
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা-এর এক গৃহবধূ সৌদি আরবে গিয়ে চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীর নাম আকলিমা খাতুন (৩২)। তিনি উপজেলার চৌমুনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের কোনাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক সংকটের কারণে ঢাকার একটি রিক্রুটিং এজেন্সি ও স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে গৃহকর্মীর ভিসায় তিনি রিয়াদ যান। সেখানে পৌঁছানোর পর থেকেই তাকে নিয়মিত মারধর, মানসিক নির্যাতন এবং অমানবিক আচরণের শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফোনে আকলিমা খাতুন জানান, গত এক মাস ধরে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। ঠিকমতো খাবার, চিকিৎসা কিংবা প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, “আমাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।” তাকে পাঠানো এজেন্সির পক্ষ থেকেও কোনো খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার বনানীতে অবস্থিত আবির ব্রাদার্স নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে এবং হরিনখোলা গ্রামের জহির মিয়া নামে এক দালালের সহযোগিতায় তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। এ সময় দালাল বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ওই দালাল দেশে ফিরিয়ে আনার কথা বলে পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করছেন বলেও জানা গেছে।
পরিবার জানায়, আকলিমা প্রথমে রিয়াদের একটি বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। নির্যাতনের বিষয়টি জানাজানি হলে বর্তমানে তিনি সৌদি সরকারের তত্ত্বাবধানে একটি সেইফ হাউজে রয়েছেন। তবে সেখানেও তিনি শারীরিক ও মানসিক চাপে রয়েছেন এবং পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন না।
ভুক্তভোগীর স্বামী মাসুক মিয়া বলেন, “অভাবের কারণে দালালের কথায় বিশ্বাস করে স্ত্রীকে সৌদি পাঠিয়েছিলাম। আমাদের তিনটি ছোট সন্তান রয়েছে। এখন স্ত্রী মহাবিপদে। সরকারের কাছে অনুরোধ, তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুন।”
এ বিষয়ে জানতে আবির ব্রাদার্সে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে দালাল জহির মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সে ভালো না লাগার কারণে দেশে ফিরতে চাচ্ছে। এতে আমার কোনো দোষ নেই। যদি কিছু হয়ে থাকে, সেটি এজেন্সির দায়।”
এ প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ওয়েজ আর্নারস কল্যাণ বোর্ড-এর সহকারী পরিচালক মো. নবীর হোসেন বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি।”
বাংলার খবর ডেস্ক : 

























