ঢাকা ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লাখাইয়ে ১ম শ্রেণির ৬ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, গণধোলাইয়ের পর বখাটে পুলিশে সোপর্দ Logo লাখাইয়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবককে ঢিল ছোড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, পিতা-পুত্রসহ আহত একাধিক Logo লাখাইয়ে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা সুচিত্রা রানী দাশের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি Logo ৭২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, মাধবপুরে পুলিশের অভিযান Logo গায়ক আসিফ আকবর গ্রেফতার Logo স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে এমপি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সলের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo সীমান্তে অব্যাহত বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, কঠোর অবস্থানে বিজিবি Logo মাধবপুরে সুরমা চা বাগান থেকে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার Logo মাধবপুরে চুরির অভিযোগে যুবকের মাথা ন্যাড়া, আঁকা হলো আর্জেন্টিনার পতাকা Logo চুনারুঘাটে বসতঘর থেকে প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ
ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ

ব্যারিস্টার সুমনের আবেগ বিক্রি করে এমপি হতে চাইছেন তাহেরী

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনে নির্বাচনী পরিবেশ ক্রমেই উত্তপ্ত ও বিতর্কিত হয়ে উঠছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আলোচিত প্রার্থী আল্লামা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন তাহেরী ভোটারদের আবেগকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে তাহেরীর একাধিক নির্বাচনী সভা ও প্রচারণায় ব্যারিস্টার সুমনের নাম বারবার উচ্চারিত হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রচারণাকালে তাহেরীকে বলতে শোনা গেছে—“ব্যারিস্টার সুমন আমার বন্ধু”, “এলাকার যেসব কাজ ব্যারিস্টার সুমন শেষ করতে পারেননি, আমি এমপি হলে সেগুলো সম্পন্ন করব”, এমনকি “আমি এমপি হলে আমার বন্ধু ব্যারিস্টার সুমনকে জেল থেকে বের করে আনব”—এমন বক্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যারিস্টার সুমন এই আসনের ভোটারদের কাছে একটি আবেগের নাম। তার জনপ্রিয়তা ও অতীত ভূমিকা ব্যবহার করে ভোটারদের মন জয় করার এই কৌশলকে তারা ‘আবেগ বিক্রির রাজনীতি’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভোটার বলেন, “ব্যারিস্টার সুমনের সঙ্গে ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব থাকতেই পারে, কিন্তু সেটাকে ভোট চাইবার প্রধান হাতিয়ার বানানো রাজনৈতিকভাবে সৎ নয়। মানুষ কাজ চায়, আবেগ নয়।”

আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “ব্যারিস্টার সুমনের অসমাপ্ত কাজের কথা বলে ভোট চাইছেন তাহেরী। কিন্তু তিনি নিজে কী পরিকল্পনা নিয়ে এসেছেন, সেটার স্পষ্ট কোনো রূপরেখা এখনো দেননি।”

এদিকে আইন ও বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, একজন সংসদ সদস্য চাইলেই কাউকে ‘জেল থেকে বের করে আনা’ সম্ভব—এমন বক্তব্য আইনগতভাবে বিভ্রান্তিকর এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন।

স্থানীয় রাজনীতিবিদদের মতে, ভোটের মাঠে উন্নয়ন পরিকল্পনা, কর্মসূচি ও বাস্তব সক্ষমতার বদলে আবেগ, মিষ্টি কথা ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের নাম ব্যবহার করে ভোট চাইলে তা দীর্ঘমেয়াদে গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।

সব মিলিয়ে, হবিগঞ্জ-৪ আসনে ব্যারিস্টার সুমনের জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করে তাহেরীর নির্বাচনী প্রচারণা ভোটারদের মধ্যে যেমন কৌতূহল তৈরি করেছে, তেমনি প্রশ্নও তুলেছে—এটি কি সত্যিকারের নেতৃত্ব, নাকি আবেগের ওপর ভর করে এমপি হওয়ার একটি কৌশল মাত্র?

স্থানীয় সচেতন ভোটারদের দাবি, আবেগ নয়—বাস্তবতা, যোগ্যতা ও পরিষ্কার পরিকল্পনার ভিত্তিতেই ভোটের রায় হওয়া উচিত।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাইয়ে ১ম শ্রেণির ৬ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, গণধোলাইয়ের পর বখাটে পুলিশে সোপর্দ

ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ

ব্যারিস্টার সুমনের আবেগ বিক্রি করে এমপি হতে চাইছেন তাহেরী

আপডেট সময় ০৯:৫২:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনে নির্বাচনী পরিবেশ ক্রমেই উত্তপ্ত ও বিতর্কিত হয়ে উঠছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আলোচিত প্রার্থী আল্লামা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন তাহেরী ভোটারদের আবেগকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে তাহেরীর একাধিক নির্বাচনী সভা ও প্রচারণায় ব্যারিস্টার সুমনের নাম বারবার উচ্চারিত হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রচারণাকালে তাহেরীকে বলতে শোনা গেছে—“ব্যারিস্টার সুমন আমার বন্ধু”, “এলাকার যেসব কাজ ব্যারিস্টার সুমন শেষ করতে পারেননি, আমি এমপি হলে সেগুলো সম্পন্ন করব”, এমনকি “আমি এমপি হলে আমার বন্ধু ব্যারিস্টার সুমনকে জেল থেকে বের করে আনব”—এমন বক্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যারিস্টার সুমন এই আসনের ভোটারদের কাছে একটি আবেগের নাম। তার জনপ্রিয়তা ও অতীত ভূমিকা ব্যবহার করে ভোটারদের মন জয় করার এই কৌশলকে তারা ‘আবেগ বিক্রির রাজনীতি’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভোটার বলেন, “ব্যারিস্টার সুমনের সঙ্গে ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব থাকতেই পারে, কিন্তু সেটাকে ভোট চাইবার প্রধান হাতিয়ার বানানো রাজনৈতিকভাবে সৎ নয়। মানুষ কাজ চায়, আবেগ নয়।”

আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “ব্যারিস্টার সুমনের অসমাপ্ত কাজের কথা বলে ভোট চাইছেন তাহেরী। কিন্তু তিনি নিজে কী পরিকল্পনা নিয়ে এসেছেন, সেটার স্পষ্ট কোনো রূপরেখা এখনো দেননি।”

এদিকে আইন ও বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, একজন সংসদ সদস্য চাইলেই কাউকে ‘জেল থেকে বের করে আনা’ সম্ভব—এমন বক্তব্য আইনগতভাবে বিভ্রান্তিকর এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন।

স্থানীয় রাজনীতিবিদদের মতে, ভোটের মাঠে উন্নয়ন পরিকল্পনা, কর্মসূচি ও বাস্তব সক্ষমতার বদলে আবেগ, মিষ্টি কথা ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের নাম ব্যবহার করে ভোট চাইলে তা দীর্ঘমেয়াদে গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।

সব মিলিয়ে, হবিগঞ্জ-৪ আসনে ব্যারিস্টার সুমনের জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করে তাহেরীর নির্বাচনী প্রচারণা ভোটারদের মধ্যে যেমন কৌতূহল তৈরি করেছে, তেমনি প্রশ্নও তুলেছে—এটি কি সত্যিকারের নেতৃত্ব, নাকি আবেগের ওপর ভর করে এমপি হওয়ার একটি কৌশল মাত্র?

স্থানীয় সচেতন ভোটারদের দাবি, আবেগ নয়—বাস্তবতা, যোগ্যতা ও পরিষ্কার পরিকল্পনার ভিত্তিতেই ভোটের রায় হওয়া উচিত।