ঢাকা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক বন্ধ এনআইডি সার্ভার Logo লাখাইয়ে তারেক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সায়েল মিয়া গ্রেপ্তার Logo নাসিরনগরের ফান্দাউকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মালেক শাহকে ঘিরে আলোচনা Logo হাইমচরে পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল Logo হাইমচরে মেম্বার প্রার্থী আবদুর রহমান পাটওয়ারীর উঠান বৈঠক Logo মনতলা কলেজে মাহবুব স্যারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল Logo এলপি গ্যাসের দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর দাবি, বৃহস্পতিবার বিইআরসির গণশুনানি Logo লাখাইয়ে কীটনাশক দিয়ে সাড়ে ৪ কানি টমেটো ক্ষেত নষ্টের অভিযোগ, ক্ষতির মুখে কৃষক-শ্রমিক Logo পুষ্পমাল্য, সম্মাননা ও উপহারে সজ্জিত গাড়িতে বাড়ি ফিরলেন শিক্ষক তহুরা বেগম Logo মজুরি দাবিতে পাঁচ চা বাগানে কর্মবিরতি, মালিকপক্ষের দাবি অর্থসংকট

দৃষ্টি নেই তবু হাতের ছোঁয়ায় ফুটে ওঠে কাঠের কারুকাজ: অদম্য লখাইয়ের রুবেলের গল্প

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:

চোখে দেখেন না এক বিন্দু আলো, কিন্তু হাতের স্পর্শে কাঠের রুক্ষ শরীর হয়ে ওঠে মসৃণ ও নিখুঁত। অন্ধত্ব যাকে থামিয়ে দিতে চেয়েছিল জীবন থেকে, সেই রুবেল মিয়া আজ স্বাবলম্বী হওয়ার এক অনন্য উদাহরণ। নিজের কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে তিনি গড়ে তুলেছেন সম্মানের জায়গা—ফার্নিচারের পালিশ কারিগর হিসেবে।

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বামৈ গ্রামের মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়ার পুত্র রুবেল মিয়া (২৫)। শৈশবে কিছুটা ঝাপসা দেখলেও আট-দশ বছর আগে তিনি পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তি হারান। চারপাশ অন্ধকার হয়ে এলেও হতাশার কাছে হার মানেননি রুবেল। তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন—কারও বোঝা হয়ে নয়, নিজের পায়ে দাঁড়াবেন।

রুবেলের ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে ছিল বন্ধুর সহায়তা ও তার বড় ভাইয়ের অকুণ্ঠ সমর্থন। চার-পাঁচ বছর আগে বন্ধুর ফার্নিচার দোকানে যাতায়াত শুরু করেন তিনি। সেখানে হাতে-কলমে ফার্নিচারের কাজ শেখানো হয় তাকে। ধীরে ধীরে আয়ত্ত করেন নকশা ঘষা ও পালিশের সূক্ষ্ম কৌশল।

বর্তমানে রুবেল কালাউক বাজারের ‘মায়ের দোয়া ফার্নিচার’ দোকানে কাজ করছেন। মাসিক ১০ হাজার টাকা বেতনে তিনি ফার্নিচারের নকশা পালিশের দায়িত্ব পালন করেন। কাঠের সূক্ষ্ম কারুকাজ কোথায় কতটুকু ঘষা দরকার—চোখ ছাড়াই হাতের স্পর্শে তা নিখুঁতভাবে বুঝে নেন তিনি।

রুবেল বলেন, “আমি কারও বোঝা হয়ে থাকতে চাইনি। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্যই কাজ শিখেছি। মাসে ১০ হাজার টাকা আয় করি, এতেই আমার শান্তি।”

মায়ের দোয়া ফার্নিচারের মালিক মনসুর আহমেদ বলেন, রুবেলের কাজে কোনো ত্রুটি নেই। তিনি জানান, “অন্য দশজন স্বাভাবিক মানুষ যে সময়ে কাজ শেষ করে, রুবেলও ঠিক ততটাই দ্রুত ও নিখুঁতভাবে কাজ করে।”

