ঢাকা ১১:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা, ভূমিধসের শঙ্কা ৫ জেলায় Logo আইজিপির সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, পুলিশি সহযোগিতা জোরদারে আলোচনা Logo প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর নিয়ে আগামীকাল সংবাদ সম্মেলন Logo কৃষি কর্মকর্তার পরিদর্শনে প্রশংসিত লাখাইয়ের কৃষকদের কচুরিপানা অপসারণ যন্ত্র Logo হাইমচরে ইয়াবাসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার Logo লাখাইয়ে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সাড়ে ১৮ লাখ টাকা পাচ্ছেন সিংহগ্রামের ৭৩৩ প্রান্তিক কৃষক Logo লাখাইয়ে পোনা নিধন বন্ধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জেলা প্রশাসকের Logo নাসিরনগরে এক মাসে ১০ প্রাণহানি, উদ্বেগ-আতঙ্কে এলাকাবাসী Logo মাধবপুরে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের অভিযোগে সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা Logo মাধবপুরে পুকুরে গোসলে নেমে মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু

মাধবপুরে ৫ কোটি ২৬ লাখ টাকার আইসিটি কেন্দ্র, ৮ বছরেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ

Oplus_16908288

জালাল উদ্দিন লস্কর, স্টাফ রিপোর্টার:
হবিগঞ্জের মাধবপুরে ৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলা তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা সম্পদ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আট বছরেও শেষ হয়নি অবকাঠামোগত কাজ। ২০১৮ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কেন্দ্রটি চালু হয়নি। এতে উপজেলার মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

শিক্ষকদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা এবং শিক্ষাতথ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক করার লক্ষ্যে নেওয়া সরকারের এ প্রকল্পে মাধবপুরে একটি প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা সম্পদ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় কম্পিউটার কক্ষ, তথ্যকেন্দ্র, সার্ভার কক্ষ, সভাকক্ষসহ বিভিন্ন সুবিধা থাকার কথা।
সরকারি দরপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভবন নির্মাণ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ ও স্থাপনসহ সংশ্লিষ্ট কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে ২০ মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের কয়েক গুণ পেরিয়ে গেলেও মাধবপুরের কেন্দ্রটির কাজ শেষ হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) ও দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের মূল ঠিকাদার হিসেবে রয়েছে বিওএফ কোরিয়া।

২০১৮ সালে কেন্দ্রটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও দীর্ঘ সময় নির্মাণকাজে তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি। ২০২২ সালের মার্চে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) সংশ্লিষ্টদের কাছে নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য চেয়ে চিঠি দেয়। এরপরও কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রটির কাজ কার্যত থমকে ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বর্তমানে কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ আবার চলমান রয়েছে। ট্রাস্টেড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি নামের একটি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে কাজ করছে।

প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী রকিবুল ইসলাম রোমান বলেন, ‘আমরা জুন মাসে এখানে এসে কাজ শুরু করেছি। আমরা এসে শুধু ভবনের ভিত্তির কাজ সম্পন্ন অবস্থায় পেয়েছি। আমাদের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।’ সময়ের সঙ্গে প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠানটির সাইট প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম সাগর জানান, প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে। তবে নতুন ব্যয়বরাদ্ধ কত , সে তথ্য তিনি জানাতে চাননি।

মাধবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলামের কাছে নির্মাণকাজের অগ্রগতি ও দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে জানতে চেয়েও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘আগে কী হয়েছে, না হয়েছে সেদিকে যাব না। তবে এখন যেহেতু কাজ চলমান আছে, তাই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই যাতে নির্মাণকাজ শেষ হয়, সেদিকে নজর রাখব।’

প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল নিয়েও সরকারি বিভিন্ন নথিতে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। একটি সরকারি তথ্যে প্রকল্পের সময়কাল ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। আবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রকল্প তালিকায় বাস্তবায়নকাল ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেখানো হয়েছে।

