ঢাকা ০৯:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা বিএনপির Logo ডাকযোগে চিঠি ও কাফনের কাপড় পাঠিয়ে আদাঐর ইউপি চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকি Logo ইটিপি ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ, মাধবপুরে কৃষিজমি-জলাশয় ও জনস্বাস্থ্য হুমকিতে Logo লাখাইয়ের হাওরে কচুরিপানার জট, বোরো আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক Logo সিলেটে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, আহত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী Logo গাঁজা সেবন ও চুরির অভিযোগে লাখাইয়ে যুবক গ্রেপ্তার Logo জামালপুরে জলাবদ্ধতায় তিন বছরে শেষ ১৩৭ মাতৃ লিচুগাছ, সরকারি উদাসীনতা নিয়ে প্রশ্ন Logo জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নির্বাচনে কামরুল ইসলাম সভাপতি, জসিম উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক Logo হবিগঞ্জে হামলায় দৃষ্টিশক্তি হারানো আলিফকে দেখতে গেলেন জামায়াত আমির Logo ঢামেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হলেন মির্জা আব্বাস

মাওলানা আব্দুল হক (রহ.):এক খেদমতপ্রিয় আলেমের অনন্ত জীবনগাথা

বাংলার খবর ডেস্ক আলেম সমাজের মাঝে এমন কিছু মানুষ থাকেন, যাঁদের জীবনের আলো নিঃশব্দে ছড়িয়ে পড়ে শত শত হৃদয়ে। মাওলানা আব্দুল হক (রহ.) ছিলেন ঠিক তেমন একজন আল্লাহভীরু, নিষ্ঠাবান ও খেদমতপ্রিয় আলেম, যিনি পুরো জীবন উৎসর্গ করেছিলেন ইসলামী শিক্ষা, মসজিদ-মাদরাসা এবং উম্মাহর কল্যাণে।

জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি কাটিয়েছেন সবাহী মক্তব ও জামিয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া হলদারপুর মাদরাসায় শিক্ষাদানে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দরস ও তাদরীসের দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি। ক্লাস শেষ হওয়ার পরও ছাত্রদের ব্যক্তিগত সমস্যায় পাশে দাঁড়াতেন নিরলসভাবে।

শিক্ষাকে তিনি পেশা নয়, বরং ইবাদত হিসেবে দেখতেন। তাঁর কাছে ছাত্ররা ছিল আমানত, আর শিক্ষা ছিল দায়িত্ব। সহকর্মীদের সাথে আচরণ ছিল সদয়, ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও সহনশীল। মাদরাসার প্রতিটি কাজে—রং-চুন থেকে শুরু করে ছাত্রদের অসুস্থতায় খোঁজখবর পর্যন্ত—তিনি ছিলেন সক্রিয় ও নিবেদিতপ্রাণ।

ইবাদতেও ছিলেন একনিষ্ঠ। জীবনের শেষ দিনেও তিনি যোহরের নামাজ আদায় করেন, এরপরই তিনি পৃথিবী ছেড়ে আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যান। এমন সুন্দর পরিণতি সেইসব মানুষের জন্যই সংরক্ষিত থাকে, যাঁরা নামাজকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বানিয়ে নিয়েছেন।

তাঁর সততা, বিনয়, ধৈর্য ও প্রজ্ঞা ছিল সমাজের কাছে অনুকরণীয়। স্থানীয়রা তাঁকে “আল্লাহওয়ালা” বলে সম্বোধন করতেন, আর ছাত্রদের কাছে তিনি ছিলেন অভিভাবকতুল্য আশ্রয়স্থল।

আজ মাওলানা আব্দুল হক (রহ.) আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর আদর্শ ও শিক্ষাদর্শ আমাদের পথ দেখায়। তাঁর জীবন প্রমাণ করে, সত্যিকারের সম্মান অর্জিত হয় ইখলাস, খেদমত ও তাকওয়ার মাধ্যমে।

আল্লাহ তাঁর ইবাদত ও খেদমতকে কবুল করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন। আমিন।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা বিএনপির

error:

মাওলানা আব্দুল হক (রহ.):এক খেদমতপ্রিয় আলেমের অনন্ত জীবনগাথা

আপডেট সময় ০১:০৭:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫

বাংলার খবর ডেস্ক আলেম সমাজের মাঝে এমন কিছু মানুষ থাকেন, যাঁদের জীবনের আলো নিঃশব্দে ছড়িয়ে পড়ে শত শত হৃদয়ে। মাওলানা আব্দুল হক (রহ.) ছিলেন ঠিক তেমন একজন আল্লাহভীরু, নিষ্ঠাবান ও খেদমতপ্রিয় আলেম, যিনি পুরো জীবন উৎসর্গ করেছিলেন ইসলামী শিক্ষা, মসজিদ-মাদরাসা এবং উম্মাহর কল্যাণে।

জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি কাটিয়েছেন সবাহী মক্তব ও জামিয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া হলদারপুর মাদরাসায় শিক্ষাদানে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দরস ও তাদরীসের দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি। ক্লাস শেষ হওয়ার পরও ছাত্রদের ব্যক্তিগত সমস্যায় পাশে দাঁড়াতেন নিরলসভাবে।

শিক্ষাকে তিনি পেশা নয়, বরং ইবাদত হিসেবে দেখতেন। তাঁর কাছে ছাত্ররা ছিল আমানত, আর শিক্ষা ছিল দায়িত্ব। সহকর্মীদের সাথে আচরণ ছিল সদয়, ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও সহনশীল। মাদরাসার প্রতিটি কাজে—রং-চুন থেকে শুরু করে ছাত্রদের অসুস্থতায় খোঁজখবর পর্যন্ত—তিনি ছিলেন সক্রিয় ও নিবেদিতপ্রাণ।

ইবাদতেও ছিলেন একনিষ্ঠ। জীবনের শেষ দিনেও তিনি যোহরের নামাজ আদায় করেন, এরপরই তিনি পৃথিবী ছেড়ে আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যান। এমন সুন্দর পরিণতি সেইসব মানুষের জন্যই সংরক্ষিত থাকে, যাঁরা নামাজকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বানিয়ে নিয়েছেন।

তাঁর সততা, বিনয়, ধৈর্য ও প্রজ্ঞা ছিল সমাজের কাছে অনুকরণীয়। স্থানীয়রা তাঁকে “আল্লাহওয়ালা” বলে সম্বোধন করতেন, আর ছাত্রদের কাছে তিনি ছিলেন অভিভাবকতুল্য আশ্রয়স্থল।

আজ মাওলানা আব্দুল হক (রহ.) আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর আদর্শ ও শিক্ষাদর্শ আমাদের পথ দেখায়। তাঁর জীবন প্রমাণ করে, সত্যিকারের সম্মান অর্জিত হয় ইখলাস, খেদমত ও তাকওয়ার মাধ্যমে।

আল্লাহ তাঁর ইবাদত ও খেদমতকে কবুল করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন। আমিন।