ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করলেন নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল Logo জামালপুরে বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়া ৯০০ কেজি ঘোড়ার মাংস জব্দ, ৫ জনের কারাদণ্ড Logo মাধবপুর উপজেলা পরিষদে এমপি এস এম ফয়সলের পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধন Logo মাধবপুরে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিমূলক সভা Logo হাইমচরে নবাগত ইউএনওকে বরণ, বিদায়ী ইউএনও অমিত রায়কে সংবর্ধনা Logo লাখাইয়ে রোপা আমন আবাদের ধুম: Logo মাধবপুরে শ্রেণিকক্ষ সংকটে উজ্জ্বলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুই কক্ষে ৫৭ শিক্ষার্থীর পাঠদান Logo একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন ও ক্লাস শুরুর নতুন তারিখ নির্ধারণ Logo খোয়াই নদীর ভাঙনে প্লাবিত মিরপুর-ধুলিয়াখাল সড়ক, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী Logo জামালপুরে বহুতল ভবনের জানালা দিয়ে পানি চাইল দুই শিশু, তালা ভেঙে মিলল মায়ের মরদেহ

মাধবপুরে শ্রেণিকক্ষ সংকটে উজ্জ্বলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুই কক্ষে ৫৭ শিক্ষার্থীর পাঠদান

মাধবপুরে শ্রেণিকক্ষ সংকটে উজ্জ্বলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুই কক্ষে ৫৭ শিক্ষার্থীর পাঠদান

জালাল উদ্দিন লস্কর স্টাফ রিপোর্টার হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ৮ নম্বর বুল্লা ইউনিয়নের উজ্জ্বলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৫৭ জন শিক্ষার্থী থাকলেও শ্রেণিকক্ষ রয়েছে মাত্র দুটি। ফলে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়েও দুই শিফটে পাঠদান পরিচালনা করতে হচ্ছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৫৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে ৭ জন, প্রথম শ্রেণিতে ৯ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৯ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ১৪ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৮ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ১০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সংকট দীর্ঘদিনের। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ক্ষুদ্র মেরামত বাবদ পাওয়া ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা দিয়ে প্রায় ৫০ ফুট × ৯ ফুট আয়তনের একটি টিনশেড কক্ষ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু টিনের তৈরি ওই কক্ষে গরমের সময় প্রচণ্ড তাপের কারণে স্বাভাবিকভাবে পাঠদান করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে শ্রেণিকক্ষ সংকটের স্থায়ী সমাধান তো হয়ইনি, বরং গরমের মৌসুমে নতুন করে পাঠদান নিয়ে দুর্ভোগ তৈরি হচ্ছে।

স্থান সংকুলান না হওয়ায় বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম দুই শিফটে পরিচালনা করা হয়। প্রথম শিফটে সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় শিফটে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত পাঠদান চলে।

এতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ে অবস্থান, পর্যাপ্ত জায়গার অভাব এবং গরমের মধ্যে টিনশেড কক্ষে পাঠদান—সব মিলিয়ে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফনিন্দ্র দাস জানান, বিদ্যালয়ে বর্তমানে তিনি ছাড়াও দুইজন সহকারী শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। সীমিত সংখ্যক শ্রেণিকক্ষের কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের জন্য স্বাভাবিক ও আরামদায়ক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি হলেও উজ্জ্বলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনের তুলনায় শ্রেণিকক্ষ অপ্রতুল। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমে টিনশেড কক্ষে শিশুদের পাঠদান করা কষ্টকর হয়ে পড়ে।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ও শ্রেণি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত নতুন পাকা শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের বর্তমান অবকাঠামো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও উপযোগী শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
স্থানীয়দের মতে, গ্রামীণ এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ আরও সহজলভ্য ও মানসম্মত করতে হলে শুধু শিক্ষার্থী ভর্তি বাড়ানোই নয়, সেই অনুপাতে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সক্ষমতাও বাড়ানো জরুরি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

বাংলার খবর
জনপ্রিয় সংবাদ

বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করলেন নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

error:

মাধবপুরে শ্রেণিকক্ষ সংকটে উজ্জ্বলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুই কক্ষে ৫৭ শিক্ষার্থীর পাঠদান

আপডেট সময় ০৪:২৮:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

জালাল উদ্দিন লস্কর স্টাফ রিপোর্টার হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ৮ নম্বর বুল্লা ইউনিয়নের উজ্জ্বলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৫৭ জন শিক্ষার্থী থাকলেও শ্রেণিকক্ষ রয়েছে মাত্র দুটি। ফলে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়েও দুই শিফটে পাঠদান পরিচালনা করতে হচ্ছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৫৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে ৭ জন, প্রথম শ্রেণিতে ৯ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৯ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ১৪ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৮ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ১০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সংকট দীর্ঘদিনের। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ক্ষুদ্র মেরামত বাবদ পাওয়া ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা দিয়ে প্রায় ৫০ ফুট × ৯ ফুট আয়তনের একটি টিনশেড কক্ষ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু টিনের তৈরি ওই কক্ষে গরমের সময় প্রচণ্ড তাপের কারণে স্বাভাবিকভাবে পাঠদান করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে শ্রেণিকক্ষ সংকটের স্থায়ী সমাধান তো হয়ইনি, বরং গরমের মৌসুমে নতুন করে পাঠদান নিয়ে দুর্ভোগ তৈরি হচ্ছে।

স্থান সংকুলান না হওয়ায় বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম দুই শিফটে পরিচালনা করা হয়। প্রথম শিফটে সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় শিফটে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত পাঠদান চলে।

এতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ে অবস্থান, পর্যাপ্ত জায়গার অভাব এবং গরমের মধ্যে টিনশেড কক্ষে পাঠদান—সব মিলিয়ে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফনিন্দ্র দাস জানান, বিদ্যালয়ে বর্তমানে তিনি ছাড়াও দুইজন সহকারী শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। সীমিত সংখ্যক শ্রেণিকক্ষের কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের জন্য স্বাভাবিক ও আরামদায়ক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি হলেও উজ্জ্বলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনের তুলনায় শ্রেণিকক্ষ অপ্রতুল। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমে টিনশেড কক্ষে শিশুদের পাঠদান করা কষ্টকর হয়ে পড়ে।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ও শ্রেণি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত নতুন পাকা শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের বর্তমান অবকাঠামো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও উপযোগী শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
স্থানীয়দের মতে, গ্রামীণ এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ আরও সহজলভ্য ও মানসম্মত করতে হলে শুধু শিক্ষার্থী ভর্তি বাড়ানোই নয়, সেই অনুপাতে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সক্ষমতাও বাড়ানো জরুরি।