ঢাকা ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo এক ব্যক্তি একাধিক সার ডিলারশিপের মালিক হতে পারবেন না: নতুন নীতিমালা জারি Logo সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় হবিগঞ্জে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার Logo দেশে রেকর্ড লোডশেডিং: ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে ভাঙল আগের সব রেকর্ড Logo পিরোজপুরে ১২ পরীক্ষার্থীর জন্য ১১ শিক্ষক: পাস করা একমাত্র শিক্ষার্থীর নামই জানেন না প্রধান শিক্ষক Logo আখাউড়ায় কেল্লা শাহ মাজারের ৭ দিনব্যাপী বার্ষিক ওরশ শুরু আজ Logo দাখিলে মাধবপুর উপজেলা সেরা কমলপুর হযরত শাহজালাল (রহ.) আলিম মাদ্রাসা Logo মাধবপুরে ১২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ নেই Logo লাখাইয়ে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি সুপারভাইজার নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক, রাজনৈতিক পরিচয় ঘিরে ক্ষোভ Logo টাকার অভাবে চিকিৎসা সংকটে আগুনে পোড়া কিশোরী ইভা Logo এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন ফলাফল

হবিগঞ্জ-৪ আসনে ভোটারদের দুয়ারে বিএনপির ফয়সল, ব্যারিস্টার সুমনের নাম ভরসা করে সমর্থন টানছেন তাহেরী

বাংলার খবর ডেস্ক আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় এ আসনে ভোটের নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগে বিএনপি ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থীরা ভোট নিজেদের অনুকূলে নিতে মাঠে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী এস এম ফয়সল এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন ওরফে মাওলানা তাহেরী ভোটের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দু’জনই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে নানা কৌশলে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

বিএনপির প্রার্থী এস এম ফয়সল জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং এর আগে সংসদ সদস্য ছিলেন। বয়সের ভার থাকলেও তিনি নিয়মিতভাবে গ্রাম, বাজার ও চা-বাগানে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করছেন। তাঁর সঙ্গে প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন মাধবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ শাহজাহানসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মাওলানা তাহেরী সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সুমনের নাম সামনে এনে তার সমর্থকদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন গণসংযোগে তিনি নিজেকে ব্যারিস্টার সুমনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু দাবি করে বলেন, নির্বাচিত হলে সুমনের মুক্তির বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন। পাশাপাশি তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, চুনারুঘাট ও মাধবপুর এলাকায় কোনো ওয়াজ মাহফিলে তিনি পারিশ্রমিক গ্রহণ করবেন না।

চা-শ্রমিকদের সমর্থন পেতে তাহেরী বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও জীবনমান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন। যদিও তার বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দিতে, তবে শ্বশুরবাড়ি মাধবপুর হওয়ায় এলাকায় তার পরিচিতি রয়েছে।

হবিগঞ্জ-৪ আসনে মোট ২১টি চা-বাগান রয়েছে। এসব বাগানের শ্রমিক ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটাররা নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। শ্রমিকদের ভাষ্য, যিনি তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন, তার পক্ষেই তারা ভোট দেবেন।

মাধবপুর ও চুনারুঘাটের অনেক ভোটার মনে করছেন, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক এবং চা-শ্রমিকদের ভোট যেদিকে যাবে, সেই প্রার্থীই শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থাকবেন।

বিএনপির প্রার্থী এস এম ফয়সল বলেন, ধানের শীষের জনপ্রিয়তার বিপরীতে অন্য কোনো প্রতীকের প্রভাব পড়বে না। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার মানুষের পাশে আছেন এবং ভোটারদের ভালোবাসাই তার মূল শক্তি।

অন্যদিকে মাওলানা তাহেরী বলেন, তিনি অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এবং চা-শ্রমিকদের ওপর দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করতে কাজ করতে চান।

এদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদেরও ভোটের মাঠে সক্রিয় থাকার দাবি করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে কাজ করবেন।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

এক ব্যক্তি একাধিক সার ডিলারশিপের মালিক হতে পারবেন না: নতুন নীতিমালা জারি

error:

হবিগঞ্জ-৪ আসনে ভোটারদের দুয়ারে বিএনপির ফয়সল, ব্যারিস্টার সুমনের নাম ভরসা করে সমর্থন টানছেন তাহেরী

আপডেট সময় ০৮:২৮:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলার খবর ডেস্ক আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় এ আসনে ভোটের নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগে বিএনপি ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থীরা ভোট নিজেদের অনুকূলে নিতে মাঠে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী এস এম ফয়সল এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন ওরফে মাওলানা তাহেরী ভোটের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দু’জনই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে নানা কৌশলে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

বিএনপির প্রার্থী এস এম ফয়সল জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং এর আগে সংসদ সদস্য ছিলেন। বয়সের ভার থাকলেও তিনি নিয়মিতভাবে গ্রাম, বাজার ও চা-বাগানে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করছেন। তাঁর সঙ্গে প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন মাধবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ শাহজাহানসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মাওলানা তাহেরী সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সুমনের নাম সামনে এনে তার সমর্থকদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন গণসংযোগে তিনি নিজেকে ব্যারিস্টার সুমনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু দাবি করে বলেন, নির্বাচিত হলে সুমনের মুক্তির বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন। পাশাপাশি তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, চুনারুঘাট ও মাধবপুর এলাকায় কোনো ওয়াজ মাহফিলে তিনি পারিশ্রমিক গ্রহণ করবেন না।

চা-শ্রমিকদের সমর্থন পেতে তাহেরী বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও জীবনমান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন। যদিও তার বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দিতে, তবে শ্বশুরবাড়ি মাধবপুর হওয়ায় এলাকায় তার পরিচিতি রয়েছে।

হবিগঞ্জ-৪ আসনে মোট ২১টি চা-বাগান রয়েছে। এসব বাগানের শ্রমিক ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটাররা নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। শ্রমিকদের ভাষ্য, যিনি তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন, তার পক্ষেই তারা ভোট দেবেন।

মাধবপুর ও চুনারুঘাটের অনেক ভোটার মনে করছেন, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক এবং চা-শ্রমিকদের ভোট যেদিকে যাবে, সেই প্রার্থীই শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থাকবেন।

বিএনপির প্রার্থী এস এম ফয়সল বলেন, ধানের শীষের জনপ্রিয়তার বিপরীতে অন্য কোনো প্রতীকের প্রভাব পড়বে না। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার মানুষের পাশে আছেন এবং ভোটারদের ভালোবাসাই তার মূল শক্তি।

অন্যদিকে মাওলানা তাহেরী বলেন, তিনি অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এবং চা-শ্রমিকদের ওপর দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করতে কাজ করতে চান।

এদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদেরও ভোটের মাঠে সক্রিয় থাকার দাবি করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে কাজ করবেন।