ঢাকা ০৪:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সন্তানের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা নয় Logo বাহুবলে জিরাবোঝাই ট্রাক আটকে চাঁদা দাবির অভিযোগ, ছাত্রদল নেতা হেলালসহ আটক ২ Logo মাধবপুরে বন বিভাগের ছড়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ Logo বালির নিচে লুকিয়ে ভারতীয় শাড়ি-কসমেটিকস, মদ ও গাঁজা Logo বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১৭তম প্রয়াণ দিবস আজ Logo লাখাইয়ে ৯ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি বিল্লাল গ্রেপ্তার Logo মাধবপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo অসহায় পরিবারের দীর্ঘদিনের পানির সংকট দূর করলেন সমাজসেবক আবিদ আলম Logo খাদ্যশস্যের মজুত বেড়ে ২৩ লাখ ৫৯ হাজার টন, নিরাপদ সীমা ১৬ লাখ Logo আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে বুল্লা বাজারে কবির খাঁন চৌধুরীর গণসংযোগ

মাধবপুরে কুড়িয়ে পাওয়া শিশুর পরিবারের সন্ধান মিললেও মা-বাবার কোলে ঠাঁই হলো না নবজাতকের

হামিদুর রহমান, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার উত্তর শাহপুর এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া নবজাতক কন্যাশিশুর আসল মা-বাবার সন্ধান মিলেছে। তবে চরম দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট ও শিশুটির শারীরিক সমস্যার কারণে তারা সন্তানকে নিজেদের কাছে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়ে তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এই শিশুর ওপর তাদের কোনো দাবি-দাওয়া বা অভিভাবকত্বের অধিকার থাকবে না।

**মাধবপুরে কুড়িয়ে পাওয়া শিশুর পরিবারের সন্ধান মিললেও মা-বাবার কোলে ঠাঁই হলো না নবজাতকের**

এর আগে গত সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে উত্তর শাহপুর এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় নবজাতক কন্যাশিশুটিকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসা শেষে উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাময়িকভাবে উত্তর শাহপুর এলাকার অটোরিকশাচালক জাবেদ আলী ও তাঁর স্ত্রীর জিম্মায় দেওয়া হয়।

পরে অনুসন্ধানে শিশুটির বাবা বশির মিয়া ও মা শিরিন আক্তারের পরিচয় নিশ্চিত হয়। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে তাদের মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসানের কার্যালয়ে হাজির করা হলে তারা নিজেদের অসহায় পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন।

তারা জানান, তাদের সংসারে আগে থেকেই দুই কন্যাসন্তান রয়েছে, যার মধ্যে একজন প্রতিবন্ধী। সদ্য জন্ম নেওয়া এই নবজাতকটিও জন্মগতভাবে শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত। স্বল্প আয়ের চাকরি করে বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে তিন সন্তানের ভরণপোষণ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

শিশুটির বাবা বশির মিয়া আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমরা সন্তানকে মেরে ফেলতে চাইনি। ভেবেছিলাম, কোনো সহৃদয় মানুষ যদি তাকে তুলে নিয়ে লালন-পালন করেন, তাহলে হয়তো আমাদের চেয়ে ভালো জীবন পাবে।”

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান বলেন, “মা-বাবা লিখিতভাবে শিশুটির ওপর ভবিষ্যতে কোনো দাবি না থাকার অঙ্গীকার করেছেন। এখন প্রচলিত আইন ও সরকারি বিধি অনুযায়ী শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।”

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু একটি পরিবারের অসহায়ত্বের চিত্র নয়, বরং দারিদ্র্য ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তবতাও সামনে নিয়ে এসেছে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

সন্তানের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা নয়

error:

মাধবপুরে কুড়িয়ে পাওয়া শিশুর পরিবারের সন্ধান মিললেও মা-বাবার কোলে ঠাঁই হলো না নবজাতকের

আপডেট সময় ০২:১৮:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

হামিদুর রহমান, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার উত্তর শাহপুর এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া নবজাতক কন্যাশিশুর আসল মা-বাবার সন্ধান মিলেছে। তবে চরম দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট ও শিশুটির শারীরিক সমস্যার কারণে তারা সন্তানকে নিজেদের কাছে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়ে তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এই শিশুর ওপর তাদের কোনো দাবি-দাওয়া বা অভিভাবকত্বের অধিকার থাকবে না।

**মাধবপুরে কুড়িয়ে পাওয়া শিশুর পরিবারের সন্ধান মিললেও মা-বাবার কোলে ঠাঁই হলো না নবজাতকের**

এর আগে গত সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে উত্তর শাহপুর এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় নবজাতক কন্যাশিশুটিকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসা শেষে উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাময়িকভাবে উত্তর শাহপুর এলাকার অটোরিকশাচালক জাবেদ আলী ও তাঁর স্ত্রীর জিম্মায় দেওয়া হয়।

পরে অনুসন্ধানে শিশুটির বাবা বশির মিয়া ও মা শিরিন আক্তারের পরিচয় নিশ্চিত হয়। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে তাদের মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসানের কার্যালয়ে হাজির করা হলে তারা নিজেদের অসহায় পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন।

তারা জানান, তাদের সংসারে আগে থেকেই দুই কন্যাসন্তান রয়েছে, যার মধ্যে একজন প্রতিবন্ধী। সদ্য জন্ম নেওয়া এই নবজাতকটিও জন্মগতভাবে শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত। স্বল্প আয়ের চাকরি করে বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে তিন সন্তানের ভরণপোষণ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

শিশুটির বাবা বশির মিয়া আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমরা সন্তানকে মেরে ফেলতে চাইনি। ভেবেছিলাম, কোনো সহৃদয় মানুষ যদি তাকে তুলে নিয়ে লালন-পালন করেন, তাহলে হয়তো আমাদের চেয়ে ভালো জীবন পাবে।”

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান বলেন, “মা-বাবা লিখিতভাবে শিশুটির ওপর ভবিষ্যতে কোনো দাবি না থাকার অঙ্গীকার করেছেন। এখন প্রচলিত আইন ও সরকারি বিধি অনুযায়ী শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।”

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু একটি পরিবারের অসহায়ত্বের চিত্র নয়, বরং দারিদ্র্য ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তবতাও সামনে নিয়ে এসেছে।