
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে এক ফল ব্যবসায়ীর মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল মিয়ার বিরুদ্ধে। সিসিটিভি ফুটেজে ফোনটি নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ী। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য ওই ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাটি শনিবার রাতে আজমিরীগঞ্জ বাজারের রাজিব আহমেদের ফলের দোকানে ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, এসআই রাসেল ওই দোকানে গিয়ে পেয়ারা ও লটকন কেনেন। এ সময় দোকানের টেবিলের ওপর ব্যবসায়ী রাজিবের একটি কালো রঙের স্মার্টফোন রাখা ছিল।
ফুটেজে দেখা যায়, ফল কেনার পরও কিছু সময় দোকানে অবস্থান করেন এসআই রাসেল। একপর্যায়ে হাতে থাকা একটি ফাইল ও নিজের লাল রঙের মোবাইল ফোনটি টেবিলে রাখা ব্যবসায়ীর ফোনের ওপর রাখেন তিনি। পরে কথোপকথনের সময় দুটি ফোনই নিজের পকেটে ঢুকিয়ে নেন বলে ফুটেজে দেখা যায়। এরপর ফলের ব্যাগ নিয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে যান তিনি।
পরে নিজের মোবাইল ফোন খুঁজে না পেয়ে দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন ব্যবসায়ী রাজিব। সেখানে এসআই রাসেলকে ফোনটি নিয়ে যেতে দেখা যায় বলে দাবি করেন তিনি। এরপর ব্যবসায়ী ফোনটি ফেরত চাইলে প্রথমে ফোন নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা হয় বলে অভিযোগ করেন রাজিব।
পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজের বিষয়টি জানানো হলে গভীর রাতে ফোনটি ফেরত না দিয়ে রাজিবকে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এসআই রাসেল ভুলবশত ফোনটি নিয়ে গেছেন বলে দাবি করেন বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
ব্যবসায়ী রাজিব বলেন, বিষয়টির মীমাংসা হয়েছে। এসআই রাসেল ফোনটি নিয়ে হারিয়ে ফেলেছেন জানিয়ে তাকে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছেন।
এদিকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কথা জানিয়েছেন আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর হোসেন। তিনি এসআই রাসেলকে থানা থেকে প্রত্যাহারের সুপারিশ করে পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এসআই রাসেল মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ওসি আকবর হোসেন জানান, ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকলেও ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। এসআই রাসেল ১৫ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাকে প্রত্যাহার করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
বাংলার খবর ডেস্ক : 

























