ঢাকা ০৬:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কেউ যেন নতুনভাবে উস্কানিতে লিপ্ত না হই, শিবিরকে অনুরোধ ছাত্রদল সভাপতির Logo লাখাইয়ে বিধবার জমি দখলে বাধা, আদালতের রায় কার্যকর চেয়ে থানায় অভিযোগ Logo শাহজীবাজারে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ: হবিগঞ্জে শুক্রবার টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ Logo সাইফ, তামিম, সৌম্যর দ্রুত বিদায়ে চাপে বাংলাদেশ Logo লাখাইয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকে অচলাবস্থা, সেবা না পেয়ে দুর্ভোগে এলাকাবাসী Logo মাধবপুরে চিকিৎসক সংকটে দুই স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মিডওয়াইফ দিয়ে চলছে সেবা Logo হবিগঞ্জে ডিবির অভিযানে ১২৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার, নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার Logo হারিয়ে যাচ্ছে দলবেঁধে ধান কাটার উৎসব Logo হবিগঞ্জে বিজিবির অভিযানে ২ কোটি টাকার অবৈধ ভারতীয় ঔষধ ও ফুচকা জব্দ Logo লাখাইয়ে মেসার্স মায়ের দোয়া ট্রেডার্সের উদ্যোগে খামারি সম্মেলন অনুষ্ঠিত

লাখাইয়ের হাওর-বিলে অবাধে চলছে অতিথি পাখি শিকার ও বিক্রি, আইনের তোয়াক্কা নেই

পারভেজ হাসান,লাখাই প্রতিনিধি:

শীতের আগমনীর সঙ্গে সঙ্গেই লাখাই উপজেলার হাওর-বিলগুলোতে অতিথি পাখির আনাগোনা শুরু হয়েছে। কিন্তু এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যেই বুল্লার হাওর, মোড়াকরি হাওর, করাব হাওর, বরাক বিল, জুলফা বিল, কাইঞ্জাবিল, কুচিয়া বিলসহ বিভিন্ন জলাশয়ে অবাধে অতিথি ও দেশীয় পাখি শিকার চলছে। শিকার করা এসব পাখি প্রকাশ্যে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

গত দুই দিনে বিভিন্ন হাটে একাধিক যুবককে অতিথি পাখি ও দেশীয় বক পাখি বিক্রি করতে দেখা গেছে। ক্রেতারা চড়া দামে এসব পাখি কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেউ রাতের অন্ধকারে আবার কেউ দিবালোকে জাল ও বিভিন্ন ফাঁদ ব্যবহার করে পাখি শিকার করছেন। এরপর ভোরে বা দিনের বেলায় তা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিকারি জানান, পাখি শিকারে আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাদের গোপনে কাজ করতে হয়। তিনি বলেন, “এলাকায় অতিথি পাখির চাহিদা বেশি। ক্রেতারা বেশি দাম দেয়, অনেকেই শিকারিদের বাড়ি থেকে সরাসরি পাখি কিনে নিয়ে যায়।”

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, শিকারি ও ক্রেতারা আইন সম্পর্কে জানেন, কিন্তু তা অমান্য করেন। তাদের মতে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে শুধু আইন প্রয়োগ নয়—জনসচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি।

এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনুপম দাশ অনুপের ব্যবহৃত ফোনে বারবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী পাখি শিকার গুরুতর অপরাধ। প্রথমবার অপরাধে এক বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। পুনরাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডই হতে পারে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

কেউ যেন নতুনভাবে উস্কানিতে লিপ্ত না হই, শিবিরকে অনুরোধ ছাত্রদল সভাপতির

error:

লাখাইয়ের হাওর-বিলে অবাধে চলছে অতিথি পাখি শিকার ও বিক্রি, আইনের তোয়াক্কা নেই

আপডেট সময় ০৯:৩৮:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

পারভেজ হাসান,লাখাই প্রতিনিধি:

শীতের আগমনীর সঙ্গে সঙ্গেই লাখাই উপজেলার হাওর-বিলগুলোতে অতিথি পাখির আনাগোনা শুরু হয়েছে। কিন্তু এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যেই বুল্লার হাওর, মোড়াকরি হাওর, করাব হাওর, বরাক বিল, জুলফা বিল, কাইঞ্জাবিল, কুচিয়া বিলসহ বিভিন্ন জলাশয়ে অবাধে অতিথি ও দেশীয় পাখি শিকার চলছে। শিকার করা এসব পাখি প্রকাশ্যে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

গত দুই দিনে বিভিন্ন হাটে একাধিক যুবককে অতিথি পাখি ও দেশীয় বক পাখি বিক্রি করতে দেখা গেছে। ক্রেতারা চড়া দামে এসব পাখি কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেউ রাতের অন্ধকারে আবার কেউ দিবালোকে জাল ও বিভিন্ন ফাঁদ ব্যবহার করে পাখি শিকার করছেন। এরপর ভোরে বা দিনের বেলায় তা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিকারি জানান, পাখি শিকারে আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাদের গোপনে কাজ করতে হয়। তিনি বলেন, “এলাকায় অতিথি পাখির চাহিদা বেশি। ক্রেতারা বেশি দাম দেয়, অনেকেই শিকারিদের বাড়ি থেকে সরাসরি পাখি কিনে নিয়ে যায়।”

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, শিকারি ও ক্রেতারা আইন সম্পর্কে জানেন, কিন্তু তা অমান্য করেন। তাদের মতে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে শুধু আইন প্রয়োগ নয়—জনসচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি।

এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনুপম দাশ অনুপের ব্যবহৃত ফোনে বারবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী পাখি শিকার গুরুতর অপরাধ। প্রথমবার অপরাধে এক বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। পুনরাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডই হতে পারে।