ঢাকা ০১:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo অপহরণের পর সিলেটের শাহপরান এলাকায় ফেলে রাখা হলো অষ্টম শ্রেণির ছাত্রকে Logo আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামকে মাধবপুরে ফুলেল শুভেচ্ছা Logo শতভাগ ছানিমুক্ত নোয়াপাড়া ইউনিয়ন গড়তে চক্ষু চিকিৎসা প্রশিক্ষণ কর্মশালা Logo শিক্ষক বদলি, রাস্তায় নামল শিক্ষার্থীরা আফসানাকে ফেরাতে মানববন্ধন Logo সাংবাদিক আইয়ুব খানের মায়ের ইন্তেকাল Logo শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী রাঢিশাল করাব উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারিকরণের জোরালো দাবি Logo হাইমচরে ৩০ পিস ইয়াবাসহ ৭ মামলার আসামি গ্রেপ্তার Logo চা বাগান থেকে উদ্ধার বানরের বাচ্চা, ফেরানো হলো বনে Logo শিমুলঘরে সড়কের পাশের খালে পরিত্যক্ত টমটম, ঘুরপাক খাচ্ছে নানা প্রশ্ন Logo হাইমচরে ঘরের ভেতর থেকে ইজি বাইক চুরি, বিপাকে পাঁচ সদস্যের পরিবার

অপহরণের পর সিলেটের শাহপরান এলাকায় ফেলে রাখা হলো অষ্টম শ্রেণির ছাত্রকে

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের মাধবপুরে অপহরণকারীদের কবল থেকে উদ্ধার হয়েছে এক অষ্টম শ্রেণির স্কুলছাত্র। উদ্ধার হওয়া ছাত্রের নাম সৈয়দ সাদাফ। সে উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকার সৈয়দ সঈদ উদ্দিন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
শুক্রবার সকালে সিলেটের জাফলং সড়কের শাহপরান এলাকায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সাদাফের বাবা সৈয়দ শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ছেলের বর্ণনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা প্রায় ৮টার দিকে নোয়াপাড়া সিনেমা হলের কাছ থেকে তিন থেকে চারজন ব্যক্তি হঠাৎ তাকে আটক করে। এ সময় অপহরণকারীরা তার মাথায় আঘাত করে জোরপূর্বক একটি হাইএস গাড়িতে তুলে নেয়।
এরপর দীর্ঘ সময় গাড়িতে করে তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় বলে সাদাফ তার পরিবারকে জানিয়েছে। রাতের শেষ দিকে সিলেটের জাফলং সড়কের শাহপরান এলাকায় অপহরণকারীরা তাকে গাড়ি থেকে ফেলে রেখে চলে যায়।
সাদাফের দাবি, গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের মধ্যে হিন্দি ভাষায় কথা বলছিল। এ ঘটনায় তার পরিবারে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সৈয়দ শাহীন জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে ছেলের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা চরম উদ্বেগে পড়েন। রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হয়। পরে শুক্রবার সকালে শাহপরান এলাকায় স্থানীয় লোকজন ও একটি সিএনজি অটোরিকশাচালকের সহযোগিতায় সাদাফের সন্ধান পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সাদাফের বাবা সৈয়দ শাহীন হবিগঞ্জের নোয়াপাড়া এলাকায় অবস্থিত সায়হাম শিল্পকারখানায় চাকরি করেন। তিনি পরিবার নিয়ে নোয়াপাড়ার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
ঘটনার পেছনে একটি সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাদাফের বাবা। তার ধারণা, পূর্বপরিকল্পিতভাবে অপহরণকারীরা তার ছেলেকে অনুসরণ করছিল এবং সুযোগ বুঝে তাকে অপহরণ করে।
তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তার ছেলেকে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে। তবে কী কারণে অপহরণকারীরা পরে তাকে সিলেটের শাহপরান এলাকায় ফেলে রেখে চলে গেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সাদাফের পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি এলাকায় কোনো সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

অপহরণের পর সিলেটের শাহপরান এলাকায় ফেলে রাখা হলো অষ্টম শ্রেণির ছাত্রকে

error:

অপহরণের পর সিলেটের শাহপরান এলাকায় ফেলে রাখা হলো অষ্টম শ্রেণির ছাত্রকে

আপডেট সময় ০১:৪৫:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের মাধবপুরে অপহরণকারীদের কবল থেকে উদ্ধার হয়েছে এক অষ্টম শ্রেণির স্কুলছাত্র। উদ্ধার হওয়া ছাত্রের নাম সৈয়দ সাদাফ। সে উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকার সৈয়দ সঈদ উদ্দিন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
শুক্রবার সকালে সিলেটের জাফলং সড়কের শাহপরান এলাকায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সাদাফের বাবা সৈয়দ শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ছেলের বর্ণনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা প্রায় ৮টার দিকে নোয়াপাড়া সিনেমা হলের কাছ থেকে তিন থেকে চারজন ব্যক্তি হঠাৎ তাকে আটক করে। এ সময় অপহরণকারীরা তার মাথায় আঘাত করে জোরপূর্বক একটি হাইএস গাড়িতে তুলে নেয়।
এরপর দীর্ঘ সময় গাড়িতে করে তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় বলে সাদাফ তার পরিবারকে জানিয়েছে। রাতের শেষ দিকে সিলেটের জাফলং সড়কের শাহপরান এলাকায় অপহরণকারীরা তাকে গাড়ি থেকে ফেলে রেখে চলে যায়।
সাদাফের দাবি, গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের মধ্যে হিন্দি ভাষায় কথা বলছিল। এ ঘটনায় তার পরিবারে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সৈয়দ শাহীন জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে ছেলের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা চরম উদ্বেগে পড়েন। রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হয়। পরে শুক্রবার সকালে শাহপরান এলাকায় স্থানীয় লোকজন ও একটি সিএনজি অটোরিকশাচালকের সহযোগিতায় সাদাফের সন্ধান পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সাদাফের বাবা সৈয়দ শাহীন হবিগঞ্জের নোয়াপাড়া এলাকায় অবস্থিত সায়হাম শিল্পকারখানায় চাকরি করেন। তিনি পরিবার নিয়ে নোয়াপাড়ার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
ঘটনার পেছনে একটি সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাদাফের বাবা। তার ধারণা, পূর্বপরিকল্পিতভাবে অপহরণকারীরা তার ছেলেকে অনুসরণ করছিল এবং সুযোগ বুঝে তাকে অপহরণ করে।
তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তার ছেলেকে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে। তবে কী কারণে অপহরণকারীরা পরে তাকে সিলেটের শাহপরান এলাকায় ফেলে রেখে চলে গেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সাদাফের পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি এলাকায় কোনো সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।