পারভেজ হাসান,লাখাই প্রতিনিধি:
শীতের আগমনীর সঙ্গে সঙ্গেই লাখাই উপজেলার হাওর-বিলগুলোতে অতিথি পাখির আনাগোনা শুরু হয়েছে। কিন্তু এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যেই বুল্লার হাওর, মোড়াকরি হাওর, করাব হাওর, বরাক বিল, জুলফা বিল, কাইঞ্জাবিল, কুচিয়া বিলসহ বিভিন্ন জলাশয়ে অবাধে অতিথি ও দেশীয় পাখি শিকার চলছে। শিকার করা এসব পাখি প্রকাশ্যে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে।
গত দুই দিনে বিভিন্ন হাটে একাধিক যুবককে অতিথি পাখি ও দেশীয় বক পাখি বিক্রি করতে দেখা গেছে। ক্রেতারা চড়া দামে এসব পাখি কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেউ রাতের অন্ধকারে আবার কেউ দিবালোকে জাল ও বিভিন্ন ফাঁদ ব্যবহার করে পাখি শিকার করছেন। এরপর ভোরে বা দিনের বেলায় তা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিকারি জানান, পাখি শিকারে আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাদের গোপনে কাজ করতে হয়। তিনি বলেন, “এলাকায় অতিথি পাখির চাহিদা বেশি। ক্রেতারা বেশি দাম দেয়, অনেকেই শিকারিদের বাড়ি থেকে সরাসরি পাখি কিনে নিয়ে যায়।”
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, শিকারি ও ক্রেতারা আইন সম্পর্কে জানেন, কিন্তু তা অমান্য করেন। তাদের মতে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে শুধু আইন প্রয়োগ নয়—জনসচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি।
এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনুপম দাশ অনুপের ব্যবহৃত ফোনে বারবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী পাখি শিকার গুরুতর অপরাধ। প্রথমবার অপরাধে এক বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। পুনরাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডই হতে পারে।