ঢাকা ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহার বেড়ে ৫৯.২ শতাংশ, মোবাইল ফোন ব্যবহার ৮৯.৬ শতাংশ Logo নাসিরনগরের চাপরতলা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রচারণায় জামাল আহমদ Logo রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবন থেকে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ উদ্ধার Logo কুষ্টিয়ায় আজ থেকে তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব শুরু Logo লাখাইয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, বিতরণে স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব Logo ভারত থেকে বাংলাদেশে এলো রেলের ১৮টি নতুন কোচ, আসছে আরও ১৮২টি Logo মাধবপুরে স্কুলছাত্রী তাহমিনা নিখোঁজের এক মাস, এখনো মেলেনি সন্ধান Logo যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশ্নফাঁস: সরকারি কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তার ৭ Logo দুর্গাপূজা অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভশক্তির বিজয়ের প্রতীক: হীরেশ ভট্টাচার্য হিরো Logo চুনারুঘাটের কালেঙ্গা বনে বৃক্ষরোপণ করলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক আহমেদ আলী মুকিব

বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহার বেড়ে ৫৯.২ শতাংশ, মোবাইল ফোন ব্যবহার ৮৯.৬ শতাংশ

বাংলাদেশে ডিজিটাল সেবার ব্যবহার ও ইন্টারনেট সংযোগের পরিধি ক্রমাগত বাড়ছে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহার, মোবাইল ফোনের ব্যবহার এবং গ্রাহকসংখ্যা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে এ প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে। অনলাইন সেবায় প্রবেশের প্রধান মাধ্যম হিসেবে এখনো মোবাইল ফোনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে ডিজিটাল সেবার ব্যবহার এবং ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন গ্রাহকসংখ্যা—দুই ক্ষেত্রেই সম্প্রসারণ ঘটছে।

বিবিএসের ‘আইসিটি ব্যবহার ও প্রয়োগ জরিপ ২০২৫-২৬’-এর চতুর্থ প্রান্তিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন সময়ে বেড়ে ৫৯.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৫৫ শতাংশ।

একই সময়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারের হার ৮৮.২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৯.৬ শতাংশে পৌঁছেছে। স্মার্টফোন ব্যবহারের হারও বেড়েছে। আগের বছরের ৭৪.৮ শতাংশ থেকে তা বেড়ে চলতি প্রান্তিকে ৭৫.১ শতাংশ হয়েছে।

পরিবার পর্যায়ে মোবাইল ফোনের ব্যবহার প্রায় সর্বজনীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ পরিবারে মোবাইল ফোন ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে ৯৮.২ শতাংশ পরিবার শুধু মোবাইল ফোনের ওপর নির্ভরশীল। আগের বছর এ হার ছিল ৯৮.১ শতাংশ।

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে দেশে মোট ইন্টারনেট গ্রাহকসংখ্যা বেড়ে ১৩৭.৬৬ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। জানুয়ারি মাসে এ সংখ্যা ছিল ১২৮.৯৯ মিলিয়ন। একই সময়ে ইন্টারনেট পেনিট্রেশন রেট ৭৩.২৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৭.৮৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহকসংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে, ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান (আইএসপি) ও পাবলিক সুইচড টেলিফোন নেটওয়ার্ক (পিএসটিএন) সংযোগের মাধ্যমে ব্রডব্যান্ড গ্রাহকসংখ্যা ১৪.৭৭ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ১৫.৪০ মিলিয়নে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় থ্রিজি থেকে ফোরজিতে রূপান্তরের প্রবণতা দ্রুত হচ্ছে।

তবে ডিজিটাল সেবায় প্রবেশাধিকার ও ব্যক্তিগত ডিভাইসের মালিকানার মধ্যে ব্যবধান রয়েছে বলে জরিপে উঠে এসেছে। দেশে ৮৯.৬ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেও ব্যক্তিগতভাবে মোবাইল ফোনের মালিক ৬৫.৬ শতাংশ মানুষ। আগের বছর এ হার ছিল ৬৪.২ শতাংশ। অর্থাৎ, মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ অন্যের মালিকানাধীন ডিভাইসের ওপর নির্ভরশীল।

এদিকে, ফিক্সড-লাইন বা ল্যান্ডলাইন টেলিফোন ব্যবহারের হার কমছে। সর্বশেষ প্রান্তিকে মাত্র ০.৭ শতাংশ পরিবারের কাছে ফিক্সড-লাইন টেলিফোন রয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এ হার ছিল ০.৯ শতাংশ।

বিবিএস ‘ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে জেলা ভিত্তিক আইসিটি প্রবেশাধিকার ও ব্যবহার পরিমাপ’ প্রকল্পের আওতায় জরিপটি পরিচালনা করছে। এতে কম্পিউটার-সহায়তায় সরাসরি সাক্ষাৎকার পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো এ জরিপে জেলাভিত্তিক প্রাক্কলনও তৈরি করা হয়েছে।