সহকর্মীরাও রুবেলের কাজে মুগ্ধ। তাদের ভাষ্য, ফার্নিচারের নকশা ঘষা ও পালিশে তার দক্ষতা এতটাই নিখুঁত যে প্রথম দেখায় বোঝার উপায় নেই—তিনি চোখে দেখতে পান না।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে কখনো অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে বাধা হতে পারে না, রুবেল মিয়া তার জীবন্ত প্রমাণ। তার সংগ্রাম আর সাফল্যের গল্প এখন লাখাই উপজেলার অনেক তরুণের জন্য অনুপ্রেরণার নাম।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক বন্ধ এনআইডি সার্ভার

error:

দৃষ্টি নেই তবু হাতের ছোঁয়ায় ফুটে ওঠে কাঠের কারুকাজ: অদম্য লখাইয়ের রুবেলের গল্প

আপডেট সময় ১১:৫৭:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:

চোখে দেখেন না এক বিন্দু আলো, কিন্তু হাতের স্পর্শে কাঠের রুক্ষ শরীর হয়ে ওঠে মসৃণ ও নিখুঁত। অন্ধত্ব যাকে থামিয়ে দিতে চেয়েছিল জীবন থেকে, সেই রুবেল মিয়া আজ স্বাবলম্বী হওয়ার এক অনন্য উদাহরণ। নিজের কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে তিনি গড়ে তুলেছেন সম্মানের জায়গা—ফার্নিচারের পালিশ কারিগর হিসেবে।

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বামৈ গ্রামের মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়ার পুত্র রুবেল মিয়া (২৫)। শৈশবে কিছুটা ঝাপসা দেখলেও আট-দশ বছর আগে তিনি পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তি হারান। চারপাশ অন্ধকার হয়ে এলেও হতাশার কাছে হার মানেননি রুবেল। তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন—কারও বোঝা হয়ে নয়, নিজের পায়ে দাঁড়াবেন।

রুবেলের ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে ছিল বন্ধুর সহায়তা ও তার বড় ভাইয়ের অকুণ্ঠ সমর্থন। চার-পাঁচ বছর আগে বন্ধুর ফার্নিচার দোকানে যাতায়াত শুরু করেন তিনি। সেখানে হাতে-কলমে ফার্নিচারের কাজ শেখানো হয় তাকে। ধীরে ধীরে আয়ত্ত করেন নকশা ঘষা ও পালিশের সূক্ষ্ম কৌশল।

বর্তমানে রুবেল কালাউক বাজারের ‘মায়ের দোয়া ফার্নিচার’ দোকানে কাজ করছেন। মাসিক ১০ হাজার টাকা বেতনে তিনি ফার্নিচারের নকশা পালিশের দায়িত্ব পালন করেন। কাঠের সূক্ষ্ম কারুকাজ কোথায় কতটুকু ঘষা দরকার—চোখ ছাড়াই হাতের স্পর্শে তা নিখুঁতভাবে বুঝে নেন তিনি।

রুবেল বলেন, “আমি কারও বোঝা হয়ে থাকতে চাইনি। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্যই কাজ শিখেছি। মাসে ১০ হাজার টাকা আয় করি, এতেই আমার শান্তি।”

মায়ের দোয়া ফার্নিচারের মালিক মনসুর আহমেদ বলেন, রুবেলের কাজে কোনো ত্রুটি নেই। তিনি জানান, “অন্য দশজন স্বাভাবিক মানুষ যে সময়ে কাজ শেষ করে, রুবেলও ঠিক ততটাই দ্রুত ও নিখুঁতভাবে কাজ করে।”

সহকর্মীরাও রুবেলের কাজে মুগ্ধ। তাদের ভাষ্য, ফার্নিচারের নকশা ঘষা ও পালিশে তার দক্ষতা এতটাই নিখুঁত যে প্রথম দেখায় বোঝার উপায় নেই—তিনি চোখে দেখতে পান না।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে কখনো অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে বাধা হতে পারে না, রুবেল মিয়া তার জীবন্ত প্রমাণ। তার সংগ্রাম আর সাফল্যের গল্প এখন লাখাই উপজেলার অনেক তরুণের জন্য অনুপ্রেরণার নাম।