
জালাল উদ্দীন লস্কর, স্টাফ রিপোর্টার:
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী সাবেক শিক্ষার্থী এবং জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি উচ্চশিক্ষার জন্য প্রায় ৭৪ লাখ টাকা (৬০ হাজার মার্কিন ডলার) মূল্যের বৃত্তি পেয়েছেন। চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে (AUW) পড়াশোনার জন্য তিনি এ বৃত্তি লাভ করেন।
চার বছর মেয়াদি এ বৃত্তির আওতায় প্রতি বছর জেমি ১৫ হাজার মার্কিন ডলার করে পাবেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির পরিচালক মৌরি রহমান চিঠির মাধ্যমে জান্নাতুল ফেরদৌস জেমিকে বৃত্তি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জেমির বৃত্তি পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে জহুর চান বিবি মহিলা কলেজ ও শায়েস্তাগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়। তাঁর এ সাফল্যে হবিগঞ্জসহ সিলেট অঞ্চলের মানুষের মধ্যেও গর্ব ও আনন্দ দেখা দিয়েছে।
জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করার পর শায়েস্তাগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে তিনি নিয়মিতভাবে মেধার স্বাক্ষর রাখেন। শিক্ষকরাও তাঁর ভালো ফলাফলের জন্য বিভিন্নভাবে সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়েছেন।
২০২৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের পর জেমি জহুর চান বিবি মহিলা কলেজে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন। পরে ২০২৫ সালে তিনি ওই কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
জেমি শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম লেঞ্জাপাড়া গ্রামের মো. আফজাল আলীর বড় মেয়ে এবং পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মো. নোয়াব আলীর ভাতিজি। দরিদ্র পরিবারের সন্তান জেমির বাবা আফজাল আলী দাউদনগর বাজার রেলগেটের উত্তর পাশে সিএনজি স্ট্যান্ডের পূর্ব দিকে মোহন মিয়া মার্কেটের সামনে ছোট পান-সিগারেটের দোকান পরিচালনা করে পরিবার চালানোর পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে আসছেন।
পরিবারের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও জেমি পড়াশোনা চালিয়ে যান। এ ক্ষেত্রে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও অধ্যক্ষের সহযোগিতা তাঁর শিক্ষাজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাঁর ছোট ভাই বর্তমানে শায়েস্তাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে অধ্যয়নরত।
জানা যায়, গত ২০ জুলাই থেকে জেমি শেভরন বাংলাদেশের সহায়তায় পরিচালিত এক মাসের সামার স্কুল প্রোগ্রামে অংশ নেন। বিজ্ঞানভিত্তিক ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তাঁর জন্য সহজ ছিল না। তবে নিজের আগ্রহ, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি সফলভাবে প্রোগ্রামটি সম্পন্ন করেন।
সামার স্কুল প্রোগ্রাম সফলভাবে শেষ করার পর শেভরন বাংলাদেশের সহায়তায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি। তাঁর এই অর্জন পরিবারের দীর্ঘদিনের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি এলাকার অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 

























