ঢাকা ০৯:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo শিক্ষকসহ অন্য পেশায় যুক্তদের সাংবাদিকতা নিয়ে প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যানের মন্তব্য Logo শাহজিবাজার রাবার বাগান থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার Logo সুতাং নদী পুনঃখননে লাখাইয়ে কৃষিজমিতে বালুর স্তূপ, বিপাকে কৃষক Logo মাধবপুরের আদাঐর ইউনিয়নের পূজামণ্ডপে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের শুভেচ্ছা পৌঁছে দিলেন ইমন Logo লাখাইয়ে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ছয় দিনব্যাপী দুর্গোৎসব Logo লাখাইয়ে বেহাল সড়কে দুর্ভোগ, জরুরি রোগী পরিবহনেও চরম ভোগান্তি Logo লাখাইয়ে শীতের আমেজ, লেপ-তোষক তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা Logo লাখাইয়ে ১৩ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার Logo চুনারুঘাটে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ Logo মাধবপুর, বিজিবি-২৫ ব্যাটালিয়ন, জাব্বার আহমেদ, পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, শারদীয় দুর্গাপূজা, ধর্মঘর, চৌমুহনী

সুতাং নদী পুনঃখননে লাখাইয়ে কৃষিজমিতে বালুর স্তূপ, বিপাকে কৃষক

পারভেজ হাসান, স্টাফ রিপোর্টার:

হবিগঞ্জের লাখাইয়ে সুতাং নদী পুনঃখনন প্রকল্পের বালু ও পলি ফেলার কারণে নদীতীরবর্তী কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, খননকাজে উত্তোলিত বালু চাষযোগ্য জমিতে ফেলার ফলে শত শত বিঘা জমির আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে আসন্ন কৃষি মৌসুমে ফসল উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন কৃষকেরা।

নদী পুনরুজ্জীবিত ও দূষণমুক্ত করার লক্ষ্যে প্রায় ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সুতাং নদী পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নদী রক্ষার এই উদ্যোগের সুফল যেন কৃষকদের ক্ষতির কারণ না হয়, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

লাখাই, স্বজনগ্রাম, শিবপুর, নোয়াগাঁও, বামৈ, ভাদিকারা ও বুল্লা এলাকার নদীতীরবর্তী কৃষিজমিতে খননকাজের বালু ও পলি জমা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ড্রেজারের মাধ্যমে নদীর তলদেশ থেকে উত্তোলিত মোটা বালু ও পলি আশপাশের চাষযোগ্য জমিতে ফেলা হচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়া এবং পরবর্তী মৌসুমে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কৃষকদের আশঙ্কা, জমির ওপর পুরু বালুর স্তর জমে থাকলে তা সরিয়ে পুনরায় চাষাবাদের উপযোগী করতে বাড়তি খরচ ও সময় লাগবে। বিশেষ করে আমন ও বোরো মৌসুমের প্রস্তুতির সময় এ ধরনের ক্ষতি তাঁদের আর্থিক সংকট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় বালু ফেলার স্থান নির্ধারণ, কৃষিজমি সুরক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। তাঁদের দাবি, নির্ধারিত স্থান ব্যবহার না করে সহজে বালু ফেলার জন্য কৃষিজমি বেছে নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কৃষকদের অনেকে জমি লিজ নিয়ে কিংবা বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেন। তাঁদের মতে, জমি অনাবাদি হয়ে পড়লে শুধু একটি মৌসুমের ফসলই নষ্ট হবে না; ঋণ পরিশোধ, পরিবারের ব্যয় নির্বাহ ও পরবর্তী চাষাবাদের প্রস্তুতিও কঠিন হয়ে উঠবে।

এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমির পরিমাণ নির্ধারণ, জমির ক্ষয়ক্ষতি যাচাই এবং দায়দায়িত্ব নিরূপণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে কৃষিজমিতে বালু ফেলা বন্ধ করে নির্ধারিত স্থানে তা সংরক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমি পুনরায় চাষযোগ্য করার ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

কৃষকদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত জমির তালিকা তৈরি করে প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। উত্তোলিত বালু ও পলি ব্যবস্থাপনায় বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা সড়ক নির্মাণ কিংবা অন্যান্য উপযোগী কাজে ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।

