ঢাকা ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নাসীর-সারজিসের ওপর হামলার প্রতিবাদে হবিগঞ্জ আসছেন নাহিদ-হাসনাত-আখতার Logo হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা এনসিপির, মৌলভীবাজারের দুই পদযাত্রা স্থগিত Logo হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা হবিগঞ্জে আছি, যদি পারে মেরে ফেলবে: সারজিস আলম Logo হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার অভিযোগ, আহত সারজিস আলম ও নেতাকর্মীরা Logo দেওন্দী চা বাগানে কম দরে কাঁচা চা পাতা বিক্রির অভিযোগ, শুল্ক ফাঁকির দাবি Logo মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি Logo বাহুবলে নিজ বসতঘর থেকে সাবেক ইটভাটা মালিকের মরদেহ উদ্ধার Logo সেবা বঞ্চিত লাখাইয়ের গঙ্গানগরবাসী, রোগীদের না দিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ফেলে দেওয়ার অভিযোগ Logo চা বাগানের মেয়ে জেসমিন আক্তার রিংকুর নতুন পথচলা, আত্মপ্রকাশ করছে ‘Jesmin Tea’ Logo এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট

লাখাইয়ের হাওর-বিলে অবাধে চলছে অতিথি পাখি শিকার ও বিক্রি, আইনের তোয়াক্কা নেই

পারভেজ হাসান,লাখাই প্রতিনিধি:

শীতের আগমনীর সঙ্গে সঙ্গেই লাখাই উপজেলার হাওর-বিলগুলোতে অতিথি পাখির আনাগোনা শুরু হয়েছে। কিন্তু এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যেই বুল্লার হাওর, মোড়াকরি হাওর, করাব হাওর, বরাক বিল, জুলফা বিল, কাইঞ্জাবিল, কুচিয়া বিলসহ বিভিন্ন জলাশয়ে অবাধে অতিথি ও দেশীয় পাখি শিকার চলছে। শিকার করা এসব পাখি প্রকাশ্যে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

গত দুই দিনে বিভিন্ন হাটে একাধিক যুবককে অতিথি পাখি ও দেশীয় বক পাখি বিক্রি করতে দেখা গেছে। ক্রেতারা চড়া দামে এসব পাখি কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেউ রাতের অন্ধকারে আবার কেউ দিবালোকে জাল ও বিভিন্ন ফাঁদ ব্যবহার করে পাখি শিকার করছেন। এরপর ভোরে বা দিনের বেলায় তা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিকারি জানান, পাখি শিকারে আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাদের গোপনে কাজ করতে হয়। তিনি বলেন, “এলাকায় অতিথি পাখির চাহিদা বেশি। ক্রেতারা বেশি দাম দেয়, অনেকেই শিকারিদের বাড়ি থেকে সরাসরি পাখি কিনে নিয়ে যায়।”

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, শিকারি ও ক্রেতারা আইন সম্পর্কে জানেন, কিন্তু তা অমান্য করেন। তাদের মতে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে শুধু আইন প্রয়োগ নয়—জনসচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি।

এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনুপম দাশ অনুপের ব্যবহৃত ফোনে বারবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী পাখি শিকার গুরুতর অপরাধ। প্রথমবার অপরাধে এক বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। পুনরাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডই হতে পারে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

নাসীর-সারজিসের ওপর হামলার প্রতিবাদে হবিগঞ্জ আসছেন নাহিদ-হাসনাত-আখতার

error:

লাখাইয়ের হাওর-বিলে অবাধে চলছে অতিথি পাখি শিকার ও বিক্রি, আইনের তোয়াক্কা নেই

আপডেট সময় ০৯:৩৮:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

পারভেজ হাসান,লাখাই প্রতিনিধি:

শীতের আগমনীর সঙ্গে সঙ্গেই লাখাই উপজেলার হাওর-বিলগুলোতে অতিথি পাখির আনাগোনা শুরু হয়েছে। কিন্তু এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যেই বুল্লার হাওর, মোড়াকরি হাওর, করাব হাওর, বরাক বিল, জুলফা বিল, কাইঞ্জাবিল, কুচিয়া বিলসহ বিভিন্ন জলাশয়ে অবাধে অতিথি ও দেশীয় পাখি শিকার চলছে। শিকার করা এসব পাখি প্রকাশ্যে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

গত দুই দিনে বিভিন্ন হাটে একাধিক যুবককে অতিথি পাখি ও দেশীয় বক পাখি বিক্রি করতে দেখা গেছে। ক্রেতারা চড়া দামে এসব পাখি কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেউ রাতের অন্ধকারে আবার কেউ দিবালোকে জাল ও বিভিন্ন ফাঁদ ব্যবহার করে পাখি শিকার করছেন। এরপর ভোরে বা দিনের বেলায় তা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিকারি জানান, পাখি শিকারে আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাদের গোপনে কাজ করতে হয়। তিনি বলেন, “এলাকায় অতিথি পাখির চাহিদা বেশি। ক্রেতারা বেশি দাম দেয়, অনেকেই শিকারিদের বাড়ি থেকে সরাসরি পাখি কিনে নিয়ে যায়।”

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, শিকারি ও ক্রেতারা আইন সম্পর্কে জানেন, কিন্তু তা অমান্য করেন। তাদের মতে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে শুধু আইন প্রয়োগ নয়—জনসচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি।

এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনুপম দাশ অনুপের ব্যবহৃত ফোনে বারবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী পাখি শিকার গুরুতর অপরাধ। প্রথমবার অপরাধে এক বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। পুনরাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডই হতে পারে।