ঢাকা ১১:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামকে মাধবপুরে ফুলেল শুভেচ্ছা Logo শতভাগ ছানিমুক্ত নোয়াপাড়া ইউনিয়ন গড়তে চক্ষু চিকিৎসা প্রশিক্ষণ কর্মশালা Logo শিক্ষক বদলি, রাস্তায় নামল শিক্ষার্থীরা আফসানাকে ফেরাতে মানববন্ধন Logo সাংবাদিক আইয়ুব খানের মায়ের ইন্তেকাল Logo শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী রাঢিশাল করাব উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারিকরণের জোরালো দাবি Logo হাইমচরে ৩০ পিস ইয়াবাসহ ৭ মামলার আসামি গ্রেপ্তার Logo চা বাগান থেকে উদ্ধার বানরের বাচ্চা, ফেরানো হলো বনে Logo শিমুলঘরে সড়কের পাশের খালে পরিত্যক্ত টমটম, ঘুরপাক খাচ্ছে নানা প্রশ্ন Logo হাইমচরে ঘরের ভেতর থেকে ইজি বাইক চুরি, বিপাকে পাঁচ সদস্যের পরিবার Logo মাধবপুরে আবাসিক হোটেলে পুলিশের অভিযান, ম্যানেজারসহ আটক ১০

শিক্ষক বদলি, রাস্তায় নামল শিক্ষার্থীরা আফসানাকে ফেরাতে মানববন্ধন

জালাল উদ্দিন লস্কর,স্টাফ রিপোর্টার :

প্রিয় শিক্ষককে ফিরে পাওয়ার দাবিতে রাস্তায় নেমেছে শিক্ষার্থীরা। সহকারী শিক্ষক আফসানা আক্তারকে অন্য বিদ্যালয়ে প্রেষণে বদলির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। পরে মিছিল নিয়ে তারা ছুটে যায় শিক্ষিকার নতুন কর্মস্থলে। সেখানে দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনাও ঘটে।

ঘটনাটি ঘটেছে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের সাতপাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আফসানা আক্তারকে প্রেষণে ছাতিয়াইন ইউনিয়নের মনিপুর এস এম শাহজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর নতুন কর্মস্থলে যোগ দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতপাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে আফসানা আক্তারের বদলির প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে মিছিল নিয়ে তারা মনিপুর এস এম শাহজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে আফসানা আক্তারকে সাতপাড়িয়া বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
এ সময় দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হট্টগোলের সৃষ্টি হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, আফসানা আক্তারকে প্রেষণে বদলির আদেশ বাতিল করে তাকে সাতপাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে দিতে হবে। তাদের বক্তব্য, তিনি বিদ্যালয়ের পাঠদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন। তাকে সরিয়ে নেওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত জুলাই মাসে আফসানা আক্তার তিন দিনের ছুটির আবেদন করেন এবং ছুটি ভোগ করেন। তবে প্রধান শিক্ষক মো. ফাইজুল্লাহ তার ছুটির আবেদন অনুমোদন না করে তাকে অনুপস্থিত দেখিয়ে মাসিক এমআর শিক্ষা অফিসে পাঠান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক ও আফসানা আক্তারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর প্রায় দেড় মাস পর আফসানা আক্তারকে প্রেষণে বদলি করা হয়।

আফসানা আক্তার বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক মো. ফাইজুল্লাহর কাছে আমার ছুটির আবেদন ছিল। এরপরও তিনি ছুটি মঞ্জুর না করে আমাকে অনুপস্থিত দেখিয়ে এমআর পাঠান।’

তবে অভিযোগটি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফাইজুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘তিনি আমার কাছ থেকে মৌখিকভাবে এক দিনের ছুটি নিয়েছিলেন। কিন্তু তিন দিন পরও বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হওয়ায় আমি তাকে ফোন দিই। তিনি আমার ফোন ধরেননি। এ নিয়ে তার সঙ্গে মনোমালিন্য হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি আমি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। পরে তিনি জানান, খাতার মধ্যে ছুটির আবেদন জমা দিয়ে আসছেন। বিষয়টি মীমাংসা করার কথা আমি বলেছি। তিনি যদি সরি বলতেন, তাহলে বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়ে যেত।’
এদিকে কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক মো. ফাইজুল্লাহ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর একে একে দুইজন শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
অন্যদিকে মনিপুর এস এম শাহজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সদ্য গঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্য ওমর ফারুক জলফু বলেন, ‘সাতপাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে মনিপুর এস এম শাহজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসে ওই শিক্ষককে ফেরত নেওয়ার দাবিতে। এ সময় দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হট্টগোল হয়।’