সুতাং নদী পুনঃখনন এলাকার পানি নিষ্কাশন, নদীর প্রবাহ ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও কৃষিজমি রক্ষা করাও সমান জরুরি। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি পর্যালোচনা করে এমন ব্যবস্থা নেবে, যাতে নদী পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি কৃষক ও কৃষিজমির স্বার্থও সুরক্ষিত থাকে।

আপলোডকারীর তথ্য
Avatar photo

Sekh Sadi

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষকসহ অন্য পেশায় যুক্তদের সাংবাদিকতা নিয়ে প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যানের মন্তব্য

error:

সুতাং নদী পুনঃখননে লাখাইয়ে কৃষিজমিতে বালুর স্তূপ, বিপাকে কৃষক

আপডেট সময় ০৯:২০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

পারভেজ হাসান, স্টাফ রিপোর্টার:

হবিগঞ্জের লাখাইয়ে সুতাং নদী পুনঃখনন প্রকল্পের বালু ও পলি ফেলার কারণে নদীতীরবর্তী কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, খননকাজে উত্তোলিত বালু চাষযোগ্য জমিতে ফেলার ফলে শত শত বিঘা জমির আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে আসন্ন কৃষি মৌসুমে ফসল উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন কৃষকেরা।

নদী পুনরুজ্জীবিত ও দূষণমুক্ত করার লক্ষ্যে প্রায় ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সুতাং নদী পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নদী রক্ষার এই উদ্যোগের সুফল যেন কৃষকদের ক্ষতির কারণ না হয়, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

লাখাই, স্বজনগ্রাম, শিবপুর, নোয়াগাঁও, বামৈ, ভাদিকারা ও বুল্লা এলাকার নদীতীরবর্তী কৃষিজমিতে খননকাজের বালু ও পলি জমা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ড্রেজারের মাধ্যমে নদীর তলদেশ থেকে উত্তোলিত মোটা বালু ও পলি আশপাশের চাষযোগ্য জমিতে ফেলা হচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়া এবং পরবর্তী মৌসুমে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কৃষকদের আশঙ্কা, জমির ওপর পুরু বালুর স্তর জমে থাকলে তা সরিয়ে পুনরায় চাষাবাদের উপযোগী করতে বাড়তি খরচ ও সময় লাগবে। বিশেষ করে আমন ও বোরো মৌসুমের প্রস্তুতির সময় এ ধরনের ক্ষতি তাঁদের আর্থিক সংকট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় বালু ফেলার স্থান নির্ধারণ, কৃষিজমি সুরক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। তাঁদের দাবি, নির্ধারিত স্থান ব্যবহার না করে সহজে বালু ফেলার জন্য কৃষিজমি বেছে নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কৃষকদের অনেকে জমি লিজ নিয়ে কিংবা বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেন। তাঁদের মতে, জমি অনাবাদি হয়ে পড়লে শুধু একটি মৌসুমের ফসলই নষ্ট হবে না; ঋণ পরিশোধ, পরিবারের ব্যয় নির্বাহ ও পরবর্তী চাষাবাদের প্রস্তুতিও কঠিন হয়ে উঠবে।

এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমির পরিমাণ নির্ধারণ, জমির ক্ষয়ক্ষতি যাচাই এবং দায়দায়িত্ব নিরূপণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে কৃষিজমিতে বালু ফেলা বন্ধ করে নির্ধারিত স্থানে তা সংরক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমি পুনরায় চাষযোগ্য করার ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

কৃষকদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত জমির তালিকা তৈরি করে প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। উত্তোলিত বালু ও পলি ব্যবস্থাপনায় বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা সড়ক নির্মাণ কিংবা অন্যান্য উপযোগী কাজে ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।

সুতাং নদী পুনঃখনন এলাকার পানি নিষ্কাশন, নদীর প্রবাহ ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও কৃষিজমি রক্ষা করাও সমান জরুরি। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি পর্যালোচনা করে এমন ব্যবস্থা নেবে, যাতে নদী পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি কৃষক ও কৃষিজমির স্বার্থও সুরক্ষিত থাকে।