
মৌলভীবাজারে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কক্ষে ঢুকে এক প্রধান শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মোং জসিম উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিছুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ১২(১) অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বরখাস্ত হওয়া মোং জসিম উদ্দিন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মিঠারাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। অফিস আদেশে বলা হয়, গত বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল আনুমানিক ৪টা ১০ মিনিটে তিনি উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী নাদিমুল হকের কক্ষে প্রবেশ করেন। ওই সময় কক্ষে উপস্থিত ছিলেন একই উপজেলার দামিয়া আদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিয়া মোহাম্মদ শহিদুর রহমান।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, কক্ষে প্রবেশ করেই জসিম উদ্দিন প্রধান শিক্ষককে উদ্দেশ করে ‘আমি স্কুলে যাই বা না যাই তোই দেখার কে’ বলে চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। এ সময় তিনি অশ্রাব্য ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, আঘাতে প্রধান শিক্ষক রক্তাক্ত হয়ে কক্ষের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী নাদিমুল হক ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক মেঝেতে পড়ে গেলে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে জসিম উদ্দিন মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আদেশে বলা হয়, জসিম উদ্দিনের এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী অসদাচরণের পর্যায়ভুক্ত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা প্রয়োজন ও সমীচীন বলে মনে করেছে কর্তৃপক্ষ।
আদেশে আরও বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালে জসিম উদ্দিন বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের (বি.এস.আর.) পার্ট-১-এর বিধি ৭১ অনুযায়ী খোরাকপোশাক ভাতা পাবেন।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















