ঢাকা ০৩:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লাখাইয়ে পাশবিকতার চরম রূপ: মানসিক ভারসাম্যহীন নারী ৪ সন্তানের জননী, নেই কারো স্বীকৃতি Logo মাধবপুরের আন্দিউড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান মোত্তাকিম চৌধুরী Logo দেশবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানালেন বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি মোঃ জাহিদুল ইসলাম Logo দেশবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানালেন বাহুবল মডেল থানা-র ওসি মোঃ সাইফুল ইসলাম Logo চাঁদপুরের এক গ্রামে ৭ মুসল্লি নিয়ে ঈদ উদযাপন Logo আ.লীগের কার্যক্রম বন্ধ আছে, বন্ধ থাকবে: মির্জা ফখরুল Logo জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস, ক্ষমতার দাপট দেখালে রেহাই নেই: এমপি ফয়সল Logo সাংবাদিকদের কল্যাণে নানান উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: বাছির জামাল Logo মহাসড়কে চাঁদাবাজির অভিযোগে বাছির মিয়া আটক Logo মানবিক কাজে এগিয়ে সিমি কিবরিয়া, বদলে যাচ্ছে জনপদের চিত্র

নির্ভার নির্বাচনী সমীকরণে হবিগঞ্জ-৪

লেখক: মো: মাহমুদ হাসান

হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলা নিয়ে জাতীয় সংসদের ২৪২ নম্বর আসন হবিগঞ্জ-৪। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এ অঞ্চলটি রঘুনন্দন, রেমা, কালেঙ্গা, সাতছড়ির বনাঞ্চল, দৃষ্টিনন্দন চা-বাগান, খনিজ ও বনজ সম্পদের কারণে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হিসেবে পরিচিত। তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থা, পরিবেশ ও দীর্ঘদিনের উন্নয়নবঞ্চনা নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভও কম নয়।

২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে এ অঞ্চলের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকলেও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা যায়। সরকারি দলের প্রভাব উপেক্ষা করে ভোটযুদ্ধে নেমে পড়ে জনগণ। সে নির্বাচনে প্রভাবশালী মন্ত্রী মাহবুব আলীর বিপরীতে ব্যারিস্টার সুমন বিপুল ভোটে জয়ী হন। চা-শ্রমিকদের একটি বড় অংশ সেবার নৌকার বিপরীতে ঈগল প্রতীককে সমর্থন দেয়।

এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী না থাকায় রাজনৈতিক সমীকরণ ভিন্ন রূপ নিয়েছে। নয়জন প্রার্থীর কথা শোনা গেলেও মূল আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল ও সুন্নি জামাতের প্রার্থী মাওলানা তাহেরী। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ড. আহমদ আব্দুল কাদেরকে ঘিরে মাঠপর্যায়ে তেমন আলোচনা নেই।

হবিগঞ্জ-৪ আসনটি ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। চা-শ্রমিক ও সংখ্যালঘু ভোট বরাবরই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে এবার নৌকা প্রতীক না থাকায় চা-শ্রমিকদের ভোট কোন দিকে যাবে—তা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, বিকল্প না থাকায় এ ভোটের বড় অংশ বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ ফয়সলের দিকেই যেতে পারে।

সায়হাম শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের শিল্পায়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর পরিবারকেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী সামাজিক সমর্থন বলয় রয়েছে, যা দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে গিয়ে তাঁকে সমর্থন দিয়ে থাকে। ক্লিন ইমেজ ও দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পৃক্ততা এবারের নির্বাচনে তাঁকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।

অন্যদিকে মাওলানা তাহেরী একজন পরিচিত ইসলামী বক্তা হলেও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা তুলনামূলকভাবে কম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তাঁর অবস্থান শক্ত নয় বলে মনে করেন অনেকেই। চা-শ্রমিক ও সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যেও তাঁর প্রভাব সীমিত।

সবকিছু মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সলকে ঘিরেই নির্ভার নির্বাচনী সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। দীর্ঘদিনের ব্যর্থতা ও বয়সজনিত সহানুভূতিও তাঁর পক্ষে কাজ করছে। এমন বাস্তবতায় হবিগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকই শেষ পর্যন্ত প্রাধান্য পেতে পারে—এমন ইঙ্গিতই মিলছে সর্বত্র।

লেখক: কলামিস্ট ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষক

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাইয়ে পাশবিকতার চরম রূপ: মানসিক ভারসাম্যহীন নারী ৪ সন্তানের জননী, নেই কারো স্বীকৃতি

error:

নির্ভার নির্বাচনী সমীকরণে হবিগঞ্জ-৪

আপডেট সময় ১১:৩১:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

লেখক: মো: মাহমুদ হাসান

হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলা নিয়ে জাতীয় সংসদের ২৪২ নম্বর আসন হবিগঞ্জ-৪। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এ অঞ্চলটি রঘুনন্দন, রেমা, কালেঙ্গা, সাতছড়ির বনাঞ্চল, দৃষ্টিনন্দন চা-বাগান, খনিজ ও বনজ সম্পদের কারণে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হিসেবে পরিচিত। তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থা, পরিবেশ ও দীর্ঘদিনের উন্নয়নবঞ্চনা নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভও কম নয়।

২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে এ অঞ্চলের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকলেও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা যায়। সরকারি দলের প্রভাব উপেক্ষা করে ভোটযুদ্ধে নেমে পড়ে জনগণ। সে নির্বাচনে প্রভাবশালী মন্ত্রী মাহবুব আলীর বিপরীতে ব্যারিস্টার সুমন বিপুল ভোটে জয়ী হন। চা-শ্রমিকদের একটি বড় অংশ সেবার নৌকার বিপরীতে ঈগল প্রতীককে সমর্থন দেয়।

এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী না থাকায় রাজনৈতিক সমীকরণ ভিন্ন রূপ নিয়েছে। নয়জন প্রার্থীর কথা শোনা গেলেও মূল আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল ও সুন্নি জামাতের প্রার্থী মাওলানা তাহেরী। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ড. আহমদ আব্দুল কাদেরকে ঘিরে মাঠপর্যায়ে তেমন আলোচনা নেই।

হবিগঞ্জ-৪ আসনটি ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। চা-শ্রমিক ও সংখ্যালঘু ভোট বরাবরই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে এবার নৌকা প্রতীক না থাকায় চা-শ্রমিকদের ভোট কোন দিকে যাবে—তা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, বিকল্প না থাকায় এ ভোটের বড় অংশ বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ ফয়সলের দিকেই যেতে পারে।

সায়হাম শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের শিল্পায়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর পরিবারকেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী সামাজিক সমর্থন বলয় রয়েছে, যা দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে গিয়ে তাঁকে সমর্থন দিয়ে থাকে। ক্লিন ইমেজ ও দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পৃক্ততা এবারের নির্বাচনে তাঁকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।

অন্যদিকে মাওলানা তাহেরী একজন পরিচিত ইসলামী বক্তা হলেও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা তুলনামূলকভাবে কম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তাঁর অবস্থান শক্ত নয় বলে মনে করেন অনেকেই। চা-শ্রমিক ও সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যেও তাঁর প্রভাব সীমিত।

সবকিছু মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সলকে ঘিরেই নির্ভার নির্বাচনী সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। দীর্ঘদিনের ব্যর্থতা ও বয়সজনিত সহানুভূতিও তাঁর পক্ষে কাজ করছে। এমন বাস্তবতায় হবিগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকই শেষ পর্যন্ত প্রাধান্য পেতে পারে—এমন ইঙ্গিতই মিলছে সর্বত্র।

লেখক: কলামিস্ট ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষক