্য সম্পাদন নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় বিরোধের অবসান ঘটে। শেষ পর্যন্ত হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাঁর দাহ সম্পন্ন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর (শনিবার) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ব্রেন স্ট্রোকে মারা যান রাশেন্দ্র চন্দ্র দেব। তিনি লাখাই উপজেলার করাব ইউনিয়নের করাব গ্রামের মৃত রাখেশ চন্দ্র দেবের ছেলে।

পরদিন ১৮ অক্টোবর (রোববার) সকাল ১০টার দিকে নুরজাহান আক্তার (৩৫) নামে এক নারী নিজেকে রাশেন্দ্র চন্দ্র দেবের প্রথম স্ত্রী দাবি করে উপস্থিত হন। তাঁর বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইগাঁও এলাকায়।

নুরজাহানের দাবি, ২০১১ সালে নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদে চাকরি করার সময় রাশেন্দ্র চন্দ্র দেবের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে রাশেন্দ্র ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ‘মোহাম্মদ আবু সিদ্দিক’ নাম ধারণ করেন এবং শরিয়াহ অনুযায়ী তাঁকে বিয়ে করেন।

নুরজাহান জানান, তাঁদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে—তমা আক্তার তাসমিনা (১৫), মো. তামিম ইসলাম (১০) ও তাইবা আক্তার তৃষা (৮)। তাঁরা বর্তমানে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নূরপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ধর্ম পরিবর্তন বা বিয়ের পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি নুরজাহান।

অন্যদিকে, স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২ অক্টোবর হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী নবীগঞ্জের ওমরপুর এলাকার রিনা রানী পালকে (৪০) বিয়ে করেন রাশেন্দ্র চন্দ্র দেব। তাঁদের সংসারে সুবর্ণা রানী দেব, অর্পিতা রানী দেব ও অমিতা রানী দেব নামে তিন মেয়ে রয়েছে। বর্তমানে রিনা রানী পাল সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।

রাশেন্দ্রর মৃত্যুর পর তাঁর শেষকৃত্য কোন ধর্মীয় রীতিতে সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। নুরজাহান আক্তার হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে মরদেহ দাহে আপত্তি জানান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য তাজুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি ইউপি চেয়ারম্যান এবং লাখাই উপজেলা পরিষদের দায়িত্বে থাকা শায়েস্তাগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে আলোচনা করেন। পাশাপাশি দুই পক্ষ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়েও কথা বলেন তিনি।

ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান আশ্বাস দেন, আগামী ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের পর উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে পর্যালোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রশাসনের এই আশ্বাসের পর নুরজাহান আক্তার হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে সম্মতি দেন। পরে ১৮ অক্টোবর আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতে রাশেন্দ্র চন্দ্র দেবের দাহ কার্য সম্পন্ন হয়।

 

আপলোডকারীর তথ্য
Avatar photo

Sekh Sadi

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাইয়ে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ

error:

লাখাইয়ে সরকারি কর্মচারীর মৃত্যু, সৎকার নিয়ে দুই স্ত্রীর বিরোধের অবসান

আপডেট সময় ০৯:০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা পরিষদের জারিকারক রাশেন্দ্র চন্দ্র দেবের (৪০) মৃত্যুর পর তাঁর ধর্ম পরিবর্তন, দুই স্ত্রীর দাবি এবং শেষকৃত্য সম্পাদন নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় বিরোধের অবসান ঘটে। শেষ পর্যন্ত হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাঁর দাহ সম্পন্ন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর (শনিবার) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ব্রেন স্ট্রোকে মারা যান রাশেন্দ্র চন্দ্র দেব। তিনি লাখাই উপজেলার করাব ইউনিয়নের করাব গ্রামের মৃত রাখেশ চন্দ্র দেবের ছেলে।

পরদিন ১৮ অক্টোবর (রোববার) সকাল ১০টার দিকে নুরজাহান আক্তার (৩৫) নামে এক নারী নিজেকে রাশেন্দ্র চন্দ্র দেবের প্রথম স্ত্রী দাবি করে উপস্থিত হন। তাঁর বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইগাঁও এলাকায়।

নুরজাহানের দাবি, ২০১১ সালে নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদে চাকরি করার সময় রাশেন্দ্র চন্দ্র দেবের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে রাশেন্দ্র ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ‘মোহাম্মদ আবু সিদ্দিক’ নাম ধারণ করেন এবং শরিয়াহ অনুযায়ী তাঁকে বিয়ে করেন।

নুরজাহান জানান, তাঁদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে—তমা আক্তার তাসমিনা (১৫), মো. তামিম ইসলাম (১০) ও তাইবা আক্তার তৃষা (৮)। তাঁরা বর্তমানে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নূরপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ধর্ম পরিবর্তন বা বিয়ের পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি নুরজাহান।

অন্যদিকে, স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২ অক্টোবর হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী নবীগঞ্জের ওমরপুর এলাকার রিনা রানী পালকে (৪০) বিয়ে করেন রাশেন্দ্র চন্দ্র দেব। তাঁদের সংসারে সুবর্ণা রানী দেব, অর্পিতা রানী দেব ও অমিতা রানী দেব নামে তিন মেয়ে রয়েছে। বর্তমানে রিনা রানী পাল সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।

রাশেন্দ্রর মৃত্যুর পর তাঁর শেষকৃত্য কোন ধর্মীয় রীতিতে সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। নুরজাহান আক্তার হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে মরদেহ দাহে আপত্তি জানান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য তাজুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি ইউপি চেয়ারম্যান এবং লাখাই উপজেলা পরিষদের দায়িত্বে থাকা শায়েস্তাগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে আলোচনা করেন। পাশাপাশি দুই পক্ষ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়েও কথা বলেন তিনি।

ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান আশ্বাস দেন, আগামী ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের পর উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে পর্যালোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রশাসনের এই আশ্বাসের পর নুরজাহান আক্তার হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে সম্মতি দেন। পরে ১৮ অক্টোবর আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতে রাশেন্দ্র চন্দ্র দেবের দাহ কার্য সম্পন্ন হয়।