ঢাকা ০২:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুরে বোয়ালিয়া খালের জরাজীর্ণ ব্রিজ, বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা Logo দেশজুড়ে পুলিশের যানবাহনে নাশকতার আশঙ্কা, কড়া সতর্কতা Logo নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা বিএনপির Logo ডাকযোগে চিঠি ও কাফনের কাপড় পাঠিয়ে আদাঐর ইউপি চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকি Logo ইটিপি ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ, মাধবপুরে কৃষিজমি-জলাশয় ও জনস্বাস্থ্য হুমকিতে Logo লাখাইয়ের হাওরে কচুরিপানার জট, বোরো আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক Logo সিলেটে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, আহত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী Logo গাঁজা সেবন ও চুরির অভিযোগে লাখাইয়ে যুবক গ্রেপ্তার Logo জামালপুরে জলাবদ্ধতায় তিন বছরে শেষ ১৩৭ মাতৃ লিচুগাছ, সরকারি উদাসীনতা নিয়ে প্রশ্ন Logo জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নির্বাচনে কামরুল ইসলাম সভাপতি, জসিম উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক

মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আতঙ্ক: ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে চিকিৎসা

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো দ্বিতল ভবনটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভবনের ছাদসহ বিভিন্ন স্থান থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে, বিমে ফাটল ধরে রড বের হয়ে রয়েছে। বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে শয্যা ও মেঝে ভিজে যায়। ফলে রোগী, চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা চরম ঝুঁকির মধ্যে সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি প্রথমে ৩১ শয্যার ছিল। পরে এটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। উন্নয়নকাজের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পুরোনো ভবনের পাশে একটি নতুন তিনতলা ভবন নির্মাণ করে। নতুন ভবনের নিচতলায় চিকিৎসকদের ৮টি চেম্বার, শিশুদের টিকাদান কক্ষ ও সভাকক্ষ এবং দ্বিতীয় তলায় অস্ত্রোপচার কক্ষ রয়েছে।

তবে স্থানসংকুলান না হওয়ায় পুরোনো ভবনের দুটি ওয়ার্ডে এখনও ৩১টি শয্যা চালু রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ শয্যার নারী ও শিশু ওয়ার্ড এবং ১২ শয্যার পুরুষ ওয়ার্ড রয়েছে। এছাড়া নিচতলার একটি কক্ষে জরুরি বিভাগ চালু রয়েছে।

জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনরত চিকিৎসক ডা. মিয়াজী তানভীর ইয়ামিন বলেন, “পুরোনো এই ভবনে অনেক সমস্যা রয়েছে। আমরা ঝুঁকির মধ্যেই রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছি।”

পরিদর্শনে দেখা গেছে, জরুরি বিভাগে যেখানে রোগী শুইয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়, তার ঠিক ওপরেই ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে রড বের হয়ে আছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, দেয়ালগুলো স্যাঁতসেঁতে, কক্ষগুলো অপরিষ্কার এবং পুরো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে এখানে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

কর্তব্যরত এক নার্স জানান, “কিছু করার নেই, ঝুঁকি নিয়েই আমরা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।”

মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, “পুরোনো ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং রোগী সবাই আতঙ্কে থাকেন। বিষয়টি স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তারা পরিদর্শন করে ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছেন।”

এদিকে, পলেস্তারা খসে পড়ে আহত হওয়ার আশঙ্কায় এক কর্মচারীকে মাঝে মাঝে হেলমেট পরে জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে।

দ্রুত সংস্কার বা বিকল্প ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

মাধবপুরে বোয়ালিয়া খালের জরাজীর্ণ ব্রিজ, বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা

error:

মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আতঙ্ক: ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে চিকিৎসা

আপডেট সময় ০৯:৩৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো দ্বিতল ভবনটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভবনের ছাদসহ বিভিন্ন স্থান থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে, বিমে ফাটল ধরে রড বের হয়ে রয়েছে। বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে শয্যা ও মেঝে ভিজে যায়। ফলে রোগী, চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা চরম ঝুঁকির মধ্যে সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি প্রথমে ৩১ শয্যার ছিল। পরে এটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। উন্নয়নকাজের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পুরোনো ভবনের পাশে একটি নতুন তিনতলা ভবন নির্মাণ করে। নতুন ভবনের নিচতলায় চিকিৎসকদের ৮টি চেম্বার, শিশুদের টিকাদান কক্ষ ও সভাকক্ষ এবং দ্বিতীয় তলায় অস্ত্রোপচার কক্ষ রয়েছে।

তবে স্থানসংকুলান না হওয়ায় পুরোনো ভবনের দুটি ওয়ার্ডে এখনও ৩১টি শয্যা চালু রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ শয্যার নারী ও শিশু ওয়ার্ড এবং ১২ শয্যার পুরুষ ওয়ার্ড রয়েছে। এছাড়া নিচতলার একটি কক্ষে জরুরি বিভাগ চালু রয়েছে।

জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনরত চিকিৎসক ডা. মিয়াজী তানভীর ইয়ামিন বলেন, “পুরোনো এই ভবনে অনেক সমস্যা রয়েছে। আমরা ঝুঁকির মধ্যেই রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছি।”

পরিদর্শনে দেখা গেছে, জরুরি বিভাগে যেখানে রোগী শুইয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়, তার ঠিক ওপরেই ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে রড বের হয়ে আছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, দেয়ালগুলো স্যাঁতসেঁতে, কক্ষগুলো অপরিষ্কার এবং পুরো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে এখানে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

কর্তব্যরত এক নার্স জানান, “কিছু করার নেই, ঝুঁকি নিয়েই আমরা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।”

মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, “পুরোনো ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং রোগী সবাই আতঙ্কে থাকেন। বিষয়টি স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তারা পরিদর্শন করে ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছেন।”

এদিকে, পলেস্তারা খসে পড়ে আহত হওয়ার আশঙ্কায় এক কর্মচারীকে মাঝে মাঝে হেলমেট পরে জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে।

দ্রুত সংস্কার বা বিকল্প ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।