ঢাকা ১২:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ Logo হৃদরোগ নাকি বিষাক্ত মদ? লাখাইয়ে ৬ জনের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য Logo হবিগঞ্জে ৫৫ বিজিবির পৃথক অভিযানে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ Logo বাহুবলে ইউএনও উজ্জ্বল রায়ের মোবাইল কোর্ট: মাদকবিরোধী অভিযানে দুইজনের কারাদণ্ড Logo বাহুবলে পূর্ব জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তদন্তে গড়িমসি, প্রশ্নের মুখে শিক্ষা বিভাগ Logo নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন থেকে ছিনতাইকৃত ২ মোবাইল উদ্ধার, আটক ২ Logo মাধবপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফল ৬ আগস্ট Logo হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি Logo হবিগঞ্জ ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে এনসিপির মামলা Logo লাখাইয়ে সরকারি বই পাচার মামলার সুরাহা কবে? দুদকের ধীরগতিতে জনমনে চরম ক্ষোভ

মাধবপুরে থানায় জিডি করার জেরে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা, ৬ জন গুরুতর আহত

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের হরিতলা গ্রামে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার জেরে চাইনিজ কুড়াল ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাদশা কোম্পানির সামনে চাঁদা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক ঠিকাদার এনাম মিয়ার সঙ্গে প্রতিপক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য হরিতলার বাল্লা বাড়ির হিরন সরদারের মাধ্যমে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পরদিন ঠিকাদার এনাম ব্যাসার কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে গার্মেন্টস গেটে ১০–১২ জন লোক তাকে মারধরের উদ্দেশ্যে আটক করে। পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে এনামকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন। এ ঘটনার পর এনামের বড় ভাই আব্দুর রউফ মাধবপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ দায়েরের পর প্রতিশোধমূলক হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে উল্লিখিত প্রথম আসামি আশিক মিয়াসহ ১২–১৪ জন সন্ত্রাসী গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এনামের বড় ভাই আব্দুর রউফকে রাস্তায় আটক করে চাইনিজ কুড়াল ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।

স্থানীয়দের সহায়তায় আহত আব্দুর রউফকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার হাত, পা ও মাথায় ২৫টির বেশি সেলাই দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় এনামের ভাই-বাতিজাসহ আরও ছয়জন আহত হন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সন্ত্রাসীদের হুমকির কারণে এনামের পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বের হতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঠিকাদার এনাম মিয়া বলেন, থানায় জিডি করার পরেও যদি এমন হামলা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে নিরাপদে চলাফেরা করবে—এটাই বড় প্রশ্ন।

এ বিষয়ে মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহবুবুর মোরশেদ খান জানান, অভিযোগটি আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ

error:

মাধবপুরে থানায় জিডি করার জেরে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা, ৬ জন গুরুতর আহত

আপডেট সময় ০৯:৪৬:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের হরিতলা গ্রামে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার জেরে চাইনিজ কুড়াল ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাদশা কোম্পানির সামনে চাঁদা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক ঠিকাদার এনাম মিয়ার সঙ্গে প্রতিপক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য হরিতলার বাল্লা বাড়ির হিরন সরদারের মাধ্যমে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পরদিন ঠিকাদার এনাম ব্যাসার কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে গার্মেন্টস গেটে ১০–১২ জন লোক তাকে মারধরের উদ্দেশ্যে আটক করে। পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে এনামকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন। এ ঘটনার পর এনামের বড় ভাই আব্দুর রউফ মাধবপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ দায়েরের পর প্রতিশোধমূলক হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে উল্লিখিত প্রথম আসামি আশিক মিয়াসহ ১২–১৪ জন সন্ত্রাসী গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এনামের বড় ভাই আব্দুর রউফকে রাস্তায় আটক করে চাইনিজ কুড়াল ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।

স্থানীয়দের সহায়তায় আহত আব্দুর রউফকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার হাত, পা ও মাথায় ২৫টির বেশি সেলাই দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় এনামের ভাই-বাতিজাসহ আরও ছয়জন আহত হন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সন্ত্রাসীদের হুমকির কারণে এনামের পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বের হতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঠিকাদার এনাম মিয়া বলেন, থানায় জিডি করার পরেও যদি এমন হামলা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে নিরাপদে চলাফেরা করবে—এটাই বড় প্রশ্ন।

এ বিষয়ে মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহবুবুর মোরশেদ খান জানান, অভিযোগটি আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।