ঢাকা ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুরে ১০৪ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার, পলাতক ৩ Logo সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক বন্ধ এনআইডি সার্ভার Logo লাখাইয়ে তারেক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সায়েল মিয়া গ্রেপ্তার Logo নাসিরনগরের ফান্দাউকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মালেক শাহকে ঘিরে আলোচনা Logo হাইমচরে পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল Logo হাইমচরে মেম্বার প্রার্থী আবদুর রহমান পাটওয়ারীর উঠান বৈঠক Logo মনতলা কলেজে মাহবুব স্যারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল Logo এলপি গ্যাসের দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর দাবি, বৃহস্পতিবার বিইআরসির গণশুনানি Logo লাখাইয়ে কীটনাশক দিয়ে সাড়ে ৪ কানি টমেটো ক্ষেত নষ্টের অভিযোগ, ক্ষতির মুখে কৃষক-শ্রমিক Logo পুষ্পমাল্য, সম্মাননা ও উপহারে সজ্জিত গাড়িতে বাড়ি ফিরলেন শিক্ষক তহুরা বেগম

মাধবপুরে বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায়

জালাল উদ্দীন লস্কর, স্টাফ রিপোর্টার,

মাধবপুরে শাহজালাল সরকারি কলেজ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১০৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। এসব পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে প্র্যাকটিকেল পরীক্ষার খরচ বাবদ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজটির দুই শিক্ষক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাদের দাবি, অন্য কলেজ থেকে আসা বহিরাগত পরীক্ষকদের (এক্সটার্নাল) আপ্যায়ন, যাতায়াত ভাতা ও অন্যান্য খরচ মেটানোর জন্য পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ অর্থ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অর্থ নেওয়ার প্রথা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে বলেও তারা দাবি করেন।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, এক্সটার্নাল পরীক্ষকদের আপ্যায়ন ও যাতায়াত ভাতাসহ বিভিন্ন খরচের জন্য এ টাকা নেওয়া হয়। বিষয়টি বোর্ডসহ সংশ্লিষ্টরা জানেন বলেও তিনি দাবি করেন।

এদিকে মাধবপুরের সৈয়দ সঈদ উদ্দীন ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩৫ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। তাদের মধ্যে ৩২ জন প্র্যাকটিকেল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে এবং তিনজন প্র্যাকটিকেল পরীক্ষা দেয়নি বলে জানিয়েছেন কলেজটির অধ্যক্ষ জহীর উদ্দিন।

তবে প্র্যাকটিকেল পরীক্ষায় বাড়তি সুবিধা দেওয়ার জন্য পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয় না বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ জহীর উদ্দিন।

অন্যদিকে প্র্যাকটিকেল খাতা লেখা ও আঁকার কাজ করে দেওয়ার জন্য মাধবপুরে ‘প্র্যাকটিকেল মেকার’ নামে একটি অনলাইনভিত্তিক পেজ রয়েছে। পেজটির পরিচালক ইশতিয়ার জানান, প্র্যাকটিকেল খাতা লেখা ও আঁকার জন্য খাতাপ্রতি ৩৫০ টাকা নেওয়া হয়।

কতজন শিক্ষার্থী তার কাছ থেকে প্র্যাকটিকেল খাতার কাজ করিয়ে নেয়—এমন প্রশ্নের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে না পারলেও তিনি বলেন, অনেক পরীক্ষার্থীই তার কাছে প্র্যাকটিকেল খাতার কাজ করাতে আসে। অর্ডার বেশি হলে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য সহযোগী রাইটারও নিয়োজিত করেন বলে জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্র্যাকটিকেল পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। পরীক্ষার নির্ধারিত ফি ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের বাইরে কোনো অর্থ নেওয়া হলে তা শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুরে ১০৪ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার, পলাতক ৩

error:

মাধবপুরে বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায়

আপডেট সময় ০৭:০৯:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

জালাল উদ্দীন লস্কর, স্টাফ রিপোর্টার,

মাধবপুরে শাহজালাল সরকারি কলেজ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১০৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। এসব পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে প্র্যাকটিকেল পরীক্ষার খরচ বাবদ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজটির দুই শিক্ষক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাদের দাবি, অন্য কলেজ থেকে আসা বহিরাগত পরীক্ষকদের (এক্সটার্নাল) আপ্যায়ন, যাতায়াত ভাতা ও অন্যান্য খরচ মেটানোর জন্য পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ অর্থ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অর্থ নেওয়ার প্রথা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে বলেও তারা দাবি করেন।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, এক্সটার্নাল পরীক্ষকদের আপ্যায়ন ও যাতায়াত ভাতাসহ বিভিন্ন খরচের জন্য এ টাকা নেওয়া হয়। বিষয়টি বোর্ডসহ সংশ্লিষ্টরা জানেন বলেও তিনি দাবি করেন।

এদিকে মাধবপুরের সৈয়দ সঈদ উদ্দীন ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩৫ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। তাদের মধ্যে ৩২ জন প্র্যাকটিকেল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে এবং তিনজন প্র্যাকটিকেল পরীক্ষা দেয়নি বলে জানিয়েছেন কলেজটির অধ্যক্ষ জহীর উদ্দিন।

তবে প্র্যাকটিকেল পরীক্ষায় বাড়তি সুবিধা দেওয়ার জন্য পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয় না বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ জহীর উদ্দিন।

অন্যদিকে প্র্যাকটিকেল খাতা লেখা ও আঁকার কাজ করে দেওয়ার জন্য মাধবপুরে ‘প্র্যাকটিকেল মেকার’ নামে একটি অনলাইনভিত্তিক পেজ রয়েছে। পেজটির পরিচালক ইশতিয়ার জানান, প্র্যাকটিকেল খাতা লেখা ও আঁকার জন্য খাতাপ্রতি ৩৫০ টাকা নেওয়া হয়।

কতজন শিক্ষার্থী তার কাছ থেকে প্র্যাকটিকেল খাতার কাজ করিয়ে নেয়—এমন প্রশ্নের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে না পারলেও তিনি বলেন, অনেক পরীক্ষার্থীই তার কাছে প্র্যাকটিকেল খাতার কাজ করাতে আসে। অর্ডার বেশি হলে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য সহযোগী রাইটারও নিয়োজিত করেন বলে জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্র্যাকটিকেল পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। পরীক্ষার নির্ধারিত ফি ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের বাইরে কোনো অর্থ নেওয়া হলে তা শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।