ঢাকা ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সেবার মানোন্নয়নে পরিবর্তন, দালাল তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন Logo বিএনপিতে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জুলুমের ঠাঁই নেই: এমপি ফয়সল Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চাতলপাড় ডিগ্রি কলেজের ১০ শিক্ষক ১৫ বছর ধরে বেতনহীন Logo লাখাইয়ের বুল্লা বাজারে সিসি ক্যামেরা অচল, দফায় দফায় চুরিতে ব্যবসায়ীদের আতঙ্ক Logo এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ Logo বাহুবলে অবৈধ বালুর বিরুদ্ধে রাতভর ইউএনও উজ্জ্বল রায়ের অভিযান, ৫০০ ঘনফুট বালুসহ ২ ট্রাক্টর জব্দ Logo লাখাইয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ, সরগরম রাজনৈতিক মাঠ Logo ঢাকার হাজারীবাগে নামাজ পড়তে বের হয়ে ৬ দিন ধরে নিখোঁজ শিশু আবদুল্লাহ Logo বাহুবল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে আবদাল সভাপতি, শাহাজাহান সাধারণ সম্পাদক Logo বিজয়নগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হবে দুই মাসে

মাধবপুরে থানায় জিডি করার জেরে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা, ৬ জন গুরুতর আহত

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের হরিতলা গ্রামে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার জেরে চাইনিজ কুড়াল ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাদশা কোম্পানির সামনে চাঁদা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক ঠিকাদার এনাম মিয়ার সঙ্গে প্রতিপক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য হরিতলার বাল্লা বাড়ির হিরন সরদারের মাধ্যমে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পরদিন ঠিকাদার এনাম ব্যাসার কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে গার্মেন্টস গেটে ১০–১২ জন লোক তাকে মারধরের উদ্দেশ্যে আটক করে। পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে এনামকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন। এ ঘটনার পর এনামের বড় ভাই আব্দুর রউফ মাধবপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ দায়েরের পর প্রতিশোধমূলক হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে উল্লিখিত প্রথম আসামি আশিক মিয়াসহ ১২–১৪ জন সন্ত্রাসী গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এনামের বড় ভাই আব্দুর রউফকে রাস্তায় আটক করে চাইনিজ কুড়াল ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।

স্থানীয়দের সহায়তায় আহত আব্দুর রউফকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার হাত, পা ও মাথায় ২৫টির বেশি সেলাই দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় এনামের ভাই-বাতিজাসহ আরও ছয়জন আহত হন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সন্ত্রাসীদের হুমকির কারণে এনামের পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বের হতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঠিকাদার এনাম মিয়া বলেন, থানায় জিডি করার পরেও যদি এমন হামলা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে নিরাপদে চলাফেরা করবে—এটাই বড় প্রশ্ন।

এ বিষয়ে মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহবুবুর মোরশেদ খান জানান, অভিযোগটি আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

সেবার মানোন্নয়নে পরিবর্তন, দালাল তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন

error:

মাধবপুরে থানায় জিডি করার জেরে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা, ৬ জন গুরুতর আহত

আপডেট সময় ০৯:৪৬:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের হরিতলা গ্রামে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার জেরে চাইনিজ কুড়াল ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাদশা কোম্পানির সামনে চাঁদা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক ঠিকাদার এনাম মিয়ার সঙ্গে প্রতিপক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য হরিতলার বাল্লা বাড়ির হিরন সরদারের মাধ্যমে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পরদিন ঠিকাদার এনাম ব্যাসার কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে গার্মেন্টস গেটে ১০–১২ জন লোক তাকে মারধরের উদ্দেশ্যে আটক করে। পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে এনামকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন। এ ঘটনার পর এনামের বড় ভাই আব্দুর রউফ মাধবপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ দায়েরের পর প্রতিশোধমূলক হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে উল্লিখিত প্রথম আসামি আশিক মিয়াসহ ১২–১৪ জন সন্ত্রাসী গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এনামের বড় ভাই আব্দুর রউফকে রাস্তায় আটক করে চাইনিজ কুড়াল ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।

স্থানীয়দের সহায়তায় আহত আব্দুর রউফকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার হাত, পা ও মাথায় ২৫টির বেশি সেলাই দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় এনামের ভাই-বাতিজাসহ আরও ছয়জন আহত হন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সন্ত্রাসীদের হুমকির কারণে এনামের পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বের হতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঠিকাদার এনাম মিয়া বলেন, থানায় জিডি করার পরেও যদি এমন হামলা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে নিরাপদে চলাফেরা করবে—এটাই বড় প্রশ্ন।

এ বিষয়ে মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহবুবুর মোরশেদ খান জানান, অভিযোগটি আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।