ঢাকা ০৯:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জামালপুরে বিচারকের বাসায় চুরি: আরও ৫ জন গ্রেপ্তার, আগের ৫ জন জড়িত নন Logo আখাউড়া সীমান্তে কাঁটাতারের পাশে কিশোরের মরদেহ, উদ্ধারে বিজিবি-বিএসএফের সমন্বয়ের উদ্যোগ Logo আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৪ ইউনিট Logo সায়হাম গ্রুপের কারখানা পরিদর্শনে যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচা তুলা প্রতিনিধি দল Logo মাধবপুরে নবাগত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ Logo ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের ছুটি নিয়ে মাধবপুরে বিভ্রান্তি Logo সেবার মানোন্নয়নে পরিবর্তন, দালাল তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন Logo বিএনপিতে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জুলুমের ঠাঁই নেই: এমপি ফয়সল Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চাতলপাড় ডিগ্রি কলেজের ১০ শিক্ষক ১৫ বছর ধরে বেতনহীন Logo লাখাইয়ের বুল্লা বাজারে সিসি ক্যামেরা অচল, দফায় দফায় চুরিতে ব্যবসায়ীদের আতঙ্ক

মাধবপুরে বাউল গান বন্ধের দাবি জানিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষকের অভিযোগ

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক মাজারের ওরস উপলক্ষে আয়োজিত বাউল গান বন্ধের দাবি জানিয়ে চাঁদা উত্তোলন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় এক মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ মোহাম্মদ আল আমিন।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের দেবীপুরে নাসিম শাহ আউলিয়া ওরফে গঙ্গা জলে মাজারের বার্ষিক ওরস উপলক্ষে কমলপুর গ্রামে বাউল গানের আয়োজন করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৫ অক্টোবর মাজারের কিছু ভক্ত অটোরিকশা থামিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছিলেন। পরে আয়োজকরা অভিযোগকারীকে গান আয়োজনের জন্য অর্থ দিতে বলেন। তিনি অস্বীকৃতি জানালে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, “আধ্যাত্মিকতার আড়ালে কিছু ব্যক্তি নারীসহ রাতভর গান, মদ্যপান ও অনৈতিক কার্যকলাপ করছে—যা এলাকাবাসীর ধর্মীয় অনুভূতি ও মানসিক শান্তি নষ্ট করছে।”

অন্যদিকে, মাজারের খাদেম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মাজারবিরোধী একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমাদের অনুষ্ঠান ধর্ম ও সংস্কৃতিরই অংশ।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ বলেন, “এই এলাকায় বহু বছর ধরে বাউল গান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে; কখনো কোনো সমস্যা হয়নি।”

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম বলেন, “গানের আয়োজনের আগে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

হবিগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমির জেলা কালচারাল অফিসার জ্যোতি সিনহা বলেন, “সংস্কৃতি ও ধর্মকে বিবাদে ফেলা ঠিক নয়। সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ থাকা জরুরি; পাশাপাশি কোনো শিল্পী বা আয়োজককে বাধাগ্রস্ত করলে তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও বিবেচনা করতে হবে।”

স্থানীয়রা আইনশৃঙ্খলা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিবেচনায় রেখে আলোচনা-সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যাটির সমাধান চান।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে বিচারকের বাসায় চুরি: আরও ৫ জন গ্রেপ্তার, আগের ৫ জন জড়িত নন

error:

মাধবপুরে বাউল গান বন্ধের দাবি জানিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষকের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৫:১৫:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক মাজারের ওরস উপলক্ষে আয়োজিত বাউল গান বন্ধের দাবি জানিয়ে চাঁদা উত্তোলন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় এক মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ মোহাম্মদ আল আমিন।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের দেবীপুরে নাসিম শাহ আউলিয়া ওরফে গঙ্গা জলে মাজারের বার্ষিক ওরস উপলক্ষে কমলপুর গ্রামে বাউল গানের আয়োজন করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৫ অক্টোবর মাজারের কিছু ভক্ত অটোরিকশা থামিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছিলেন। পরে আয়োজকরা অভিযোগকারীকে গান আয়োজনের জন্য অর্থ দিতে বলেন। তিনি অস্বীকৃতি জানালে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, “আধ্যাত্মিকতার আড়ালে কিছু ব্যক্তি নারীসহ রাতভর গান, মদ্যপান ও অনৈতিক কার্যকলাপ করছে—যা এলাকাবাসীর ধর্মীয় অনুভূতি ও মানসিক শান্তি নষ্ট করছে।”

অন্যদিকে, মাজারের খাদেম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মাজারবিরোধী একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমাদের অনুষ্ঠান ধর্ম ও সংস্কৃতিরই অংশ।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ বলেন, “এই এলাকায় বহু বছর ধরে বাউল গান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে; কখনো কোনো সমস্যা হয়নি।”

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম বলেন, “গানের আয়োজনের আগে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

হবিগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমির জেলা কালচারাল অফিসার জ্যোতি সিনহা বলেন, “সংস্কৃতি ও ধর্মকে বিবাদে ফেলা ঠিক নয়। সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ থাকা জরুরি; পাশাপাশি কোনো শিল্পী বা আয়োজককে বাধাগ্রস্ত করলে তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও বিবেচনা করতে হবে।”

স্থানীয়রা আইনশৃঙ্খলা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিবেচনায় রেখে আলোচনা-সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যাটির সমাধান চান।