ঢাকা ১০:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুরে পুলিশের অভিযানে ৩ চোরাই গরু উদ্ধার, দুই যুবক আটক Logo বাসসের নতুন এমডি ও প্রধান সম্পাদক হলেন মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরী Logo নবাগত ইউএনও-ওসির সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের মতবিনিময় Logo হবিগঞ্জের দায়িত্বে মুক্তাদির, মৌলভীবাজারে আরিফ; সিলেট ও সুনামগঞ্জ দেখবেন জি কে গউছ Logo ৬৪ জেলার দেখভালে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপ, জেনে নিন কার দায়িত্বে কোন জেলা Logo নাসিরনগরে হরিপুর দরবার শরিফের উদ্যোগে জশনে জুলুস ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি Logo আপিল বিভাগে নতুন বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি Logo মাধবপুরের ৭৭ স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই, ৬৪ সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য Logo দক্ষিণ করাব পীতবসন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত নাজমুল হক সুমন Logo পুলিশের ১৪ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন

হবিগঞ্জের দায়িত্বে মুক্তাদির, মৌলভীবাজারে আরিফ; সিলেট ও সুনামগঞ্জ দেখবেন জি কে গউছ

বাংলার খবর ডেস্ক
দেশের ৬৪ জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি কার্যক্রমের সার্বিক তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে। দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে কেউ একটি, আবার কেউ দুই বা তিনটি জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টি জানানো হয়।
সিলেট বিভাগের চার জেলার মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকে হবিগঞ্জ জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মৌলভীবাজারের দায়িত্ব পেয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী। অন্যদিকে জাতীয় সংসদের হুইপ মো. জি কে গউছের ওপর সিলেট ও সুনামগঞ্জ—দুই জেলার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অতীতের বিভিন্ন সময়ে দেশের নানা জেলায় উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ দেওয়া হলেও দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে এবং দেশের ভেতরে থাকা অর্থের কিছু অংশ মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে জেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ এবং কার্যপ্রণালি বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
দায়িত্ব বণ্টনের তালিকা অনুযায়ী, ইকবাল হাসান মাহমুদকে রাজশাহী ও নাটোর, আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়, আবদুল আউয়াল মিন্টুকে লক্ষ্মীপুর এবং নিতাই রায় চৌধুরীকে চুয়াডাঙ্গা জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি চট্টগ্রাম, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা, আসাদুল হাবিব দুলু ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর এবং মো. আসাদুজ্জামান খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার দায়িত্ব পালন করবেন।
জাকারিয়া তাহের পেয়েছেন ফেনী ও নোয়াখালীর দায়িত্ব। সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ, সাচিং প্রু কক্সবাজার এবং মো. শরীফুল আলম টাঙ্গাইল ও নরসিংদী জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।
শামা ওবায়েদ ইসলাম দেখভাল করবেন মাদারীপুর ও শরীয়তপুর। অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের দায়িত্বে মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ। আব্দুল বারীকে বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং সুলতান সালাউদ্দিনকে ঢাকা জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পার্বত্য তিন জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে। হাবিবুর রশিদকে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ, মো. রাজীব আহসানকে বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর এবং মীর শাহে আলমকে রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফারজানা শারমিন পেয়েছেন সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার দায়িত্ব। শেখ ফরিদুল ইসলাম যশোর, মাগুরা ও নড়াইল; ইমরান খান চৌধুরী জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ এবং আহমেদ সোহেল মঞ্জু বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি জেলার দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া মোহাম্মদ শামীম কায়সারকে জয়পুরহাট ও নওগাঁ, মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদকে রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি দপ্তরগুলোকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। পাশাপাশি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি করবেন। প্রয়োজন হলে জেলার বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরামর্শও দিতে পারবেন।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুরে পুলিশের অভিযানে ৩ চোরাই গরু উদ্ধার, দুই যুবক আটক

error:

হবিগঞ্জের দায়িত্বে মুক্তাদির, মৌলভীবাজারে আরিফ; সিলেট ও সুনামগঞ্জ দেখবেন জি কে গউছ

আপডেট সময় ০৮:৪২:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

বাংলার খবর ডেস্ক
দেশের ৬৪ জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি কার্যক্রমের সার্বিক তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে। দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে কেউ একটি, আবার কেউ দুই বা তিনটি জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টি জানানো হয়।
সিলেট বিভাগের চার জেলার মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকে হবিগঞ্জ জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মৌলভীবাজারের দায়িত্ব পেয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী। অন্যদিকে জাতীয় সংসদের হুইপ মো. জি কে গউছের ওপর সিলেট ও সুনামগঞ্জ—দুই জেলার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অতীতের বিভিন্ন সময়ে দেশের নানা জেলায় উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ দেওয়া হলেও দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে এবং দেশের ভেতরে থাকা অর্থের কিছু অংশ মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে জেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ এবং কার্যপ্রণালি বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
দায়িত্ব বণ্টনের তালিকা অনুযায়ী, ইকবাল হাসান মাহমুদকে রাজশাহী ও নাটোর, আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়, আবদুল আউয়াল মিন্টুকে লক্ষ্মীপুর এবং নিতাই রায় চৌধুরীকে চুয়াডাঙ্গা জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি চট্টগ্রাম, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা, আসাদুল হাবিব দুলু ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর এবং মো. আসাদুজ্জামান খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার দায়িত্ব পালন করবেন।
জাকারিয়া তাহের পেয়েছেন ফেনী ও নোয়াখালীর দায়িত্ব। সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ, সাচিং প্রু কক্সবাজার এবং মো. শরীফুল আলম টাঙ্গাইল ও নরসিংদী জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।
শামা ওবায়েদ ইসলাম দেখভাল করবেন মাদারীপুর ও শরীয়তপুর। অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের দায়িত্বে মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ। আব্দুল বারীকে বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং সুলতান সালাউদ্দিনকে ঢাকা জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পার্বত্য তিন জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে। হাবিবুর রশিদকে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ, মো. রাজীব আহসানকে বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর এবং মীর শাহে আলমকে রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফারজানা শারমিন পেয়েছেন সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার দায়িত্ব। শেখ ফরিদুল ইসলাম যশোর, মাগুরা ও নড়াইল; ইমরান খান চৌধুরী জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ এবং আহমেদ সোহেল মঞ্জু বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি জেলার দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া মোহাম্মদ শামীম কায়সারকে জয়পুরহাট ও নওগাঁ, মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদকে রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি দপ্তরগুলোকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। পাশাপাশি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি করবেন। প্রয়োজন হলে জেলার বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরামর্শও দিতে পারবেন।