মাধবপুরে প্রকল্পটির আওতায় ২৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাতটি মাদ্রাসা ও দুটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা। কিন্তু কেন্দ্রের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিনেও শেষ না হওয়ায় এর সুফল থেকে শিক্ষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, যেখানে নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য ২০ মাস সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেখানে একটি উপজেলা পর্যায়ের কেন্দ্র নির্মাণে এত দীর্ঘ সময় লাগল কেন? দীর্ঘসূত্রতার জন্য দায়ী কে, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং সময় বাড়ার কারণে প্রকল্প ব্যয় কতটা বেড়েছে—এসব বিষয়ও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা গেলে মাধবপুরের শিক্ষকদের তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষতা উন্নয়ন ও শিক্ষাতথ্য ব্যবস্থাপনায় এর সুফল পাওয়া সম্ভব হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

বাংলার খবর
জনপ্রিয় সংবাদ

ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা, ভূমিধসের শঙ্কা ৫ জেলায়

error:

মাধবপুরে ৫ কোটি ২৬ লাখ টাকার আইসিটি কেন্দ্র, ৮ বছরেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ

আপডেট সময় ০২:১০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জালাল উদ্দিন লস্কর, স্টাফ রিপোর্টার:
হবিগঞ্জের মাধবপুরে ৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলা তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা সম্পদ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আট বছরেও শেষ হয়নি অবকাঠামোগত কাজ। ২০১৮ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কেন্দ্রটি চালু হয়নি। এতে উপজেলার মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

শিক্ষকদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা এবং শিক্ষাতথ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক করার লক্ষ্যে নেওয়া সরকারের এ প্রকল্পে মাধবপুরে একটি প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা সম্পদ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় কম্পিউটার কক্ষ, তথ্যকেন্দ্র, সার্ভার কক্ষ, সভাকক্ষসহ বিভিন্ন সুবিধা থাকার কথা।
সরকারি দরপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভবন নির্মাণ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ ও স্থাপনসহ সংশ্লিষ্ট কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে ২০ মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের কয়েক গুণ পেরিয়ে গেলেও মাধবপুরের কেন্দ্রটির কাজ শেষ হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) ও দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের মূল ঠিকাদার হিসেবে রয়েছে বিওএফ কোরিয়া।

২০১৮ সালে কেন্দ্রটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও দীর্ঘ সময় নির্মাণকাজে তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি। ২০২২ সালের মার্চে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) সংশ্লিষ্টদের কাছে নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য চেয়ে চিঠি দেয়। এরপরও কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রটির কাজ কার্যত থমকে ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বর্তমানে কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ আবার চলমান রয়েছে। ট্রাস্টেড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি নামের একটি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে কাজ করছে।

প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী রকিবুল ইসলাম রোমান বলেন, ‘আমরা জুন মাসে এখানে এসে কাজ শুরু করেছি। আমরা এসে শুধু ভবনের ভিত্তির কাজ সম্পন্ন অবস্থায় পেয়েছি। আমাদের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।’ সময়ের সঙ্গে প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠানটির সাইট প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম সাগর জানান, প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে। তবে নতুন ব্যয়বরাদ্ধ কত , সে তথ্য তিনি জানাতে চাননি।

মাধবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলামের কাছে নির্মাণকাজের অগ্রগতি ও দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে জানতে চেয়েও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘আগে কী হয়েছে, না হয়েছে সেদিকে যাব না। তবে এখন যেহেতু কাজ চলমান আছে, তাই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই যাতে নির্মাণকাজ শেষ হয়, সেদিকে নজর রাখব।’

প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল নিয়েও সরকারি বিভিন্ন নথিতে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। একটি সরকারি তথ্যে প্রকল্পের সময়কাল ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। আবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রকল্প তালিকায় বাস্তবায়নকাল ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেখানো হয়েছে।

মাধবপুরে প্রকল্পটির আওতায় ২৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাতটি মাদ্রাসা ও দুটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা। কিন্তু কেন্দ্রের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিনেও শেষ না হওয়ায় এর সুফল থেকে শিক্ষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, যেখানে নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য ২০ মাস সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেখানে একটি উপজেলা পর্যায়ের কেন্দ্র নির্মাণে এত দীর্ঘ সময় লাগল কেন? দীর্ঘসূত্রতার জন্য দায়ী কে, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং সময় বাড়ার কারণে প্রকল্প ব্যয় কতটা বেড়েছে—এসব বিষয়ও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা গেলে মাধবপুরের শিক্ষকদের তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষতা উন্নয়ন ও শিক্ষাতথ্য ব্যবস্থাপনায় এর সুফল পাওয়া সম্ভব হবে।