ঢাকা ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ Logo হৃদরোগ নাকি বিষাক্ত মদ? লাখাইয়ে ৬ জনের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য Logo হবিগঞ্জে ৫৫ বিজিবির পৃথক অভিযানে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ Logo বাহুবলে ইউএনও উজ্জ্বল রায়ের মোবাইল কোর্ট: মাদকবিরোধী অভিযানে দুইজনের কারাদণ্ড Logo বাহুবলে পূর্ব জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তদন্তে গড়িমসি, প্রশ্নের মুখে শিক্ষা বিভাগ Logo নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন থেকে ছিনতাইকৃত ২ মোবাইল উদ্ধার, আটক ২ Logo মাধবপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফল ৬ আগস্ট Logo হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি Logo হবিগঞ্জ ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে এনসিপির মামলা Logo লাখাইয়ে সরকারি বই পাচার মামলার সুরাহা কবে? দুদকের ধীরগতিতে জনমনে চরম ক্ষোভ

শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশের গাড়িবহরে হামলা, আহত অন্তত ৩০

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ভুট্টাক্ষেত থেকে সাত বছর বয়সী এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে আটকের পর তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে পুলিশের গাড়িবহরে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে নন্দিনী রানী (৭) নামে এক শিশুর মাটিচাপা দেওয়া বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত নন্দিনী স্থানীয় ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কৃষক নলনী বর্মণের মেয়ে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার বিকেল থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে নেমে পুলিশ শিশুটির পারিবারিক সম্পর্কের চাচা বিধান (১৯)কে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করে এবং ঘটনাস্থল থেকে আটক করে। তবে তাকে থানায় নেওয়ার সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের পথরোধ করে এবং অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্য নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয়দের শান্ত করার চেষ্টা করা হলেও আসামিকে নিয়ে ফেরার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা প্রশাসনের গাড়িবহর লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

এতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও ইউএনওর ব্যবহৃত সরকারি গাড়িসহ বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য ও এলাকাবাসীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান বলেন, আসামিকে নিয়ে ফেরার সময় অতর্কিত হামলার ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি সরকারি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা এবং পুলিশের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় মামলা করা হবে। তিনি আরও জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ

error:

শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশের গাড়িবহরে হামলা, আহত অন্তত ৩০

আপডেট সময় ০৮:১৯:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ভুট্টাক্ষেত থেকে সাত বছর বয়সী এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে আটকের পর তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে পুলিশের গাড়িবহরে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে নন্দিনী রানী (৭) নামে এক শিশুর মাটিচাপা দেওয়া বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত নন্দিনী স্থানীয় ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কৃষক নলনী বর্মণের মেয়ে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার বিকেল থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে নেমে পুলিশ শিশুটির পারিবারিক সম্পর্কের চাচা বিধান (১৯)কে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করে এবং ঘটনাস্থল থেকে আটক করে। তবে তাকে থানায় নেওয়ার সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের পথরোধ করে এবং অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্য নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয়দের শান্ত করার চেষ্টা করা হলেও আসামিকে নিয়ে ফেরার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা প্রশাসনের গাড়িবহর লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

এতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও ইউএনওর ব্যবহৃত সরকারি গাড়িসহ বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য ও এলাকাবাসীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান বলেন, আসামিকে নিয়ে ফেরার সময় অতর্কিত হামলার ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি সরকারি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা এবং পুলিশের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় মামলা করা হবে। তিনি আরও জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।