ঢাকা ০২:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লাখাইয়ে পাশবিকতার চরম রূপ: মানসিক ভারসাম্যহীন নারী ৪ সন্তানের জননী, নেই কারো স্বীকৃতি Logo মাধবপুরের আন্দিউড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান মোত্তাকিম চৌধুরী Logo দেশবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানালেন বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি মোঃ জাহিদুল ইসলাম Logo দেশবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানালেন বাহুবল মডেল থানা-র ওসি মোঃ সাইফুল ইসলাম Logo চাঁদপুরের এক গ্রামে ৭ মুসল্লি নিয়ে ঈদ উদযাপন Logo আ.লীগের কার্যক্রম বন্ধ আছে, বন্ধ থাকবে: মির্জা ফখরুল Logo জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস, ক্ষমতার দাপট দেখালে রেহাই নেই: এমপি ফয়সল Logo সাংবাদিকদের কল্যাণে নানান উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: বাছির জামাল Logo মহাসড়কে চাঁদাবাজির অভিযোগে বাছির মিয়া আটক Logo মানবিক কাজে এগিয়ে সিমি কিবরিয়া, বদলে যাচ্ছে জনপদের চিত্র
ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ

ব্যারিস্টার সুমনের আবেগ বিক্রি করে এমপি হতে চাইছেন তাহেরী

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনে নির্বাচনী পরিবেশ ক্রমেই উত্তপ্ত ও বিতর্কিত হয়ে উঠছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আলোচিত প্রার্থী আল্লামা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন তাহেরী ভোটারদের আবেগকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে তাহেরীর একাধিক নির্বাচনী সভা ও প্রচারণায় ব্যারিস্টার সুমনের নাম বারবার উচ্চারিত হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রচারণাকালে তাহেরীকে বলতে শোনা গেছে—“ব্যারিস্টার সুমন আমার বন্ধু”, “এলাকার যেসব কাজ ব্যারিস্টার সুমন শেষ করতে পারেননি, আমি এমপি হলে সেগুলো সম্পন্ন করব”, এমনকি “আমি এমপি হলে আমার বন্ধু ব্যারিস্টার সুমনকে জেল থেকে বের করে আনব”—এমন বক্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যারিস্টার সুমন এই আসনের ভোটারদের কাছে একটি আবেগের নাম। তার জনপ্রিয়তা ও অতীত ভূমিকা ব্যবহার করে ভোটারদের মন জয় করার এই কৌশলকে তারা ‘আবেগ বিক্রির রাজনীতি’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভোটার বলেন, “ব্যারিস্টার সুমনের সঙ্গে ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব থাকতেই পারে, কিন্তু সেটাকে ভোট চাইবার প্রধান হাতিয়ার বানানো রাজনৈতিকভাবে সৎ নয়। মানুষ কাজ চায়, আবেগ নয়।”

আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “ব্যারিস্টার সুমনের অসমাপ্ত কাজের কথা বলে ভোট চাইছেন তাহেরী। কিন্তু তিনি নিজে কী পরিকল্পনা নিয়ে এসেছেন, সেটার স্পষ্ট কোনো রূপরেখা এখনো দেননি।”

এদিকে আইন ও বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, একজন সংসদ সদস্য চাইলেই কাউকে ‘জেল থেকে বের করে আনা’ সম্ভব—এমন বক্তব্য আইনগতভাবে বিভ্রান্তিকর এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন।

স্থানীয় রাজনীতিবিদদের মতে, ভোটের মাঠে উন্নয়ন পরিকল্পনা, কর্মসূচি ও বাস্তব সক্ষমতার বদলে আবেগ, মিষ্টি কথা ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের নাম ব্যবহার করে ভোট চাইলে তা দীর্ঘমেয়াদে গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।

সব মিলিয়ে, হবিগঞ্জ-৪ আসনে ব্যারিস্টার সুমনের জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করে তাহেরীর নির্বাচনী প্রচারণা ভোটারদের মধ্যে যেমন কৌতূহল তৈরি করেছে, তেমনি প্রশ্নও তুলেছে—এটি কি সত্যিকারের নেতৃত্ব, নাকি আবেগের ওপর ভর করে এমপি হওয়ার একটি কৌশল মাত্র?

