
আন্দোলনের সময় পুলিশ ও সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর কাছ থেকে লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে সারাদেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে যাচ্ছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ অভিযানে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি অস্ত্রের তথ্য দিয়ে সহযোগিতাকারীদের পুরস্কার দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) খুলনায় র্যাব-৬ সদর দপ্তরে সুন্দরবনের জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ ও অস্ত্র উদ্ধার উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাব মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ এসব তথ্য জানান।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, আন্দোলনের সময় পুলিশসহ সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর যে অস্ত্র লুণ্ঠিত হয়েছে, সেগুলো উদ্ধারের দায়িত্ব র্যাবকে দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে র্যাবের নেতৃত্বে সারাদেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। অভিযানের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
অভিযানে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার জন্য গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করবে বলে জানান র্যাব মহাপরিচালক। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুরস্কার ঘোষণা করেছেন বলেও তিনি জানান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সুন্দরবনের জলদস্যুদের আত্মসমর্পণের বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। র্যাব জানায়, গত সোমবার সুন্দরবনের পাঁচটি জলদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। পরে একই রাতে আরও সাতজন আত্মসমর্পণ করায় মোট আত্মসমর্পণকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৯ জন।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতাব বাহিনীর আটজন এবং মিজান বাহিনীর সাতজন রয়েছেন।
আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে চারটি শটগান, ৪৭টি ওয়ান শুটারগান, চারটি পাইপগান, তিনটি এয়ারগান, একটি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল, সাতটি ওয়াকিটকি, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ১৪টি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, সুন্দরবন দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের প্রায় ২৫ লাখ মানুষের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উৎস। দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যু ও বনদস্যুদের কারণে জেলে, মৌয়াল, বাওয়ালি ও সুন্দরবননির্ভর অন্যান্য মানুষের জীবন ও জীবিকা ঝুঁকির মধ্যে ছিল। দস্যুতা, জিম্মি ও অবৈধ চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত সুন্দরবনের ৩১৮ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন পরবর্তীতে আবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। সামাজিক চাপ, রাজনৈতিক কারণ, সচেতনতার অভাব, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে অনীহা এবং হয়রানির আশঙ্কাসহ বিভিন্ন কারণে কেউ কেউ পুনরায় অপরাধে জড়াচ্ছেন বলে জানান তিনি।
র্যাব মহাপরিচালক আরও জানান, সুন্দরবনে এখনও চার-পাঁচটি জলদস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। তাদেরও অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। আত্মসমর্পণকারীদের জন্য আগের তুলনায় আরও উন্নত পুনর্বাসন ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে।
আত্মসমর্পণকারীদের অহেতুক মামলা ও হয়রানি না করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন র্যাব মহাপরিচালক। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ ছাড়া কাউকে আটক কিংবা মামলা দেওয়া উচিত নয়। আত্মসমর্পণকারীরা যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে।
সুন্দরবনের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সেখানে র্যাবের একটি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তিনি। বর্তমানে সুন্দরবন এলাকায় কোস্টগার্ডের একটি ক্যাম্প রয়েছে। স্থানীয় জনগণ চাইলে সুন্দরবনে র্যাবের ব্যাটালিয়ন স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে পারেন বলেও জানান তিনি।
সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত রাখতে র্যাবের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে বলে জানান র্যাব মহাপরিচালক।
বাংলার খবর ডেস্ক : 

























