ঢাকা ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সন্তানের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা নয় Logo বাহুবলে জিরাবোঝাই ট্রাক আটকে চাঁদা দাবির অভিযোগ, ছাত্রদল নেতা হেলালসহ আটক ২ Logo মাধবপুরে বন বিভাগের ছড়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ Logo বালির নিচে লুকিয়ে ভারতীয় শাড়ি-কসমেটিকস, মদ ও গাঁজা Logo বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১৭তম প্রয়াণ দিবস আজ Logo লাখাইয়ে ৯ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি বিল্লাল গ্রেপ্তার Logo মাধবপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo অসহায় পরিবারের দীর্ঘদিনের পানির সংকট দূর করলেন সমাজসেবক আবিদ আলম Logo খাদ্যশস্যের মজুত বেড়ে ২৩ লাখ ৫৯ হাজার টন, নিরাপদ সীমা ১৬ লাখ Logo আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে বুল্লা বাজারে কবির খাঁন চৌধুরীর গণসংযোগ

বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১৭তম প্রয়াণ দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
আজ ১২ সেপ্টেম্বর বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১৭তম প্রয়াণ দিবস। ২০০৯ সালের এই দিনে ৯৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন প্রখ্যাত এই বাউল সাধক, গীতিকার ও সুরস্রষ্টা।

১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শাহ আবদুল করিম। বাবা ইব্রাহীম আলী ও মা নাইওরজান বিবির দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর জীবনে অভাব-অনটন ছিল নিত্যসঙ্গী। তবে শৈশব থেকেই একতারা হাতে সংগীতসাধনা শুরু করে তিনি আজীবন গ্রামবাংলার মাটি, মানুষ ও অধিকারবঞ্চিত মানুষের কথা গানে তুলে ধরেছেন।

কমর উদ্দিন, সাধক রসিদ উদ্দিন ও শাহ ইব্রাহিম মোস্তান বক্সের কাছে বাউল ও আধ্যাত্মিক গানের তালিম নেন তিনি। লালন শাহ, পুঞ্জু শাহ ও দুদ্দু শাহের দর্শনও তাঁর সংগীতজীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।

‘বন্দে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে’, ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘গাড়ি চলে না’, ‘রঙের দুনিয়া তরে চাই না’, ‘ঝিলমিল ঝিলমিল করেরে ময়ূরপঙ্খী নাও’, ‘কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু’, ‘বসন্ত বাতাসে সইগো’ ও ‘গান গাই আমার মনরে বুঝাই’সহ অসংখ্য কালজয়ী গান রচনা ও সুর করেছেন তিনি। তাঁর রচিত ও সুরারোপিত গানের সংখ্যা এক হাজার ৬০০-এর বেশি।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, কাগমারী সম্মেলন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শাহ আবদুল করিমের গান সাধারণ মানুষকে প্রেরণা জুগিয়েছে। ধর্মান্ধতা ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে আজীবন সোচ্চার থাকায় বিভিন্ন সময়ে তাঁকে লাঞ্ছনারও শিকার হতে হয়েছে।

সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদকসহ বিভিন্ন সম্মাননা লাভ করেন। তাঁর গান সাতটি খণ্ডে গ্রন্থিত হয়েছে। বাংলা একাডেমির উদ্যোগে তাঁর ১০টি গান ইংরেজিতেও অনূদিত হয়েছে।

বাউল সম্রাটের প্রয়াণ দিবসে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

সন্তানের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা নয়

error:

বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১৭তম প্রয়াণ দিবস আজ

আপডেট সময় ০৩:০৩:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:
আজ ১২ সেপ্টেম্বর বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১৭তম প্রয়াণ দিবস। ২০০৯ সালের এই দিনে ৯৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন প্রখ্যাত এই বাউল সাধক, গীতিকার ও সুরস্রষ্টা।

১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শাহ আবদুল করিম। বাবা ইব্রাহীম আলী ও মা নাইওরজান বিবির দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর জীবনে অভাব-অনটন ছিল নিত্যসঙ্গী। তবে শৈশব থেকেই একতারা হাতে সংগীতসাধনা শুরু করে তিনি আজীবন গ্রামবাংলার মাটি, মানুষ ও অধিকারবঞ্চিত মানুষের কথা গানে তুলে ধরেছেন।

কমর উদ্দিন, সাধক রসিদ উদ্দিন ও শাহ ইব্রাহিম মোস্তান বক্সের কাছে বাউল ও আধ্যাত্মিক গানের তালিম নেন তিনি। লালন শাহ, পুঞ্জু শাহ ও দুদ্দু শাহের দর্শনও তাঁর সংগীতজীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।

‘বন্দে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে’, ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘গাড়ি চলে না’, ‘রঙের দুনিয়া তরে চাই না’, ‘ঝিলমিল ঝিলমিল করেরে ময়ূরপঙ্খী নাও’, ‘কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু’, ‘বসন্ত বাতাসে সইগো’ ও ‘গান গাই আমার মনরে বুঝাই’সহ অসংখ্য কালজয়ী গান রচনা ও সুর করেছেন তিনি। তাঁর রচিত ও সুরারোপিত গানের সংখ্যা এক হাজার ৬০০-এর বেশি।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, কাগমারী সম্মেলন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শাহ আবদুল করিমের গান সাধারণ মানুষকে প্রেরণা জুগিয়েছে। ধর্মান্ধতা ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে আজীবন সোচ্চার থাকায় বিভিন্ন সময়ে তাঁকে লাঞ্ছনারও শিকার হতে হয়েছে।

সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদকসহ বিভিন্ন সম্মাননা লাভ করেন। তাঁর গান সাতটি খণ্ডে গ্রন্থিত হয়েছে। বাংলা একাডেমির উদ্যোগে তাঁর ১০টি গান ইংরেজিতেও অনূদিত হয়েছে।

বাউল সম্রাটের প্রয়াণ দিবসে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে।