ঢাকা ০৭:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাসী: এমপি এস এম ফয়সল Logo হবিগঞ্জ-লাখাই-নাসিরনগর ফোর লেন: দুর্ঘটনা-যানজট রোধে বুল্লা বাজারে আন্ডারপাসের দাবি Logo ক্ষতিপূরণে দীর্ঘসূত্রতার অবসান, বাহুবলে ২৪ ভূমিমালিক পেলেন ১০ কোটি ১৫ লাখ টাকা Logo মাধবপুরের ছাতিয়ানে ভোক্তা অধিকার আইনে অভিযান, ৪ ব্যবসায়ীকে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা Logo মাধবপুরে ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে ভূমি অধিগ্রহণে ন্যায্যমূল্যের দাবিতে মানববন্ধন Logo লাখাইয়ের সিংহ গ্রামে ১ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন Logo মাধবপুরে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট, ১,৫৮৫ টাকার গ্যাস বিক্রি হচ্ছে ২,৫০০ টাকায় Logo হাইমচরে চুরি মামলার সন্দেহভাজন মজিবর রহমান গ্রেপ্তার Logo অপরাধ দমনে জনতা-পুলিশ এক কাতারে, মোড়াকরিতে ব্যতিক্রমী ‘উঠান কর্মশালা

মাধবপুরে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট, ১,৫৮৫ টাকার গ্যাস বিক্রি হচ্ছে ২,৫০০ টাকায়

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুরে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। কোথাও সিলিন্ডার মিললেও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।

বিইআরসির সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। তবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ সংকটের মধ্যে এই সিলিন্ডার ২ হাজার টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রির খবর এসেছে।

মাধবপুরের বিভিন্ন বাজারে গ্রাহকদের অভিযোগ, ১ হাজার ৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা এবং কোথাও কোথাও ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এতে নির্ধারিত দামের তুলনায় ৬১৫ থেকে ৯১৫ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে তাদের।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, অনেক দোকানেই পর্যাপ্ত এলপিজি সিলিন্ডার নেই। কয়েকটি দোকানে সীমিতসংখ্যক সিলিন্ডার থাকলেও বাড়তি দাম চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রয়োজনের সময় গ্যাস না পেয়ে এক বাজার থেকে অন্য বাজারে ছুটতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রান্নার কাজে এলপিজি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন তারা। সংকটের পাশাপাশি বাড়তি দাম নেওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করছেন।

মাধবপুরের বাসিন্দা রিনা বেগম বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে গ্যাস সিলিন্ডার দিয়েই রান্না করি। তিন দিন ধরে গ্যাস শেষ হয়ে গেছে। বাজারে খুঁজেও পাচ্ছি না। কোথাও পাওয়া গেলেও দাম অনেক বেশি। সংসার চালাতেই কষ্ট হচ্ছে, এত বেশি দামে গ্যাস কেনা সম্ভব নয়।’

কামাল মিয়া নামে আরেক গ্রাহক বলেন, ‘আগে বাজারে গেলেই গ্যাস পাওয়া যেত। এখন দোকানে গেলে বলে গ্যাস নেই। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পাওয়া গেলেও দাম চায় দ্বিগুণের কাছাকাছি।’

খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, তারা ইচ্ছা করে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন না। ডিলারদের কাছ থেকেই বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে বলে তাদের বক্তব্য। ফলে নির্ধারিত দামে বিক্রি করলে লোকসান হচ্ছে।

মাধবপুর বাজারের ব্যবসায়ী রমেশ কৈরী বলেন, ‘কোম্পানি থেকে নিয়মিত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। সরবরাহ কম থাকায় কিছু ব্যবসায়ী বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন।’

ডিলারদেরও দাবি, তারা কোম্পানির কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পাচ্ছেন না। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজারের সংকট পুরোপুরি কাটছে না বলে তারা জানান।

দেশজুড়েও সাম্প্রতিক সময়ে এলপিজি সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে এমন অভিযোগ উঠেছে। ২৮ সেপ্টেম্বর জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে আমদানিকারক ও অপারেটররা দেশে এলপিজির সংকট নেই বলে দাবি করলেও গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ ঘাটতি না রাখার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

৩০ সেপ্টেম্বর দেশের কোথাও এলপিজির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে ৩ অক্টোবরও এলপিজি সরবরাহ সংকট ও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ নিয়ে আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জ্বালানি মন্ত্রী।

মাধবপুরের গ্রাহকদের অভিযোগ, সংকটের সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি করতে না পারে, সে জন্য বাজারে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান প্রয়োজন।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘এলপিজি গ্যাসের সংকটের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রায় ২০ দিন ধরে চলা এ সংকটে মাধবপুরে রান্নার অন্যতম প্রধান জ্বালানি এলপিজি গ্যাস নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন গ্রাহকরা। সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

আপলোডকারীর তথ্য
Avatar photo

Sekh Sadi

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাসী: এমপি এস এম ফয়সল

error:

মাধবপুরে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট, ১,৫৮৫ টাকার গ্যাস বিক্রি হচ্ছে ২,৫০০ টাকায়

আপডেট সময় ০৫:৩৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুরে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। কোথাও সিলিন্ডার মিললেও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।

বিইআরসির সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। তবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ সংকটের মধ্যে এই সিলিন্ডার ২ হাজার টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রির খবর এসেছে।

মাধবপুরের বিভিন্ন বাজারে গ্রাহকদের অভিযোগ, ১ হাজার ৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা এবং কোথাও কোথাও ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এতে নির্ধারিত দামের তুলনায় ৬১৫ থেকে ৯১৫ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে তাদের।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, অনেক দোকানেই পর্যাপ্ত এলপিজি সিলিন্ডার নেই। কয়েকটি দোকানে সীমিতসংখ্যক সিলিন্ডার থাকলেও বাড়তি দাম চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রয়োজনের সময় গ্যাস না পেয়ে এক বাজার থেকে অন্য বাজারে ছুটতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রান্নার কাজে এলপিজি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন তারা। সংকটের পাশাপাশি বাড়তি দাম নেওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করছেন।

মাধবপুরের বাসিন্দা রিনা বেগম বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে গ্যাস সিলিন্ডার দিয়েই রান্না করি। তিন দিন ধরে গ্যাস শেষ হয়ে গেছে। বাজারে খুঁজেও পাচ্ছি না। কোথাও পাওয়া গেলেও দাম অনেক বেশি। সংসার চালাতেই কষ্ট হচ্ছে, এত বেশি দামে গ্যাস কেনা সম্ভব নয়।’

কামাল মিয়া নামে আরেক গ্রাহক বলেন, ‘আগে বাজারে গেলেই গ্যাস পাওয়া যেত। এখন দোকানে গেলে বলে গ্যাস নেই। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পাওয়া গেলেও দাম চায় দ্বিগুণের কাছাকাছি।’

খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, তারা ইচ্ছা করে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন না। ডিলারদের কাছ থেকেই বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে বলে তাদের বক্তব্য। ফলে নির্ধারিত দামে বিক্রি করলে লোকসান হচ্ছে।

মাধবপুর বাজারের ব্যবসায়ী রমেশ কৈরী বলেন, ‘কোম্পানি থেকে নিয়মিত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। সরবরাহ কম থাকায় কিছু ব্যবসায়ী বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন।’

ডিলারদেরও দাবি, তারা কোম্পানির কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পাচ্ছেন না। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজারের সংকট পুরোপুরি কাটছে না বলে তারা জানান।

দেশজুড়েও সাম্প্রতিক সময়ে এলপিজি সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে এমন অভিযোগ উঠেছে। ২৮ সেপ্টেম্বর জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে আমদানিকারক ও অপারেটররা দেশে এলপিজির সংকট নেই বলে দাবি করলেও গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ ঘাটতি না রাখার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

৩০ সেপ্টেম্বর দেশের কোথাও এলপিজির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে ৩ অক্টোবরও এলপিজি সরবরাহ সংকট ও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ নিয়ে আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জ্বালানি মন্ত্রী।

মাধবপুরের গ্রাহকদের অভিযোগ, সংকটের সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি করতে না পারে, সে জন্য বাজারে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান প্রয়োজন।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘এলপিজি গ্যাসের সংকটের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রায় ২০ দিন ধরে চলা এ সংকটে মাধবপুরে রান্নার অন্যতম প্রধান জ্বালানি এলপিজি গ্যাস নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন গ্রাহকরা। সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।