স্থানীয় সচেতন ভোটারদের দাবি, আবেগ নয়—বাস্তবতা, যোগ্যতা ও পরিষ্কার পরিকল্পনার ভিত্তিতেই ভোটের রায় হওয়া উচিত।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাইয়ে পাশবিকতার চরম রূপ: মানসিক ভারসাম্যহীন নারী ৪ সন্তানের জননী, নেই কারো স্বীকৃতি

error:

ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ

ব্যারিস্টার সুমনের আবেগ বিক্রি করে এমপি হতে চাইছেন তাহেরী

আপডেট সময় ০৯:৫২:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনে নির্বাচনী পরিবেশ ক্রমেই উত্তপ্ত ও বিতর্কিত হয়ে উঠছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আলোচিত প্রার্থী আল্লামা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন তাহেরী ভোটারদের আবেগকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে তাহেরীর একাধিক নির্বাচনী সভা ও প্রচারণায় ব্যারিস্টার সুমনের নাম বারবার উচ্চারিত হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রচারণাকালে তাহেরীকে বলতে শোনা গেছে—“ব্যারিস্টার সুমন আমার বন্ধু”, “এলাকার যেসব কাজ ব্যারিস্টার সুমন শেষ করতে পারেননি, আমি এমপি হলে সেগুলো সম্পন্ন করব”, এমনকি “আমি এমপি হলে আমার বন্ধু ব্যারিস্টার সুমনকে জেল থেকে বের করে আনব”—এমন বক্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যারিস্টার সুমন এই আসনের ভোটারদের কাছে একটি আবেগের নাম। তার জনপ্রিয়তা ও অতীত ভূমিকা ব্যবহার করে ভোটারদের মন জয় করার এই কৌশলকে তারা ‘আবেগ বিক্রির রাজনীতি’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভোটার বলেন, “ব্যারিস্টার সুমনের সঙ্গে ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব থাকতেই পারে, কিন্তু সেটাকে ভোট চাইবার প্রধান হাতিয়ার বানানো রাজনৈতিকভাবে সৎ নয়। মানুষ কাজ চায়, আবেগ নয়।”

আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “ব্যারিস্টার সুমনের অসমাপ্ত কাজের কথা বলে ভোট চাইছেন তাহেরী। কিন্তু তিনি নিজে কী পরিকল্পনা নিয়ে এসেছেন, সেটার স্পষ্ট কোনো রূপরেখা এখনো দেননি।”

এদিকে আইন ও বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, একজন সংসদ সদস্য চাইলেই কাউকে ‘জেল থেকে বের করে আনা’ সম্ভব—এমন বক্তব্য আইনগতভাবে বিভ্রান্তিকর এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন।

স্থানীয় রাজনীতিবিদদের মতে, ভোটের মাঠে উন্নয়ন পরিকল্পনা, কর্মসূচি ও বাস্তব সক্ষমতার বদলে আবেগ, মিষ্টি কথা ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের নাম ব্যবহার করে ভোট চাইলে তা দীর্ঘমেয়াদে গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।

সব মিলিয়ে, হবিগঞ্জ-৪ আসনে ব্যারিস্টার সুমনের জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করে তাহেরীর নির্বাচনী প্রচারণা ভোটারদের মধ্যে যেমন কৌতূহল তৈরি করেছে, তেমনি প্রশ্নও তুলেছে—এটি কি সত্যিকারের নেতৃত্ব, নাকি আবেগের ওপর ভর করে এমপি হওয়ার একটি কৌশল মাত্র?

স্থানীয় সচেতন ভোটারদের দাবি, আবেগ নয়—বাস্তবতা, যোগ্যতা ও পরিষ্কার পরিকল্পনার ভিত্তিতেই ভোটের রায় হওয়া উচিত।