
জালাল উদ্দিন লস্কর,স্টাফ রিপোর্টার:
দক্ষিণ কোরিয়ার সিংইয়ংজু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে টিউশন ফি পরিশোধের পরও ভিসা না পাওয়া ২২৫ শিক্ষার্থীর টাকা ফেরতের আইনি লড়াইয়ে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। তাদের সঙ্গে আরও ১৮ শিক্ষার্থীকে যুক্ত করে মোট ২৪৩ জনের পাওনা টাকা ফেরতের দাবিতে কোরিয়ার রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টে ক্লেইম দাখিল করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দেউগু রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টে বাংলাদেশি আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম ও স্থানীয় কোরিয়ান আইনজীবীর সমন্বয়ে এসব ক্লেইম দাখিল করা হয়।
জানা গেছে, সিংইয়ংজু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে টিউশন ফি পরিশোধের পর ভিসা না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা জটিলতার মধ্যে পড়েন। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টি আর্থিক সংকটে পড়ে দেউলিয়া কার্যক্রমের দিকে এগিয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের পরিশোধ করা টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
তবে গত ২৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেউলিয়া কার্যক্রমের পরিবর্তে রিহ্যাবিলিটেশন কার্যক্রমের জন্য আদালতে আবেদন করে। আদালত আবেদন গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়টি রিহ্যাবিলিটেশন প্রক্রিয়ার অধীনে চলে যায়।
এরপর শিক্ষার্থীদের পক্ষে নিয়োজিত কোরিয়ান আইনজীবীর পরামর্শে রিহ্যাবিলিটেশন কোর্টেই টাকা ফেরতের দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম। পরে কোরিয়ান আইনজীবীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়।
শুক্রবার প্রথম দফার ২২৫ শিক্ষার্থীর পাশাপাশি আরও ১৮ শিক্ষার্থীর পক্ষেও ক্লেইম দাখিল করা হয়েছে। ফলে মোট ২৪৩ শিক্ষার্থীর টাকা ফেরতের দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতের সামনে উপস্থাপিত হলো। অনলাইনে ক্লেইম দাখিলের পাশাপাশি আদালতের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় হার্ড কপিও জমা দেওয়া হয়েছে।
অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, “নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ আদালতে শিক্ষার্থীদের ক্লেইম দাখিল করা হয়েছে। এখন আদালতের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম চলবে। আইন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বৈধ পাওনা আদায়ে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব।”
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অন্যান্য পাওনাদারেরও অর্থ পাওনা রয়েছে। ফলে আদালত সব পাওনাদারের দাবি আইন অনুযায়ী বিবেচনা করবে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত পেতে সময় লাগতে পারে।
এখন আদালত দাখিল করা ক্লেইমগুলো পর্যালোচনা করবে। পরবর্তী শুনানি ও আইনি কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের পক্ষে কোরিয়ান আইনজীবী দায়িত্ব পালন করবেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ২৪৩ শিক্ষার্থীর ক্লেইম আদালতে দাখিলের মধ্য দিয়ে টাকা ফেরতের দাবিটি আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা কত টাকা এবং কখন ফেরত পাবেন, তা আদালতের সিদ্ধান্ত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক অবস্থার ওপর নির্ভর করবে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 
























