ঢাকা ০৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুরে দুই প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে বৃক্ষরোপণ করলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ Logo প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে ৪১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিচ্ছে সরকার Logo মাধবপুরে প্রাথমিক শিক্ষার বহুমাত্রিক কার্যক্রম পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ Logo যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান সিনেটে জয়ী আবদুল এল-সায়েদ, হতে যাচ্ছেন প্রথম মুসলিম সিনেটর Logo চা শ্রমিকদের অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নের অঙ্গীকারে চাঁন্দপুরে নিপেন পাল প্যানেলের মতবিনিময় Logo মাধবপুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মেঝেতে বসে পাঠদানে মেতে উঠলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ Logo জামালপুরে ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন Logo মাধবপুরে তিন বছর পর সেফটি ট্যাংক থেকে মিলল মহব্বত আলীর দেহাবশেষ, হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন Logo মাধবপুরে ফ্রিজ কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতল আদাঐর সালমান ট্রেডার্স একাদশ Logo ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ বাহিনীর পদবি পরিবর্তন, দফাদার হলেন ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’

মাধবপুরে টমেটো চাষে সংবাদকর্মীর সফলতা

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
শখের বশে টমেটো চাষ করে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজালালপুর গ্রামের সংবাদকর্মী হামিদুর রহমান। পেশায় সংবাদকর্মী হলেও কৃষির প্রতি গভীর আগ্রহ থেকে চলতি মৌসুমে তিনি ৪০ শতক জমিতে উচ্চফলনশীল জাতের টমেটো আবাদ করেন। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ অনুসরণ করায় অল্প সময়েই তার এই উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

চলতি মৌসুমে টমেটো চাষে হামিদুর রহমানের মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। কার্তিক মাসের শেষ দিকে তিনি মালচিং পদ্ধতিতে সারিবদ্ধভাবে টমেটোর চারা রোপণ করেন। জমি প্রস্তুত, সেচ, সার প্রয়োগ ও রোগবালাই দমনে তিনি কৃষি বিভাগের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করেন। বিশেষ করে জৈব সার ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়ায় ক্ষেতে কীটনাশকের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম ছিল, যা গাছের স্বাস্থ্য ও ফলনের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুরুতে অনেকেই ধারণা করেছিলেন একজন সংবাদকর্মী কৃষিকাজে তেমন সফল হতে পারবেন না। তবে নিয়মিত পরিচর্যা, আধুনিক কৌশল প্রয়োগ এবং সময়মতো তদারকির মাধ্যমে তিনি সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করেছেন। বর্তমানে তার ক্ষেতে আপেলের মতো আকৃতির টমেটো পাকতে শুরু করেছে। মৌসুমের শুরুতে বাজারে টমেটোর দাম ভালো থাকায় উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ স্বাভাবিক থাকলে উল্লেখযোগ্য লাভের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

হামিদুর রহমান বলেন, মাধবপুর উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে টমেটো চাষের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে আন্তরিকভাবে পরিচর্যা করায় তিনি ভালো ফলন পেয়েছেন। জৈব সার ব্যবহারের ফলে গাছ সুস্থ আছে এবং ফলনও সন্তোষজনক হচ্ছে বলে জানান তিনি।

চৌমুহনী উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কৃষি একটি বিজ্ঞানভিত্তিক কাজ। সঠিক জ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করলে যে কেউ কৃষিতে সফল হতে পারে। হামিদুর রহমান সময়মতো জমির পরিচর্যা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে ভালো ফলন পেয়েছেন।

মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকার জানান, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও উন্নত জাত ব্যবহার করলে কৃষিকে লাভজনক করা সম্ভব। হামিদুর রহমানের এই সফলতা স্থানীয় কৃষক ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুরে দুই প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে বৃক্ষরোপণ করলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

error:

মাধবপুরে টমেটো চাষে সংবাদকর্মীর সফলতা

আপডেট সময় ০৪:১৭:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
শখের বশে টমেটো চাষ করে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজালালপুর গ্রামের সংবাদকর্মী হামিদুর রহমান। পেশায় সংবাদকর্মী হলেও কৃষির প্রতি গভীর আগ্রহ থেকে চলতি মৌসুমে তিনি ৪০ শতক জমিতে উচ্চফলনশীল জাতের টমেটো আবাদ করেন। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ অনুসরণ করায় অল্প সময়েই তার এই উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

চলতি মৌসুমে টমেটো চাষে হামিদুর রহমানের মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। কার্তিক মাসের শেষ দিকে তিনি মালচিং পদ্ধতিতে সারিবদ্ধভাবে টমেটোর চারা রোপণ করেন। জমি প্রস্তুত, সেচ, সার প্রয়োগ ও রোগবালাই দমনে তিনি কৃষি বিভাগের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করেন। বিশেষ করে জৈব সার ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়ায় ক্ষেতে কীটনাশকের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম ছিল, যা গাছের স্বাস্থ্য ও ফলনের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুরুতে অনেকেই ধারণা করেছিলেন একজন সংবাদকর্মী কৃষিকাজে তেমন সফল হতে পারবেন না। তবে নিয়মিত পরিচর্যা, আধুনিক কৌশল প্রয়োগ এবং সময়মতো তদারকির মাধ্যমে তিনি সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করেছেন। বর্তমানে তার ক্ষেতে আপেলের মতো আকৃতির টমেটো পাকতে শুরু করেছে। মৌসুমের শুরুতে বাজারে টমেটোর দাম ভালো থাকায় উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ স্বাভাবিক থাকলে উল্লেখযোগ্য লাভের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

হামিদুর রহমান বলেন, মাধবপুর উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে টমেটো চাষের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে আন্তরিকভাবে পরিচর্যা করায় তিনি ভালো ফলন পেয়েছেন। জৈব সার ব্যবহারের ফলে গাছ সুস্থ আছে এবং ফলনও সন্তোষজনক হচ্ছে বলে জানান তিনি।

চৌমুহনী উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কৃষি একটি বিজ্ঞানভিত্তিক কাজ। সঠিক জ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করলে যে কেউ কৃষিতে সফল হতে পারে। হামিদুর রহমান সময়মতো জমির পরিচর্যা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে ভালো ফলন পেয়েছেন।

মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকার জানান, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও উন্নত জাত ব্যবহার করলে কৃষিকে লাভজনক করা সম্ভব। হামিদুর রহমানের এই সফলতা স্থানীয় কৃষক ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।