ঢাকা ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বাবার কবর জিয়ারতে মাধবপুরের গ্রামের বাড়িতে Logo মাধবপুর কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির নির্বাচনে সভাপতি ধীরেন্দ্র পাল, সেক্রেটারি তপন দেবনাথ Logo মাধবপুরে ট্রাকভর্তি বালুর নিচে মিলল ৪০ লাখ টাকার ভারতীয় জিরা: বিজিবির অভিযান Logo কুবির অর্থনীতি ক্লাবের নেতৃত্বে আসাদ-মাহফুজুল, নতুন কমিটি ঘোষণা Logo বাহুবলে ক্লিন ইমেজের প্রশাসক চান এলাকাবাসী: আলোচনায় আলমগীর খাঁন রানা Logo হত্যাসহ ৫ মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন সাবেক মেয়র আইভী Logo অন্যায়কারী আমাদের সহানুভূতি পাবে না: মাধবপুরে এমপি সৈয়দ ফয়সল Logo মাধবপুরে টোল আদায়ের নামে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি: উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষার অভিযোগ Logo লাখাইয়ের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের ডাক দিলেন সংসদ সদস্য জি কে গউছ Logo বাহুবলে আধুনিক উপজেলা গড়ার প্রতিশ্রুতি: ডক্টর রেজা কিবরিয়া

মাধবপুরে থানায় জিডি করার জেরে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা, ৬ জন গুরুতর আহত

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের হরিতলা গ্রামে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার জেরে চাইনিজ কুড়াল ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাদশা কোম্পানির সামনে চাঁদা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক ঠিকাদার এনাম মিয়ার সঙ্গে প্রতিপক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য হরিতলার বাল্লা বাড়ির হিরন সরদারের মাধ্যমে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পরদিন ঠিকাদার এনাম ব্যাসার কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে গার্মেন্টস গেটে ১০–১২ জন লোক তাকে মারধরের উদ্দেশ্যে আটক করে। পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে এনামকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন। এ ঘটনার পর এনামের বড় ভাই আব্দুর রউফ মাধবপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ দায়েরের পর প্রতিশোধমূলক হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে উল্লিখিত প্রথম আসামি আশিক মিয়াসহ ১২–১৪ জন সন্ত্রাসী গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এনামের বড় ভাই আব্দুর রউফকে রাস্তায় আটক করে চাইনিজ কুড়াল ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।

স্থানীয়দের সহায়তায় আহত আব্দুর রউফকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার হাত, পা ও মাথায় ২৫টির বেশি সেলাই দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় এনামের ভাই-বাতিজাসহ আরও ছয়জন আহত হন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সন্ত্রাসীদের হুমকির কারণে এনামের পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বের হতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঠিকাদার এনাম মিয়া বলেন, থানায় জিডি করার পরেও যদি এমন হামলা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে নিরাপদে চলাফেরা করবে—এটাই বড় প্রশ্ন।

এ বিষয়ে মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহবুবুর মোরশেদ খান জানান, অভিযোগটি আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বাবার কবর জিয়ারতে মাধবপুরের গ্রামের বাড়িতে

error:

মাধবপুরে থানায় জিডি করার জেরে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা, ৬ জন গুরুতর আহত

আপডেট সময় ০৯:৪৬:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের হরিতলা গ্রামে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার জেরে চাইনিজ কুড়াল ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাদশা কোম্পানির সামনে চাঁদা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক ঠিকাদার এনাম মিয়ার সঙ্গে প্রতিপক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য হরিতলার বাল্লা বাড়ির হিরন সরদারের মাধ্যমে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পরদিন ঠিকাদার এনাম ব্যাসার কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে গার্মেন্টস গেটে ১০–১২ জন লোক তাকে মারধরের উদ্দেশ্যে আটক করে। পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে এনামকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন। এ ঘটনার পর এনামের বড় ভাই আব্দুর রউফ মাধবপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ দায়েরের পর প্রতিশোধমূলক হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে উল্লিখিত প্রথম আসামি আশিক মিয়াসহ ১২–১৪ জন সন্ত্রাসী গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এনামের বড় ভাই আব্দুর রউফকে রাস্তায় আটক করে চাইনিজ কুড়াল ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।

স্থানীয়দের সহায়তায় আহত আব্দুর রউফকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার হাত, পা ও মাথায় ২৫টির বেশি সেলাই দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় এনামের ভাই-বাতিজাসহ আরও ছয়জন আহত হন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সন্ত্রাসীদের হুমকির কারণে এনামের পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বের হতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঠিকাদার এনাম মিয়া বলেন, থানায় জিডি করার পরেও যদি এমন হামলা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে নিরাপদে চলাফেরা করবে—এটাই বড় প্রশ্ন।

এ বিষয়ে মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহবুবুর মোরশেদ খান জানান, অভিযোগটি আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।