প্রতি প্রান্তিকে ২ হাজার ৫৬৮টি নমুনা এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি এলাকায় ২৪টি করে পরিবার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে প্রতি প্রান্তিকে মোট ৬১ হাজার ৬৩২টি পরিবার এবং বছরে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৮টি পরিবার জরিপের আওতায় এসেছে।

আপলোডকারীর তথ্য
Avatar photo

Sekh Sadi

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহার বেড়ে ৫৯.২ শতাংশ, মোবাইল ফোন ব্যবহার ৮৯.৬ শতাংশ

error:

বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহার বেড়ে ৫৯.২ শতাংশ, মোবাইল ফোন ব্যবহার ৮৯.৬ শতাংশ

আপডেট সময় ১১:৫২:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে ডিজিটাল সেবার ব্যবহার ও ইন্টারনেট সংযোগের পরিধি ক্রমাগত বাড়ছে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহার, মোবাইল ফোনের ব্যবহার এবং গ্রাহকসংখ্যা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে এ প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে। অনলাইন সেবায় প্রবেশের প্রধান মাধ্যম হিসেবে এখনো মোবাইল ফোনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে ডিজিটাল সেবার ব্যবহার এবং ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন গ্রাহকসংখ্যা—দুই ক্ষেত্রেই সম্প্রসারণ ঘটছে।

বিবিএসের ‘আইসিটি ব্যবহার ও প্রয়োগ জরিপ ২০২৫-২৬’-এর চতুর্থ প্রান্তিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন সময়ে বেড়ে ৫৯.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৫৫ শতাংশ।

একই সময়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারের হার ৮৮.২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৯.৬ শতাংশে পৌঁছেছে। স্মার্টফোন ব্যবহারের হারও বেড়েছে। আগের বছরের ৭৪.৮ শতাংশ থেকে তা বেড়ে চলতি প্রান্তিকে ৭৫.১ শতাংশ হয়েছে।

পরিবার পর্যায়ে মোবাইল ফোনের ব্যবহার প্রায় সর্বজনীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ পরিবারে মোবাইল ফোন ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে ৯৮.২ শতাংশ পরিবার শুধু মোবাইল ফোনের ওপর নির্ভরশীল। আগের বছর এ হার ছিল ৯৮.১ শতাংশ।

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে দেশে মোট ইন্টারনেট গ্রাহকসংখ্যা বেড়ে ১৩৭.৬৬ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। জানুয়ারি মাসে এ সংখ্যা ছিল ১২৮.৯৯ মিলিয়ন। একই সময়ে ইন্টারনেট পেনিট্রেশন রেট ৭৩.২৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৭.৮৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহকসংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে, ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান (আইএসপি) ও পাবলিক সুইচড টেলিফোন নেটওয়ার্ক (পিএসটিএন) সংযোগের মাধ্যমে ব্রডব্যান্ড গ্রাহকসংখ্যা ১৪.৭৭ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ১৫.৪০ মিলিয়নে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় থ্রিজি থেকে ফোরজিতে রূপান্তরের প্রবণতা দ্রুত হচ্ছে।

তবে ডিজিটাল সেবায় প্রবেশাধিকার ও ব্যক্তিগত ডিভাইসের মালিকানার মধ্যে ব্যবধান রয়েছে বলে জরিপে উঠে এসেছে। দেশে ৮৯.৬ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেও ব্যক্তিগতভাবে মোবাইল ফোনের মালিক ৬৫.৬ শতাংশ মানুষ। আগের বছর এ হার ছিল ৬৪.২ শতাংশ। অর্থাৎ, মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ অন্যের মালিকানাধীন ডিভাইসের ওপর নির্ভরশীল।

এদিকে, ফিক্সড-লাইন বা ল্যান্ডলাইন টেলিফোন ব্যবহারের হার কমছে। সর্বশেষ প্রান্তিকে মাত্র ০.৭ শতাংশ পরিবারের কাছে ফিক্সড-লাইন টেলিফোন রয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এ হার ছিল ০.৯ শতাংশ।

বিবিএস ‘ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে জেলা ভিত্তিক আইসিটি প্রবেশাধিকার ও ব্যবহার পরিমাপ’ প্রকল্পের আওতায় জরিপটি পরিচালনা করছে। এতে কম্পিউটার-সহায়তায় সরাসরি সাক্ষাৎকার পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো এ জরিপে জেলাভিত্তিক প্রাক্কলনও তৈরি করা হয়েছে।

প্রতি প্রান্তিকে ২ হাজার ৫৬৮টি নমুনা এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি এলাকায় ২৪টি করে পরিবার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে প্রতি প্রান্তিকে মোট ৬১ হাজার ৬৩২টি পরিবার এবং বছরে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৮টি পরিবার জরিপের আওতায় এসেছে।