
আব্দুল জাহির মিয়া, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
একসময় স্বপ্ন ছিল অন্য অনেক তরুণের মতো বিদেশে পাড়ি জমিয়ে ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর। প্রবাসে যাওয়ার প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু বাবার দূরদর্শী পরামর্শে সেই সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন তিনি। বিদেশে না গিয়ে নিজ জন্মভূমিতেই গড়ে তোলেন ব্যবসা। কঠোর পরিশ্রম ও উদ্যোগের মাধ্যমে আজ পণ্য রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আল ইমরান।
আল ইমরানের বাড়ি চুনারুঘাট উপজেলার দেওয়ারগাছ ইউনিয়নের আমতলী এলাকায়। বাবার পরামর্শে দেশে থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। বর্তমানে মিয়ানমার থেকে কাঁচামাল আমদানি করে তা প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে ‘সুগান মন্ত্রী’ নামের সুগন্ধি তেল তৈরি করেন। তাঁর দাবি, উৎপাদিত এই তেলের ভারতের বাজারে ভালো চাহিদা রয়েছে এবং নিয়মিত রপ্তানির মাধ্যমে তিনি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আল ইমরান মিয়ানমার থেকে বৈধ পথে আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি মেনে সুগন্ধি জাতের ‘সুগান মন্ত্রী’র কাঁচামাল আমদানি করেন। পরে নিজস্ব কারখানায় যত্নসহকারে প্রক্রিয়াজাত করে তা থেকে তেল উৎপাদন করেন। উৎপাদিত তেল ভারতের বাজারে সরবরাহের মাধ্যমে তাঁর ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে।
নিজের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প তুলে ধরে আল ইমরান বলেন, “আমার ইচ্ছা ছিল প্রবাসে গিয়ে ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর। কিন্তু আমার বাবা আমাকে দেশেই কিছু করার উৎসাহ দেন। তাঁর পরামর্শ মেনে দেশে থেকে ‘সুগান মন্ত্রী’ প্রক্রিয়াজাতের কাজ শুরু করি। আজ দেশের মাটিতে থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য সরবরাহ করতে পেরে এবং দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।”
তবে বর্তমানে ব্যবসা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন এই উদ্যোক্তা। আল ইমরান জানান, মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চলে চলমান সংঘাতের কারণে তিনি প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি করতে পারছেন না। এতে তাঁর ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
তিনি বলেন, মিয়ানমারের সংঘাত পরিস্থিতির অবসান হলে আবারও কাঁচামাল আমদানি করে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম বাড়াতে পারবেন বলে আশা করছেন। এতে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পাশাপাশি স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে বলেও মনে করেন তিনি।
আল ইমরানের এই উদ্যোগ চুনারুঘাটসহ হবিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় আগ্রহ তৈরি করেছে। তাঁর উদ্যোগ স্থানীয় তরুণদের জন্যও অনুপ্রেরণা হতে পারে। প্রবাসে না গিয়েও দেশে ব্যবসা গড়ে তোলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানির মাধ্যমে অর্থনীতিতে অবদান রাখার সম্ভাবনা তুলে ধরছে তাঁর উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