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মাধবপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, ‘সহকারী শিক্ষক আফসানা আক্তার ও প্রধান শিক্ষক মো. ফাইজুল্লাহর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। এছাড়া সাতপাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের সংকট রয়েছে। আফসানা আক্তারের সম্মতিতেই তাকে প্রেষণে বদলি করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ মানববন্ধনের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি বহিরাগত লোকজনের সৃষ্টি। এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামকে মাধবপুরে ফুলেল শুভেচ্ছা

error:

শিক্ষক বদলি, রাস্তায় নামল শিক্ষার্থীরা আফসানাকে ফেরাতে মানববন্ধন

আপডেট সময় ০৮:১৫:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জালাল উদ্দিন লস্কর,স্টাফ রিপোর্টার :

প্রিয় শিক্ষককে ফিরে পাওয়ার দাবিতে রাস্তায় নেমেছে শিক্ষার্থীরা। সহকারী শিক্ষক আফসানা আক্তারকে অন্য বিদ্যালয়ে প্রেষণে বদলির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। পরে মিছিল নিয়ে তারা ছুটে যায় শিক্ষিকার নতুন কর্মস্থলে। সেখানে দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনাও ঘটে।

ঘটনাটি ঘটেছে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের সাতপাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আফসানা আক্তারকে প্রেষণে ছাতিয়াইন ইউনিয়নের মনিপুর এস এম শাহজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর নতুন কর্মস্থলে যোগ দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতপাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে আফসানা আক্তারের বদলির প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে মিছিল নিয়ে তারা মনিপুর এস এম শাহজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে আফসানা আক্তারকে সাতপাড়িয়া বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
এ সময় দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হট্টগোলের সৃষ্টি হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, আফসানা আক্তারকে প্রেষণে বদলির আদেশ বাতিল করে তাকে সাতপাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে দিতে হবে। তাদের বক্তব্য, তিনি বিদ্যালয়ের পাঠদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন। তাকে সরিয়ে নেওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত জুলাই মাসে আফসানা আক্তার তিন দিনের ছুটির আবেদন করেন এবং ছুটি ভোগ করেন। তবে প্রধান শিক্ষক মো. ফাইজুল্লাহ তার ছুটির আবেদন অনুমোদন না করে তাকে অনুপস্থিত দেখিয়ে মাসিক এমআর শিক্ষা অফিসে পাঠান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক ও আফসানা আক্তারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর প্রায় দেড় মাস পর আফসানা আক্তারকে প্রেষণে বদলি করা হয়।

আফসানা আক্তার বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক মো. ফাইজুল্লাহর কাছে আমার ছুটির আবেদন ছিল। এরপরও তিনি ছুটি মঞ্জুর না করে আমাকে অনুপস্থিত দেখিয়ে এমআর পাঠান।’

তবে অভিযোগটি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফাইজুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘তিনি আমার কাছ থেকে মৌখিকভাবে এক দিনের ছুটি নিয়েছিলেন। কিন্তু তিন দিন পরও বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হওয়ায় আমি তাকে ফোন দিই। তিনি আমার ফোন ধরেননি। এ নিয়ে তার সঙ্গে মনোমালিন্য হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি আমি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। পরে তিনি জানান, খাতার মধ্যে ছুটির আবেদন জমা দিয়ে আসছেন। বিষয়টি মীমাংসা করার কথা আমি বলেছি। তিনি যদি সরি বলতেন, তাহলে বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়ে যেত।’
এদিকে কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক মো. ফাইজুল্লাহ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর একে একে দুইজন শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
অন্যদিকে মনিপুর এস এম শাহজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সদ্য গঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্য ওমর ফারুক জলফু বলেন, ‘সাতপাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে মনিপুর এস এম শাহজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসে ওই শিক্ষককে ফেরত নেওয়ার দাবিতে। এ সময় দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হট্টগোল হয়।’

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মাধবপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, ‘সহকারী শিক্ষক আফসানা আক্তার ও প্রধান শিক্ষক মো. ফাইজুল্লাহর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। এছাড়া সাতপাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের সংকট রয়েছে। আফসানা আক্তারের সম্মতিতেই তাকে প্রেষণে বদলি করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ মানববন্ধনের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি বহিরাগত লোকজনের সৃষ্টি। এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের করা হবে।