
পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:
আজ পহেলা রমজান। মুমিনের দ্বারে আবারও ফিরে এলো সিয়াম সাধনার পবিত্র মাস। ভোরের কুয়াশা মোড়ানো আকাশে নতুন চাঁদ জানান দিচ্ছে এক অন্যরকম প্রশান্তির বার্তা। সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর কাছে এই দিনটি কেবল রুটিন মাফিক উপবাসের সূচনা নয়; বরং এটি আত্মিক ও নৈতিক সংস্কারের এক মহতী অধ্যায়ের শুরু।
রমজানের প্রথম দিন আমাদের শেখায় ধৈর্য, সংযম ও সহনশীলতা। দীর্ঘ এগারো মাসের অনিয়ন্ত্রিত জীবন থেকে বেরিয়ে এসে ইন্দ্রিয় সংযমের যে কঠিন সাধনা শুরু হয়, তার মূল লক্ষ্য তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন। পানাহার ত্যাগ করা এর বাহ্যিক দিক হলেও অন্তরালে রয়েছে কুপ্রবৃত্তি দমনের নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা।
রমজানের প্রথম দশ দিন রহমতের। আল্লাহর অশেষ করুণা ও দয়ার আবহে আজ প্রথম রোজার দিনটিতে পরিবার ও সমাজে দেখা যায় এক ভিন্ন আমেজ। সেহরি থেকে ইফতার পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্ত যেন ইবাদতের আলোয় উদ্ভাসিত। মসজিদে মসজিদে তারাবির নামাজ এবং ঘরে ঘরে কোরআন তিলাওয়াত এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি করে।
রমজান শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের মাস নয়, এটি সামাজিক দায়বদ্ধতারও সময়। এই মাস আমাদের শেখায় ক্ষুধার যন্ত্রণা কী, যাতে আমরা অভাবগ্রস্ত মানুষের কষ্ট অনুভব করতে পারি। তাই প্রথম রমজানেই আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত—নিজের ইফতারেই সীমাবদ্ধ না থেকে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
এই বছরের রমজান এমন এক সময়ে এসেছে, যখন বিশ্ব নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই প্রথম রমজানের প্রার্থনা হোক শান্তি, সহমর্মিতা ও মানবতার জন্য। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বা সামাজিক অস্থিরতা যেন কারো রোজা পালনে অন্তরায় না হয়, সে বিষয়ে সমাজের সামর্থ্যবানদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।
আসুন, এই রমজান থেকেই আমরা মিথ্যা, গিবত ও অন্যের হক নষ্ট করা থেকে বিরত থাকি। কেবল উপবাস নয়, মন ও মননকেও পরিশুদ্ধ করার শপথ নেই। পবিত্র মাহে রমজান আমাদের জীবনে বয়ে আনুক শান্তি, সমৃদ্ধি ও প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠার প্রেরণা।
রমজান মোবারক।
বাংলার খবর ডেস্ক : 
























